ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩১ আশ্বিন ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

বাংলাদেশে ১৮টি যাত্রীবাহী কোচ পাঠাল ভারত

থাকছে যেসব সুবিধা
বাংলাদেশে ১৮টি যাত্রীবাহী কোচ পাঠাল ভারত

বাংলাদেশ রেলওয়েকে ২০০টি ব্রডগেজ যাত্রীবাহী কোচ সরবরাহের চুক্তির আওতায় প্রথম দফায় ১৮টি কোচ পাঠিয়েছে ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান রাইটস লিমিটেড। এলএইচবি ধরনের এসব কোচ ভারতের পাঞ্জাবের কাপুরথালায় অবস্থিত রেল কোচ কারখানায় তৈরি করা হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটি গত মঙ্গলবার জানিয়েছে, গত সোমবার পাঠানো প্রথম চালানে রয়েছে ১১টি শীতাতপনিয়ন্ত্রণবিহীন শোভন চেয়ার কার, তিনটি শীতাতপনিয়ন্ত্রিত চেয়ার কার, দুটি শীতাতপনিয়ন্ত্রিত স্লিপার কোচ এবং দুটি শীতাতপনিয়ন্ত্রিত পাওয়ার কার। পাওয়ার কারগুলোতে গার্ডের জন্য পৃথক কক্ষ ও মালপত্র রাখার জায়গা রয়েছে।

চুক্তি অনুযায়ী, সাত ধরনের কোচ তৈরি করে বাংলাদেশ রেলওয়েকে সরবরাহ করা হবে। বাংলাদেশের রেল পরিচালনার প্রয়োজন এবং যাত্রীদের ভ্রমণ আরামদায়ক করার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে কোচগুলোর নকশায় বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। এর মধ্যে এমন কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যা এ ধরনের এলএইচবি কোচে প্রথমবারের মতো যুক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে রেল মন্ত্রণালয়।

নতুন কোচগুলোতে বিশেষভাবে নকশা করা হেলানো যায় এমন আসন রাখা হয়েছে। আসনগুলোতে স্টেইনলেস স্টিলের হাতল ও পা রাখার জায়গা রয়েছে। ফলে যাত্রীরা নিজেদের সুবিধামতো বিভিন্ন কোণে আসন হেলিয়ে বসতে পারবেন।

যাত্রীদের সুবিধার জন্য শীতাতপনিয়ন্ত্রিত কোচে পাখা, সমন্বিত সিসিটিভি নজরদারি ব্যবস্থা, জরুরি সংকেত দেওয়ার সুবিধা এবং আংশিক খোলা যায় এমন জানালা যুক্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া শিশুর যত্ন নেওয়ার জন্য পৃথক কক্ষ এবং প্রার্থনার জন্য একটি কক্ষ রাখা হয়েছে। বাংলাদেশের রেল পরিচালনার বাস্তবতা বিবেচনায় কোচগুলোর কাঠামোতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। অতিরিক্ত যাত্রীর চাপ সামলাতে ছাদ আরও মজবুত করা হয়েছে। ব্যস্ত সময়ে কোচের ছাদে মানুষ উঠে ভ্রমণ করলেও যাতে তা বাড়তি ওজন বহন করতে পারে, সেই বিষয়টি নকশায় বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

নতুন কোচগুলোর গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো- সংঘর্ষের সময় যাত্রীদের সুরক্ষা বাড়ানোর উপযোগী কাঠামোগত নকশা। কোচগুলো ইউরোপীয় মানদণ্ড ইএন ১৫২২৭ অনুসরণ করে তৈরি করা হয়েছে। নির্ধারিত নিরাপত্তার মান পূরণে কোচের বাইরের মূল কাঠামোর নকশায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। এতে সংঘর্ষের ধাক্কা সামলানোর সক্ষমতা বাড়বে এবং যাত্রীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে।

বাংলাদেশ রেলওয়ের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কোচগুলোর বিদ্যুৎ ব্যবস্থাতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। ভারতীয় রেলওয়ের প্রচলিত কোচে ৭৫০ ভোল্টের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ব্যবহার করা হলেও বাংলাদেশে সরবরাহের জন্য তৈরি কোচগুলো ৪১৫ ভোল্টের বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় চলার উপযোগী করে নির্মাণ করা হয়েছে।

রেল মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ভারতের রেল কোচ কারখানা ও বাংলাদেশ রেলওয়ের মধ্যে সহযোগিতা শুরু হয় ২০১৫-১৬ অর্থবছরে। সে সময় বাংলাদেশ রেলওয়েকে ১২০টি এলএইচবি ধরনের ব্রডগেজ যাত্রীবাহী কোচ সরবরাহ করা হয়।

আগের সহযোগিতার ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালে রাইটসের মাধ্যমে নতুন করে ২০০টি ব্রডগেজ যাত্রীবাহী কোচের ক্রয়াদেশ দেয় বাংলাদেশ রেলওয়ে।

রাইটস জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি এ পর্যন্ত ২৮০টির বেশি রেল ইঞ্জিন, ১ হাজার ৮৫টির বেশি কোচ এবং একাধিক ডিজেলচালিত ইউনিটের ট্রেনসেট সরবরাহ করেছে। নবরত্ন মর্যাদাপ্রাপ্ত ভারতের এই রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানটি এশিয়া, আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা, দক্ষিণ আমেরিকা ও পশ্চিম এশিয়ার ৫৫টির বেশি দেশে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত