ঢাকা সোমবার, ০৯ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

অতীতে জনগণকে ধোঁকা দেওয়ার হাতিয়ার ছিল পরিসংখ্যান

পরিকল্পনা উপদেষ্টা
অতীতে জনগণকে ধোঁকা দেওয়ার হাতিয়ার ছিল পরিসংখ্যান

অতীতে পরিসংখ্যান জনগণকে ধোঁকা দেওয়ার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে বলে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেছেন, পরিসংখ্যানের মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত সঠিক তথ্য তুলে ধরা। কিন্তু অতীতে মিথ্যা বলার হাতিয়ার হিসেবে পরিসংখ্যানকে ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হয়েছে।

গতকাল রোববার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) কার্যালয়ে জাতীয় পরিসংখ্যান দিবস ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এমন মন্তব্য করেন।

তিতুমীর বলেন, অতীতের সেই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে এসে নির্ভরযোগ্য, গ্রহণযোগ্য, আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ও সহজলভ্য পরিসংখ্যান ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে। পরিসংখ্যানকে শুধু পাঠ্যপুস্তকের একটি বিষয় হিসেবে দেখলে হবে না। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে তথ্য ও অপতথ্যের লড়াই চলছে। এমন পরিস্থিতিতে দেশের পরিসংখ্যান ব্যবস্থাকে নির্ভরযোগ্য করা জরুরি। পরিসংখ্যান ব্যবস্থায় সরকারের তিনটি প্রধান সংস্কার উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রথমত, আন্তর্জাতিক মান অনুসরণ করে বিজ্ঞানভিত্তিক ও মানসম্পন্ন পরিসংখ্যান তৈরি করা। দ্বিতীয়ত, জননীতি প্রণয়ন ও সরকারি সেবা বাস্তবায়নে সঠিক তথ্যের ব্যবহার নিশ্চিত করা। তৃতীয়ত, সাধারণ মানুষ, গবেষক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য পরিসংখ্যান সহজলভ্য করা।

অতীতের পরিসংখ্যানের অসংগতির উদাহরণ তুলে ধরে তিতুমীর বলেন, দেশে একসময় ইঞ্জিনচালিত নৌকার সংখ্যা ১৩ হাজার দেখানো হয়েছিল। অথচ প্রকৃত সংখ্যা ছিল ২ লাখ ৬৭ হাজার। এ ধরনের তথ্যের ব্যবধান থেকেই বোঝা যায়, অতীতে কীভাবে পরিসংখ্যান তৈরি করা হয়েছে। এ অবস্থার পরিবর্তনে তথ্য সংগ্রহ ও যাচাইয়ের ক্ষেত্রে আধুনিক প্রযুক্তি এবং বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতি অনুসরণ করা হচ্ছে।

পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেন, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে প্রকৃত উপকারভোগীরা বাদ পড়েছেন। আবার যাদের সুবিধা পাওয়ার কথা নয়, তারাও বিভিন্ন কর্মসূচির সুবিধা পেয়েছেন। এতে রাষ্ট্রের সীমিত সম্পদের অপচয় হয়েছে। এ ধরনের ভুল কমাতে প্রক্সিমিটি টেস্টসহ বিজ্ঞানভিত্তিক পদ্ধতি অনুসরণ করা হচ্ছে। ফ্যামিলি কার্ডের মতো কর্মসূচিতে প্রকৃত উপকারভোগী চিহ্নিত করাও এর লক্ষ্য।

সরকারি বিভিন্ন সংস্থার তথ্যভান্ডারের মধ্যে সমন্বয় ও তথ্য বিনিময়ের ব্যবস্থা গড়ে তুলতে ডিজিটাল অবকাঠামো তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, পাশাপাশি উন্মুক্ত তথ্যনীতি প্রণয়নের মাধ্যমে গবেষক, বিশ্ববিদ্যালয় ও সাধারণ মানুষের জন্য তথ্য ব্যবহারের সুযোগ তৈরি করা হবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করেই নীতিমালা তৈরি করা হবে।

তিনি আরও বলেন, দেশের তথ্য নিয়ে বিদেশে গবেষণার সুযোগ বাড়লে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গবেষণার মান উন্নত হবে এবং জননীতিতে জবাবদিহিতা বাড়বে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের বিষয়ে অন্যদের দেওয়া ভুল ও অপতথ্যের ওপর নির্ভরশীলতাও কমবে।

পরিসংখ্যান ব্যবস্থার সংস্কারকে কঠিন যাত্রা উল্লেখ করে তিনি বলেন, নির্ভরযোগ্য, গ্রহণযোগ্য, আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ও সহজলভ্য পরিসংখ্যান নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কাজ করছেন। এ উদ্যোগের মাধ্যমে জনগণের কাছে সরকারের জবাবদিহিতা আরও শক্তিশালী হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি জহির উদ্দিন স্বপন এবং পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি।

পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব মো. ফিরোজ সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর মহাপরিচালক মো. শামীমুল হক। পরিসংখ্যান ব্যবস্থা আধুনিকীকরণ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে উপস্থাপনা করেন সংস্থাটির পরিচালক কবির উদ্দিন আহাম্মদ।

আলোচনায় অংশ নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাপ্লাইড স্ট্যাটিসটিকস অ্যান্ড ডাটা সায়েন্স ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক এবং বাংলাদেশ পরিসংখ্যান সমিতির সভাপতি ড. সৈয়দ শাহাদৎ হোসেন ও বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) মহাপরিচালক ড. এ কে এনামুল হক। এ ছাড়া পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত