
ঢাকার মিরপুরে উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে পুলিশ ও সিটি কর্পোরেশনের কর্মীদের সঙ্গে হকারদের সংঘর্ষে জড়ানোর ঘটনায় দুই থানায় চারটি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় এখন পর্যন্ত ২৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার হাসান মোহাম্মাদ নাছের রিকাবদার।
এর মধ্যে মিরপুর মডেল থানায় তিনটি মামলা হয়েছে, যার মধ্যে দুটির বাদী পুলিশ এবং একটি করেছে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি)। এসব মামলায় মোট ১৭ জনের নামসহ প্রতিটিতে নাম না জানা ৪০০ থেকে ৫০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলাগুলোতে পুলিশের ওপর হামলা, সরকারি কাজে বাধা, পুলিশের গাড়ি ও ট্রাফিক পুলিশ বক্স ভাঙচুর, সিটি কর্পোরেশনের গাড়িতে অগ্নিসংযোগ এবং সরকারি সম্পত্তির ক্ষতিসহ বিভিন্ন অভিযোগ আনা হয়েছে।
আর গাড়ি পোড়ানোর ঘটনায় কাফরুল থানায় করা মামলাটির বাদী ডিএনসিসি; এ মামলাতেও নাম না জানা ৪০০ থেকে ৫০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
উপকমিশনার হাসান মোহাম্মাদ নাছের রিকাবদার বলেন, "আমার এখন পর্যন্ত প্রায় ২৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছি, আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। কাল অনেককে আটক করা হয়েছে, আজ সকালেও কয়েকজনকে আটক করা হয়।" আটকের পর যাচাই-বাছাই শেষে তাদেরকে গ্রেপ্তার দেখানো হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
পুলিশ বলছে, ঘটনার সময়ের ভিডিও, ছবি এবং অন্যান্য তথ্য যাচাই করে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগে জড়িতদের শনাক্ত করা হচ্ছে।
গত বুধবার সকালে মিরপুরে ফুটপাতের অবৈধ দখল উচ্ছেদে অভিযান শুরু করে ডিএনসিসি। মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর থেকে হোপ মার্কেটের দিকে যাওয়া সড়কে এ অভিযান চালানো হয়। এর মধ্যে বায়তুল কুদ্দুস জামে মসজিদ মার্কেটের নিচের দোকান সরানোর সময় ভেকুর আঘাতে বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে আগুন ধরে যায়।
আগুন লাগার পর পুলিশ ও সিটি করপোরেশনের কর্মীদের সঙ্গে হকারদের সংঘর্ষ বেধে যায়। একদিক থেকে হকাররা ইটপাটকেল ছুড়তে থাকে। অন্যদিকে কাঁদুনে গ্যাস নিক্ষেপ করে পুলিশ। সংঘর্ষের সময় তিনটি ময়লার গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। পুলিশের গাড়ি, ভেকু ও কয়েকটি বাসে ভাঙচুরও চলে। সাংবাদিকদের ওপরও হামলার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় পুলিশ সদস্যসহ বেশ কয়েকজন আহত হন। এদিকে ঘটনার পর ডিএনসিসির প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন বলেছেন, তাদের এই উচ্ছেদ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
মিরপুরে উচ্ছেদে ভাঙচুর-আগুন : চার মামলায় আসামি ১০০০ : রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বর এলাকায় ফুটপাত উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় চারটি মামলা হয়েছে। এরমধ্যে মিরপুর মডেল থানায় তিনটি ও কাফরুল থানায় পৃথক একটি মামলা রুজু হয়েছে। মামলায় মোট আসামি করা হয়েছে প্রায় এক হাজার জনকে।
এ বিষয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার মিরপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হাফিজুর রহমান জানান, মিরপুর থানায় সিটি করপোরেশন বাদী হয়ে গাড়ি পোড়ানোর মামলা, পুলিশ বাদী হয়ে পুলিশের ওপর হামলার মামলা এবং ট্রাফিক পুলিশ বাদী হয়ে আরেকটি মামলা রুজু করেছে। তিন মামলায় আসামির সংখ্যা ৪০০ থেকে ৫০০ জন। এ দিকে এ বিষয়ে কাফরুল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, সিটি কর্পোরেশন গাড়ি পোড়ানোর অভিযোগে সিটি কর্পোরেশন বাদী হয়ে থানায় একটি এজাহার দায়ের করেছেন। সেখানে ৪০০-৫০০ জনকে অজ্ঞাতপরিচয় হিসেবে আসামি করা হয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তার অভিযান চলছে। গত বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর থেকে হোপ মার্কেটের দিকে ফুটপাতের অবৈধ দখল উচ্ছেদে অভিযান শুরু করে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি)। ডিএনসিসির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মারুফা বেগম নেলীর নেতৃত্বে এ অভিযান চলছিল। অভিযানের এক পর্যায়ে হোপ মার্কেটসংলগ্ন বায়তুল কুদ্দুস জামে মসজিদ মার্কেটের নিচে থাকা ভাসমান দোকান সরাতে গিয়ে ভেকুর আঘাতে বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে আগুন ধরে যায় বলে স্থানীয় দোকানি ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। আগুনে মার্কেটের পাঁচটি দোকান পুড়ে যায়। ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ১৫ থেকে ২০ মিনিট চেষ্টা করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। আগুন লাগার পর ক্ষুব্ধ হকার ও দোকানিরা সিটি কর্পোরেশনের কর্মীদের ওপর হামলা চালালে সংঘর্ষ শুরু হয়।