ঢাকা মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

নারীর শুধু উপস্থিতি নয়, প্রয়োজন কার্যকর অংশগ্রহণ

বললেন সিইসি
নারীর শুধু উপস্থিতি নয়, প্রয়োজন কার্যকর অংশগ্রহণ

নির্বাচনে নারীদের নিছক সংখ্যাগত অংশগ্রহণের চেয়ে তাদের 'কার্যকর অংশগ্রহণ' নিশ্চিত করাকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন। তিনি বলেন, শুধু ভোটার হিসেবে লাইনে দাঁড়ানোই যথেষ্ট নয়, সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় তাদের সত্যিকারের উপস্থিতি ও প্রভাব থাকতে হবে। উদাহরণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, ঠাকুরগাঁও-১ আসনের মতো বহু নির্বাচনী এলাকায় পুরুষের চেয়ে নারী ভোটারের সংখ্যা বেশি। ফলে রাজনীতি ও নির্বাচনে নারীদের সমান সুযোগ তৈরি করতে তাদের জন্য কার্যকর 'লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড' নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।

গতকাল সোমবার নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে (ইটিআই) ইউএন ইলেকটোরাল প্রজেক্টের উদ্যোগে আয়োজিত জেন্ডার সমতাবিষয়ক এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার জোর দিয়ে বলেন, গণতান্ত্রিক ও নির্বাচনী প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী না করলে কোনো সংস্কারই স্থায়ী রূপ পাবে না। একইসঙ্গে দেশের মানুষের নিজস্ব সংস্কৃতি, মূল্যবোধ ও সামাজিক বিশ্বাসের কথা বিবেচনায় রেখে নারীর ক্ষমতায়ন ও প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিতের কৌশল নির্ধারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রসঙ্গে সিইসি বলেন, এ নির্বাচনে নারী ভোটারের উপস্থিতি ব্যাপক হলেও নারী প্রার্থীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কম থাকবে। এটি আমাদের রাজনৈতিক কাঠামোর একটি বড় বাস্তবতা। আর এই বাস্তবতায় রাতারাতি পরিবর্তন আনা অত্যন্ত কঠিন কাজ। মাঠপর্যায়ে নারী নেতৃত্বের এই অভাব দূর করতে ব্যাপক পরিসরে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার প্রয়োজন রয়েছে। একইসঙ্গে নারী অংশগ্রহণ বৃদ্ধিতে অনুমানভিত্তিক কাজ না করে তথ্যনির্ভর সুনির্দিষ্ট পলিসি বা নীতি প্রণয়ন করতে হবে।

কর্মশালায় নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তা ও জাতিসংঘের প্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। সেখানে উপস্থিত অতিথিরাও সুষ্ঠু ও জেন্ডার-সংবেদনশীল নির্বাচনী পরিবেশ বজায় রাখার ওপর তাগিদ দেন।

'ফাইভ স্টার' হোটেলে বসে কর্মপরিকল্পনা করলে নারীর সমতা আসবে না : অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশনার তাহমিদা আহমদ বলেন, রাজধানীতে বা 'ফাইভ স্টার' (পাঁচ তারকা) হোটেলের বিলাসবহুল কক্ষে বসে শুধু কর্মপরিকল্পনা তৈরি করলে সমাজে নারীর সমতা আসবে না তিনি বলেন, প্রকৃত সমতা ও অগ্রগতি আনতে হলে নারীদের নিয়ে তৃণমূল ও মাঠপর্যায়ে সরাসরি কাজ করতে হবে।

ইসি তাহমিদা বলেন, নারী ভোটার বৃদ্ধি ও তাদের নির্বাচনে সম্পৃক্ত করতে হলে কর্মকর্তাদের গ্রামাঞ্চল ও দূরবর্তী উপকূলীয় অঞ্চল পর্যন্ত পৌঁছানো জরুরি।

কর্মশালায় নির্বাচন কমিশনার মো. আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, আসন্ন নির্বাচনগুলোতে প্রতিটি রাজনৈতিক দল তাদের মোট ভোটারের অনুপাত বিবেচনায় রেখে নারী প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি করবে। তবে কেবল আইন বা বিধিমালা চাপিয়ে দিয়ে এটি সম্ভব নয় বরং সর্বাগ্রে রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ মানসিকতা ও দৃষ্টিভঙ্গিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। রাজনৈতিক দলগুলোতে নারীর অংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপর জোর দেন তিনি।

ইসি আবুল ফজল মোহাম্মদ সানাউল্লাহ বলেন, ভোটার তালিকায় শুধু নারী ভোটারের সংখ্যা বাড়ানোই মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত নয় বরং তাদের প্রকৃত ক্ষমতায়নের পরিধি বিস্তৃত করতে হবে। মূলত ভোটার হিসেবে, প্রার্থী হিসেবে, রাজনৈতিক দলের ভেতরের সিদ্ধান্ত গ্রহণ পর্যায়ে এবং বিভিন্ন বেসরকারি ও উন্নয়নমূলক সংস্থায় তাদের সমান অংশীদারিত্ব তৈরির মাধ্যমে নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা জরুরি। নির্বাচনে নারীর অংশগ্রহণকে সুগম করতে বেশ কিছু ব্যবহারিক পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে ইসি আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, নারী অংশগ্রহণ বাড়াতে হলে প্রথমত ভোটার নিবন্ধন প্রক্রিয়াকে একদম সহজ ও শিক্ষাবান্ধব করতে হবে। সেইসঙ্গে ভোটের মাঠে নারী ভোটার, নারী প্রার্থী এবং নারী অংশীজনদের যথাযথ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে তারা কোনো ধরনের ভয়ভীতি বা হয়রানির শিকার না হন। কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন, নির্বাচন কমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং জাতিসংঘের প্রতিনিধিরা।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত