
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পুরস্কৃত কোরআন হাফেজ ও শিক্ষার্থীদের সম্মানিত করার পাশাপাশি কোরআন শিক্ষা ও চর্চাকে আরও উৎসাহিত করতে সরকার কাজ করবে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে ৪৬তম কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক পবিত্র কোরআন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী প্রতিযোগীগণ রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বঙ্গভবনে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ কথা বলেন। রাষ্ট্রপতির প্রেস উইংয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানায়। রাষ্ট্রপতি বলেন, বিশ্বের ১৩৩টি দেশের প্রতিযোগীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে এমন সাফল্য অর্জন জাতির জন্য অত্যন্ত গর্ব ও আনন্দের বিষয়। তিনি বিজয়ী প্রতিযোগী, তাদের শিক্ষক-উস্তাদ, অভিভাবক এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সকলকে এ বিরল অর্জনের জন্য আন্তরিক অভিনন্দন জানান।
এসময় তিনি ধর্মচর্চা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে সক্রিয় ও সমৃদ্ধ রাখতে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিভিন্ন উদ্যোগের কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, দেশে ধর্মীয় শিক্ষার প্রসার এবং হাফেজ-আলেমদের যথাযথ মর্যাদা নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকারও অঙ্গীকারবদ্ধ। সাক্ষাৎকালে বিজয়ী প্রতিযোগীগণ তাদের অভিভাবক ও শিক্ষক-উস্তাদগণকে বঙ্গভবনে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য রাষ্ট্রপতিকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।
মাদ্রাসা-মক্তবসহ ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মেধাবী শিক্ষার্থী, হাফেজ ও আলেমগণকে সম্মানিত করা হলে মানুষ কোরআন চর্চা ও ধর্মীয় শিক্ষায় আরও উৎসাহ পাবে উল্লেখ করে তাঁরা এ বিষয়ে সরকারকে উদ্যোগ নেওয়ার অনুরোধ করেন। তারা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের জন্য গৌরব বয়ে আনা হাফেজদের যথাযথ সম্মান ও মর্যাদা দেওয়ার দাবি জানান।
রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ ধর্মপ্রাণ এবং অধিকাংশ মানুষ মুসলিম। এ দেশের মানুষ অতীতেও নিজেদের ধর্মীয় মূল্যবোধ রক্ষায় অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছে। নানা পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ আজ নতুন এক অভিযাত্রায় প্রবেশ করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ধর্মীয় শিক্ষার প্রসার ও মানোন্নয়নে সরকার গুরুত্বের সঙ্গে কাজ করে যাবে।
কোরআন শিক্ষা মিশন, বাংলাদেশ-এর চেয়ারম্যান মাওলানা মোঃ বিল্লাল হোসেনের নেতৃত্বে বিজয়ীদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ১৫ পারা হিফজ, তাজবীদ ও সুন্দর তিলাওয়াত বিভাগে প্রথম স্থান অর্জনকারী আর রায়হান ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী হাফেজ মোহাম্মদ জাকারিয়া ও তৃতীয় স্থান অর্জনকারী তানযীমুল উম্মাহ গার্লস হিফয মাদ্রাসার শিক্ষার্থী হাফেজা রাবেতা বিনতে রমজান এবং ৩০ পারা হিফজ, তাজবীদ ও সুন্দর তিলাওয়াত বিভাগে তৃতীয় স্থান অর্জনকারী মারকাযুল মদীনা মাদ্রাসার শিক্ষার্থী দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী হাফেজ শেখ মো: মাহমুদুল হাসান (আশরাফী) ও সাউদা বিনতে জামআ'হ (রা.) আন্তর্জাতিক বালিকা মাদ্রাসার শিক্ষার্থী হাফেজা মুসফিরা বিনতে মাহমুদ। সাক্ষাৎকালে সংশ্লিষ্ট বিজয়ী প্রতিযোগীদের অভিভাবক, উস্তাদ ও কোরআন শিক্ষা মিশন, বাংলাদেশের পরিচালকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
বঙ্গভবনে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি বিজয়ী হাফেজগণকে রাষ্ট্রপতির ক্রেস্ট ও তাদের পরিবারের সদস্য ও উস্তাদদের সৌজন্য উপহার প্রদান করেন। সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সচিবগণ ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মুক্তিযোদ্ধাদের যথাযথ সম্মান ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে হবে : রাষ্ট্রপতি
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস সংরক্ষণ, প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের যথাযথ স্বীকৃতি এবং মর্যাদা নিশ্চিত ও মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহ্য ও গৌরব সমুন্নত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার বঙ্গভবনে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা নঈম জাহাঙ্গীরের নেতৃত্বে ১২ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল সৌজন্য সাক্ষাতে গেলে তিনি এ আহ্বান জানান। রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম বাসস-কে এ তথ্য জানান।
রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশের জন্য মুক্তিযোদ্ধাদের ত্যাগ ও অবদান জাতি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে। তাদের সম্মান ও মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখা এবং প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের যথাযথ তালিকা প্রণয়ন ও স্বীকৃতি নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
তিনি আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সংরক্ষণ ও উপস্থাপনের ক্ষেত্রে সবাইকে দায়িত্বশীল ও সতর্ক থাকতে হবে যাতে কোনো ধরনের বিভ্রান্তি তৈরি না হয়।
তিনি জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক মূল্যবোধ সমুন্নত রাখার আহ্বান জানান। প্রতিনিধিদলের পক্ষ থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের বিভিন্ন দাবি ও কল্যাণসংক্রান্ত বিষয় রাষ্ট্রপতির কাছে তুলে ধরা হয়।
এসময় তারা বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা তৈরি, নিজস্ব বয়ানে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস, আদর্শ ও চেতনাকে বিকৃত এবং রাজনীতিকে দূষিত করার অভিযোগ করেন। একইসঙ্গে তারা মুক্তিযোদ্ধাদের নিজস্ব উদ্যোগে একটি শান্তিপূর্ণ সমাবেশ আয়োজনের কথা বলেন।
রাষ্ট্রপতি তাদের বক্তব্য শোনেন এবং মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণ ও মর্যাদা রক্ষায় উত্থাপিত বিষয়গুলো যথাযথভাবে বিবেচনার আশ্বাস দেন।
সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের যুগ্ম আহ্বায়ক মেজর সৈয়দ মুনিবুর রহমান (অব.), সদস্য-সচিব সাদেক আহমেদ খান, সদস্য-সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ আবুল বাশার, সদস্য-তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক সিরাজুল হক, সদস্য-অর্থ সম্পাদক আলহাজ্ব মো. মনসুর আলী সরকার, সদস্য-কল্যাণ ও সেবা সম্পাদক অনিল বরণ রায়, সদস্য-ব্যবস্থাপনা সম্পাদক আলহাজ্ব মো. নুরুল ইসলাম, সদস্য-ত্রাণ ও পুনর্বাসন সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির, সদস্য-দপ্তর সম্পাদক প্রকৌশলী জাকারিয়া আহমদ, ঢাকা মহানগর ইউনিট কমান্ডের আহ্বায়ক মো. নুরুল বাসার এবং সদস্য-সচিব মিজানুর রহমান খান (বীর প্রতীক)-সহ বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব ও প্রেস সচিব উপস্থিত ছিলেন।