ঢাকা মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

একের পর এক শিশু নিখোঁজ ও হত্যা

নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা
একের পর এক শিশু নিখোঁজ ও হত্যা

দেশে একের পর এক শিশু নিখোঁজ ও হত্যার ঘটনায় অভিভাবকদের উদ্বেগ বাড়ছে। চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে ১৫ হাজার ৭১৭ শিশু নিখোঁজ হওয়ার তথ্য দিয়েছে পুলিশ। তাদের মধ্যে ১৩ হাজার ৬৭৯ জনকে উদ্ধার করা হলেও এখনও নিখোঁজ রয়েছে ২ হাজার ৩৮ শিশু। একই সময়ে আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) তথ্য অনুযায়ী, গত আট মাসে অন্তত ৩৬ শিশুর লাশ উদ্ধার হয়েছে। সাম্প্রতিক কয়েকটি আলোচিত ঘটনায় শিশুদের অপহরণ, ধর্ষণ ও হত্যার নির্মম চিত্র সামনে আসায় শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষজ্ঞরা মুন এলার্ট ব্যবস্থা আরও কার্যকর করা, শিশু পাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান এবং অভিভাবকদের সচেতনতা বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছেন। তবে এসব ঘটনা প্রতিরোধে শিশু পাচারকারীদের প্রতি কড়া নজরদারি এবং অভিভাবকদের সচেতনতা বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন সমাজ ও অপরাধ বিজ্ঞানীরা।

শুধু নিখোঁজের পর লাশ উদ্ধার নয়, চলতি বছরে ধর্ষণের পর হত্যা, শারীরিক নির্যাতনে মৃত্যু এবং পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে হত্যার শিকার হয়েছে শিশুরা। এসব হত্যাকাণ্ডের কোনো কোনো ঘটনায় অভিযোগের আঙুল উঠেছে পরিচিত ব্যক্তি বা স্বজনের দিকে।

বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে আসক আরও বলছে, জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত আট মাসে ১৫৫ শিশুর মৃত্যুর তথ্য পেয়েছেন তারা। যেগুলো হত্যা, ধর্ষণ, নির্যাতনের পর মৃত্যুর ঘটনা। এর মধ্যে শারীরিক নির্যাতনে ৬৮, পারিবারিক পরিসরে নির্যাতনে ৪৯, ধর্ষণের পর হত্যায় ২৬, ধর্ষণচেষ্টার পর হত্যায় চার, গুলিতে তিন, গৃহকর্মীকে শারীরিক নির্যাতনে দুই, উত্ত্যক্তকারীর হাতে দুই এবং অপহরণের পর হত্যার শিকার হয়েছে এক শিশু। এছাড়াও আত্মহত্যা, রহস্যজনক মৃত্যু ও লাশ উদ্ধারের মতো ৯৯টি ঘটনার তথ্যও দিয়েছে আসক।

এখনও নিখোঁজ ২ হাজার শিশু : সম্প্রতি চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত দেশে ১৫ হাজারের বেশি শিশু নিখোঁজ হওয়ার খবর প্রকাশিত হয়েছে। এরপর বিষয়টির ব্যাপারে বিবৃতি দেয় পুলিশ সদর দপ্তর। গত ৩ সেপ্টেম্বর পুলিশ সদর দপ্তর জানায়, চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে দেশে ১৫ হাজার ৭১৭ শিশু নিখোঁজ হলেও ৮৭ শতাংশের বেশি শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া শিশুর সংখ্যা ১৩ হাজার ৬৭৯। সেই হিসাবে এখনও নিখোঁজ রয়েছে ২ হাজার ৩৮ শিশু, যা মোট নিখোঁজ শিশুর প্রায় ১৩ শতাংশ।

পাবনায় তৃতীয় শ্রেণির শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা : সম্প্রতি পাবনায় তৃতীয় শ্রেণির স্কুলছাত্রী কামরুন্নাহার কলিকে (১০) ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনা দেশজুড়ে আলোড়ন তুলেছে। কলিও নিখোঁজ ছিল। গত ৯ সেপ্টেম্বর বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হওয়ার পর ১৬ সেপ্টেম্বর তার লাশ একটি ডোবা থেকে উদ্ধার করে। সেই এলাকায় লোকজন এতটাই ক্ষিপ্ত ছিল যে, তারা ধর্ষকের বাড়ি ঘেরাও করে তাকে পুলিশের হাতে সোপর্দ করে তার প্রধান অভিযুক্ত প্রতিবেশী মোস্তফা প্রামাণিকের বাড়ি ব্যাপক ভাঙচুর করেছে উত্তেজিত জনতা। পাবনা সদর উপজেলার দোগাছী ইউনিয়নের কুলুনিয়া গ্রামের বাসিন্দারা একত্রিত হয়ে এ ঘটনা ঘটায়। বিষয়টিকে বিচারহীনতার সংস্কৃতির দায় বলছেন কেউ কেউ। এ ঘটনায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

আইফোনের জন্য প্রাণ গেল শিশু অপ্রতিমের : সর্বশেষ কুমিল্লায় ১৩ বছরের শিশু ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের নিখোঁজের পর লাশ উদ্ধারের ঘটনা নাড়া দিয়েছে পুরো দেশকে। অঝোরে কাঁদিয়েছে সবাইকে। কিন্তু এরপরও থেমে নেই শিশু নিখোঁজ ও হত্যার মতো ঘটনা। শুধুমাত্র আইফোনের জন্য শিশু অপ্রতিমকে হত্যা করে তারই বন্ধুরা। যাদের বয়স ১৫-১৯ বছর। গত শুক্রবার বিকালে কুমিল্লা কোটবাড়ি এলাকার বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয় অপ্রতিম।

মায়ের আইফোন নিয়ে ছবি তুলতে গিয়ে আর বাসায় ফেরেনি। পরে তার বাবা ফিরোজ শাহরিয়ার সদর দক্ষিণ মডেল থানায় একটি নিখোঁজের জিডি করেন। নিখোঁজের পরদিন শনিবার কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ গেটের পাশে লালমাই পাহাড়ঘেঁষা সানন্দা গ্রামের ঝোপ থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। অপ্রতিম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান।

এক সপ্তাহেও খোঁজ মেলেনি শিশু আব্দুল্লাহর : গত এক সপ্তাহ আগে রাজধানীর হাজারীবাগের ঝাউচর এলাকার একটি বাসা থেকে বের হয়ে গিয়েছে শিশু আব্দুল্লাহ। এরপর থেকে তার আর কোনো খোঁজ মিলছে না। পরিবার শিশুটির দাদাবাড়ি ও আত্মীয়স্বজনের বাড়িতেও খোঁজ করেছেন কিন্তু তাকে কোথাও পাচ্ছেন না তারা। পরে বিষয়টি থানা পুলিশকে জানিয়েছেন। তারা এখন শিশুটিকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন। এ বিষয়ে হাজারীবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোশাররফ হোসেন বলেন, 'শিশুটি এর আগেও দুইবার হারিয়েছিল। দুইবারই তাকে খুঁজে তার পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়। সে দুইবারই রাগ করে মুন্সিগঞ্জে তার দাদার বাড়িতে চলে গিয়েছিল। কিন্তু এবার সে সেখানে যায়নি। তার সর্বশেষ অবস্থান ছিল হাজারীবাগের লেগুনাস্ট্যান্ডে। সেখানে যাওয়ার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পাওয়া যাচ্ছে এরপর থেকে তার আর কোনো খোঁজ নেই। আমরা ধারণা সে সেখান থেকে লেগুনায় উঠেছে। কিন্তু এরপর কোথায় গেছে তা জানা যাচ্ছে না।' গত শনিবার বিকাল থেকে নিখোঁজ ১২ বছরের শিশু নাঈম। ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র সে। পরিবারের সঙ্গে রাজধানীর কুড়িল এলাকা থাকে। সেদিন বিকালে বাসা থেকে বের হয়ে আর ফেরেনি। এরপর বাবা বাবুল ইসলাম রিন্টুসহ সবাই বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে বিষয়টি থানা পুলিশ ও এসআরবিকে জানিয়েছেন। কিন্তু রোববার রাত দশটা বাজলেও সেই শিশুর খোঁজ মেলেনি। নিখোঁজ শিশু নাঈমের চাচা গোলাম হোসাইন বলেন, তারা দুই ভাই। একজনের বয়স ১২ আরেকজনের ৬ বছর। সে তার ভাইয়ের সঙ্গে একটু অভিমান করেছিল। কিন্তু সেটা বাসা থেকে বের হয়ে যাওয়ার মতো নয়। আমরা তাকে বিভিন্ন জায়গায় খুঁজেছি। সে বাসা থেকে বের হয়ে যাওয়ার সময় তার সঙ্গে একটা ফোন ছিল। সেটার বিষয়ে পুলিশকে জানানোর পর ফোনের সর্বশেষ অবস্থান পাওয়া গেছে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন এলাকায়। কিন্তু সেখান থেকে তাকে আর ফোনের লোকেশন পাওয়া যাচ্ছে না।

নিখোঁজ শিশুকে খুঁজতে গিয়ে প্রতারণারও শিকার পরিবারটি : শিশু নাঈমকে খুঁজতে গিয়ে প্রতারণার শিকার হয়েছেন এই পরিবারটি। নাঈমের চাচা গোলাম হোসাইন জানান, শনিবার সন্ধ্যার দিকে হঠাৎ একটি কল আসে। কলের অপরপ্রান্ত থেকে বলা হয় তিনি ভৈরব থানার এসআই। এরপর জানানো হয়, নাঈমকে তারা পেয়েছেন। তবে সে ট্রেনের ধাক্কায় আহত হয়েছে। তাকে এখন হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে। এজন্য তাদেরকে দ্রুত সেখানে যেতে হবে। তার আগে চিকিৎসা ও ওষুধ কেনার জন্য কিছু টাকা পয়সা দরকার। তা তাদেরকে ফোনে পাঠাতে হবে। সেই ব্যক্তির সরল কথায় বিশ্বাস করে নাঈমের পরিবার সেই ব্যক্তির দেওয়া বিকাশ নম্বরে ১২ হাজার টাকা পাঠিয়ে দেন। তার আগে তারা ডিবির কাছে সেই নম্বরটি দিয়ে জানতে চেয়েছিলেন সেই ব্যক্তি আসলে পুলিশ কিনা। তখন তারা জানিয়েছিল তিনি ভৈরব থানার পুলিশ সদস্য। কিন্তু যখন প্রতারিত হন তখন আবারও নম্বরটি যাচাইয়ের জন্য তাদের দিলে তারা জানায়, সেই ব্যক্তি একজন প্রতারক। এরপর থেকে নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।

ধর্ষণের পর সহপাঠীর বাড়িতে মাটিচাপা : গত ১০ সেপ্টেম্বর জামালপুরের মাদারগঞ্জের বাসা থেকে বের হয়ে বিদ্যালয় যায় সাত বছরের এক শিশু। এরপর সে আর বাড়িতে ফেরেনি। পরে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজির পর ১২ সেপ্টেম্বর তারই সহপাঠীর বাড়ির মেঝেতে মাটিচাপা অবস্থায় তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে পুলিশ জানায়, শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছিল। আর এই ঘটনা আড়াল করতেই জড়িতরা তাকে মাটিচাপা দেয়। এ ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শিশুটির নিখোঁজের পর আব্বাস নামে এক স্বজন সামাজিক মাধ্যমে স্ট্যাটাসে জানিয়েছেন, গত রোববার (এক সপ্তাহ আগে) আসরের নামাজের সময় হয়েছিল। ওযু করে হাসিমুখে বলল, 'আম্মু/আব্বু, আমি নামাজ পড়তে যাচ্ছি।' আমরা ভাবতেও পারিনি, মাসুম বাচ্চার সেই শেষ বাক্যটাই আমাদের জীবনের সবচেয়ে বড় আঁধার নেমে আনবে! সন্তান বাড়ি থেকে বের হলো, কিন্তু আর ফিরে এলো না...।

ঢাকার হাজারীবাগ ঝাউচর এলাকার চারপাশ, আত্মীয়স্বজনের বাড়ি, হাসপাতাল-এমন কোনো জায়গা নেই যেখানে আমরা ওকে খুঁজিনি। কিন্তু আমাদের বুক খালি করে আমাদের ফুটফুটে বাবাটা হারিয়ে গেছে! একমুহূর্ত না দেখে যাকে থাকতে পারতাম না, সেই সন্তান ছাড়া পুরো পরিবার আজ পাগল প্রায়। প্রতিটা মুহূর্ত কাটছে চোখের পানিতে, আর এক বুক হাহাকার নিয়ে!

সম্প্রতি ফেসবুকের মুন এলার্টের মাধ্যমে অনেক শিশুকে খুঁজে পাওয়া সম্ভব হয়েছে। এই ব্যবস্থাকে আরও গতিশীল করার পরামর্শ দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ও অপরাধ বিশ্লেষক ড. তৌহিদুল হক। তিনি বলেন, মুন এলার্ট ব্যবহার করে নিখোঁজ হওয়া শিশুদের খুঁজে বের করার জন্য যে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী চেষ্টা করেছেন এই মুন এলার্ট ব্যবস্থা ব্যবস্থাকে আরও গতিশীল করা। আরও কার্যকরীভাবে প্রয়োগের ক্ষেত্রে যে সিদ্ধান্ত বা কাঠামোগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা দরকার অনুশীলন বা প্রয়োগের ক্ষেত্রে সেই ব্যাপারে চিন্তা সেই ব্যাপারে উদ্যোগ গ্রহণ করা। আর অভিভাবকদের ক্ষেত্রে আমরা দেখি যে আসলে যথাযথ বা কার্যকরী অভিভাবক সুলভ যে বৈশিষ্ট্য বা আচরণ সেটারও কোনো কোনো জায়গাতে অনুপস্থিতি আছে। তার এই অনুপস্থিতিগুলো শিশুদেরকে অনেক বেশি বিপদের দিকে ঠেলে দেয় বা শিশুদের ঘরে কিংবা ঘরের বাইরে তার এক ধরনের অসাধ্য তৈরি করে। ভুল মানুষের সঙ্গে তার সংযোগ তৈরি হয় কিংবা বিপজ্জনক পরিবেশে সে নিজেকে উপনীত করে ফেলে। সেই ধরনের অবস্থা থেকে অভিভাবকরা সবসময় শিশুকে সঠিক ধারায় নিজ নিজ সন্তানকে সঠিক ধারায় পরিচালিত করার ক্ষেত্র তৈরি করবেন। তিনি আরও বলেন, প্রয়োজনে তাদের সঙ্গে কাউন্সিলে তাদের কাউন্সেলিং করবেন। সঠিক এবং একটি সমাজ কাঙ্ক্ষিত ধারায় পরিচালিত করার উদ্যোগ গ্রহণ করবেন এবং অন্য শিশু যাতে একজন অভিভাবকের কাছে প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির কাছে নিরাপদ থাকে। এই দৃষ্টিভঙ্গিকে মানসিকতাও ধারণ করা প্রয়োজন। এই বিষয়গুলো উঠে গ্রহণ করতে পারলে শিশু নিখোঁজ বা শিশু অপহরণের যে ঘটনাগুলো ঘটছে সেখান থেকে শিশুকে হত্যা করা বিক্রি করে দেওয়া বা শিশুকেন্দ্রিক যে সহিংসতা বা নির্যাতনের ঘটনাগুলোর পরিসংখ্যান আমরা দেখছি এটা অনেকাংশই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব কিংবা বাংলাদেশের বাস্তবতা হয়তো একেবারে শূন্যের কোঠায় নামানো কঠিন হবে। কিন্তু এটাকে অনেকটাই নিয়ন্ত্রণযোগ্য পরিসংখ্যানে পরিণত করা যাবে।

পুলিশ সদর দপ্তর যা বলছে : পুলিশ সদর দপ্তরের মিডিয়া বিভাগের এ আইজি শাহাদাত হোসেন বলেন, এসব কথা আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নাই। পুলিশ প্রতিটি ঘটনায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করে দোষীদের খুঁজে বের করে বিচারের আওতায় এনেছে। এরকম ঘটনা ঘটলে পুলিশ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। যেভাবে শিশু নিখোঁজো হত্যার পরিসংখ্যান তুলে ধরা হচ্ছে বিষয়টা এতটা আতঙ্কের নয়। এজন্য তিনি সবাইকে গুজবে কান না দিয়ে সঠিক তথ্য জানতে এবং থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।

শিশুর সুরক্ষা ও জবাবদিহি নিশ্চিতের তাগিদ ইউনিসেফের : বাংলাদেশে শিশুদের ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়েছে জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ। সংস্থাটি গত ২২ মে একটি বিবৃতি দেয়। তাতে সংস্থাটির তৎকালীন বাংলাদেশ প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স এসব ঘটনায় দায়মুক্তির অবসানের আহ্বান জানান। বিবৃতিতে তারা, ঘর, প্রতিষ্ঠান ও সমাজের প্রতিটি পরিসরে শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব করেন। একই সঙ্গে অভিযোগ জানানোর কার্যকর ব্যবস্থা, শিশুবান্ধব পুলিশ ও বিচারপ্রক্রিয়া, স্থানীয় পর্যায়ে সুরক্ষা সেবা এবং মানসিক-সামাজিক সহায়তার ঘাটতি দূর করার কথা বলা হয়। স্কুল, মাদ্রাসা ও কর্মক্ষেত্রেও জবাবদিহি বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছে সংস্থাটি।

অপরাধ বিজ্ঞানীরা যা বলছেন : এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ও অপরাধ বিশ্লেষক ড. তৌহিদুল হক বলেন, সম্প্রতি সম্প্রতি নিখোঁজ এবং শিশু হত্যার যে চিত্র এবং পরিসংখ্যান দেখছি এটি আমাদেরকে আতঙ্কিত করছে যে আমাদের সমাজে শিশুরা নিরাপদ নয়। শিশু ঘরে আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে আমরা দেখছি শিশু তার নিজ অভিভাবকের কাছেও নিরাপদ নয়।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত