
২৩ বছর ধরে চট্টগ্রাম বন্দরে পড়ে থাকা বিপজ্জনক ও মেয়াদোত্তীর্ণ রাসায়নিক পণ্য অপসারণের কাজ শুরু হয়েছে। ২০০৩ সাল থেকে আটকে থাকা ৯টি কনটেইনারের ১৫০ দশমিক ৮৯ মেট্রিক টন রাসায়নিক পরিবেশসম্মত উপায়ে ধ্বংস করার উদ্যোগ নিয়েছে চট্টগ্রাম কাস্টমস। গতকাল শনিবার প্রথম ধাপে ১০৬ টন রাসায়নিক পণ্য নারায়ণগঞ্জের উদ্দেশ্যে পাঠানো হয়েছে।
চট্টগ্রাম কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, এসব কনটেইনারে থাকা রাসায়নিকের মধ্যে রয়েছে ১৩ হাজার ৮০০ কেজি থিনার এবং ৯২ হাজার ৫৪৪ কেজি মিথানল। দীর্ঘদিন বন্দরে পড়ে থাকায় এসব বিপজ্জনক রাসায়নিক বন্দরের নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করছিল।
চট্টগ্রামে এ ধরনের জটিল রাসায়নিক ধ্বংস করার প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও পরিবেশগত সুবিধা না থাকায় এগুলো নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে ওয়াটা কেমিক্যালস লিমিটেডের কারখানায় পাঠানো হচ্ছে। সেখানে আজ রোববার থেকে বৈজ্ঞানিক ও নিরাপদ পদ্ধতিতে রাসায়নিকগুলো ধ্বংস করার প্রক্রিয়া শুরুর কথা রয়েছে। বাংলাদেশ জাতীয় কর্তৃপক্ষ, রাসায়নিক অস্ত্র কনভেনশন (বিএনএসিডব্লিউসি)-এর সুপারিশের ভিত্তিতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা কনটেইনার সরিয়ে বন্দরের কনটেইনার জট কমানো এ উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য।
চট্টগ্রাম কাস্টমসের সহকারী কমিশনার মো. রাসেল আহমেদ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বন্দরে পড়ে থাকা বিপজ্জনক ও মেয়াদোত্তীর্ণ রাসায়নিক অপসারণের মাধ্যমে নিরাপত্তাঝুঁকি কমবে। পাশাপাশি বন্দরের জায়গা ব্যবহারের সুযোগ বাড়বে। গত ২২ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম কাস্টমসের সভার সিদ্ধান্ত মতে গতকাল এসব বিপজ্জনক পণ্য নারায়নগঞ্জে পাঠানো হয়েছে।