ঢাকা শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

অধিকার প্রতিষ্ঠায় আর যেন রাজপথে রক্ত দিতে না হয়

বললেন ডেপুটি স্পিকার
অধিকার প্রতিষ্ঠায় আর যেন রাজপথে রক্ত দিতে না হয়

মেধার মূল্যায়ন ও প্রত্যেক নাগরিকের অধিকার নিশ্চিত করার মতো বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। তিনি বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে যেন অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আর রাজপথে নেমে জীবন দিতে না হয়, সেই রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মাহমুদ-উল আমীন অডিটরিয়ামে প্রাণিবিদ্যা বিভাগের নবীনবরণ-২০২৬ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন আন্দোলনে ভূমিকার কথা তুলে ধরে কায়সার কামাল বলেন, ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থান ও স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন থেকে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক আন্দোলনে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকেরা সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন। গবেষণা ও শিক্ষার পাশাপাশি দেশের প্রয়োজনে তারা রাজপথেও নেমেছেন। তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর বাংলাদেশে বারবার গণতন্ত্র হোঁচট খেয়েছে, ব্যবস্থাকে বারবার ভেঙে দেওয়া হয়েছে। সে কারণেই বলছি, এনাফ ইজ এনাফ। আমরা ভবিষ্যতে আর রাজপথে গিয়ে বুলেটকে আলিঙ্গন করতে চাই না। আমরা এমন একটি দেশ চাই, যেখানে মেধার মূল্যায়ন হবে, প্রত্যেকের অধিকার সুপ্রতিষ্ঠিত হবে।

সাম্প্রতিক রাজনৈতিক আন্দোলন বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিসরকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করেছে দাবি করে ডেপুটি স্পিকার বলেন, ওই আন্দোলন কোনো একজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে নয়, একটি ব্যবস্থার বিরুদ্ধে ছিল। অতীতে মেধার পরিবর্তে দলীয় পরিচয় প্রাধান্য পাওয়া এবং যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও প্রভাব ও দলীয়করণের কারণে সুযোগবঞ্চিত হওয়ার অভিযোগও করেন তিনি।

নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে কায়সার কামাল বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া প্রত্যেক শিক্ষার্থী একটি স্বপ্ন নিয়ে আসে। কেউ দরিদ্র বা নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবার থেকে, কেউ কৃষক, শিক্ষক, চিকিৎসক কিংবা প্রকৌশলীর পরিবার থেকে আসে। শিক্ষার্থীরা নিজেদের স্বপ্নের পাশাপাশি পরিবারের স্বপ্নও বহন করে। রাষ্ট্রকে সেই স্বপ্ন বিকাশের সুযোগ তৈরি করতে হবে।

নিজের ছাত্রজীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, আমি নিজে কৃষক পরিবারের সন্তান। আমার বাবার অনেক প্রত্যাশা ছিল আমাকে নিয়ে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে যুক্ত হওয়ার কারণে ছাত্রজীবনে প্রত্যাশামতো পড়াশোনা করতে পারেননি বলেও জানান তিনি।

মুহসীন হলে থাকার সময় দেয়ালে লেখা 'মানুষ তার আশার সমান বড় হয়' বাক্যটি নিজের জীবনে গভীর প্রভাব ফেলেছিল উল্লেখ করে কায়সার কামাল বলেন, নেত্রকোনার গারো পাহাড়ের পাদদেশের একটি এলাকা থেকে আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে এসেছিলাম। আমাদের চোখের সামনে কোনো সীমানা রাখা যাবে না। আপনারা প্রত্যেকেই মেধাবী। কিন্তু সেই মেধার বিকাশের জন্য নিয়মিত অনুশীলন ও চর্চা প্রয়োজন। আমরা কেউ জানি না, ভবিষ্যতে কে কোথায় পৌঁছাব।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে মেধা বিকাশের 'চারণক্ষেত্র' উল্লেখ করে তিনি শিক্ষার্থীদের গতানুগতিক চিন্তার বাইরে গিয়ে নতুন কিছু করার চেষ্টা করার আহ্বান জানান। নবীনবরণ শুধু ফুল দিয়ে শিক্ষার্থীদের বরণ করার অনুষ্ঠান নয় মন্তব্য করে ডেপুটি স্পিকার বলেন, এর মধ্য দিয়ে তাদের কাঁধে বাড়তি দায়িত্বও তুলে দেওয়া হচ্ছে। সেই দায়িত্ব প্রথমে নিজের প্রতি, এরপর পরিবার, সমাজ এবং শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রের প্রতি। বিসিএস ও সরকারি চাকরির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থীর কাছে বিসিএস একটি স্বপ্ন। তবে কর্মজীবনে ভালো অবস্থানে যাওয়ার পর যেন দেশের প্রতি দায়িত্ববোধ হারিয়ে না যায়।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত