
বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত বাতাসের শহরগুলোর তালিকায় আজ শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে ঢাকা। এর ফলে কয়েক দিন পর আবারও শীর্ষ অবস্থানে উঠে এলো ঢাকা। গত কয়েকদিন ধরে দূষিত বায়ুর মানে ঢাকার অবস্থান ছিল তালিকার তৃতীয় থেকে পঞ্চম অবস্থানে।
গতকাল সকাল সাড়ে ১০টায় ঢাকার এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (একিউআই) বা বায়ুর মান সূচকে গড় স্কোর ছিল ৩১৬, যা বিপজ্জনক বা ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত। রাজধানী ঢাকার মধ্যে সবচেয়ে দূষিত বায়ুর মান পাওয়া গেছে উত্তরা ১৮ নম্বর সেক্টরের রাজউক উত্তরা অ্যাপার্টমেন্ট প্রজেক্ট এলাকায়, যার স্কোর ৫৭২।
বায়ুর মানের ক্ষেত্রে যা বিপজ্জনক। দূষিত বাতাসের শহরের তালিকায় ২২৩ স্কোর নিয়ে তালিকার দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ভিয়েতনামের রাজধানী হ্যানয়। ২০৭ স্কোর নিয়ে তালিকায় তৃতীয় অবস্থানে নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডু। একই স্কোর নিয়ে চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে ভারতের কলকাতা। ১৯৪ স্কোর নিয়ে তালিকার পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে চীনের হ্যাংজু শহর।
বায়ুদূষণের তালিকায় নিয়মিত প্রথম সারিতে থাকা পাকিস্তানের লাহোর ও ভারতের দিল্লি তালিকায় রয়েছে সপ্তম ও অষ্টম অবস্থানে। লাহোরের স্কোর ১৮৭, দিল্লির স্কোর ১৮০। গত কয়েকদিনের তুলনায় এই দুটি শহরের বায়ুর মান কিছুটা উন্নতি হলেও এখনও বায়ুর মানের ক্ষেত্রে তা অস্বাস্থ্যকর রয়েছে। সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুর মান পর্যবেক্ষণকারী প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আইকিউ এয়ার সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। প্রতিষ্ঠানটি প্রতিনিয়ত দূষিত শহরের তালিকা প্রকাশ করে।
বাতাসের মান নিয়ে তৈরি করা একিউআই সূচকের তথ্য অনুযায়ী বোঝা যায়, একটি নির্দিষ্ট শহরের বায়ু কতটুকু নির্মল বা দূষিত। গতকাল ঢাকার গড় বায়ুর মানের স্কোর ৩১৬ হলেও কিছু এলাকার বায়ুর মান এরচেয়েও শোচনীয় পর্যায়ে। কুর্মিটোলা এলাকার স্কোর ৫২৭, ধানমন্ডির স্কোর ৪৮৭, পুরান ঢাকার বেচারাম দেউড়িতে ৩৫৪, মিরপুরের সাগুফতা হাউজিং এলাকার বায়ুর স্কোর ৩৩৮।
গতকাল ঢাকার বায়ুর মানের প্রেক্ষিতে প্রতিষ্ঠানটি নগরবাসীদের বেশ কয়েকটি পরামর্শ দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বাইরে ব্যায়াম করা থেকে বিরত থাকা, দূষিত বাতাস যেন ঘরে ঢুকতে না পারে তাই জানালা বন্ধ রাখা, বাইরে যেতে হলে সবসময় মাস্ক পরিধান করা। এবং সম্ভব হলে এয়ার পিউরিফায়ার ব্যবহার করা। বায়ুর মানের ক্ষেত্র বাতাসে একিউআই মান শূন্য থেকে ৫০ এর মধ্যে থাকলে তখন এই বায়ুকে ‘ভালো বায়ু’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বায়ুর মানের স্কোর ৫০ থেকে ১০০ এর মধ্যে থাকলে, সে বায়ুর গুণমানকে ‘সহনীয়’ বলে বিবেচনা করা হয়।
১০১ থেকে ১৫০ এর মধ্যে হলে ‘সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর’, ১৫১ থেকে ২০০ হলে ‘অস্বাস্থ্যকর’, ২০১ থেকে ৩০০ হলে তাকে ‘অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর’, ৩০১-এর বেশি হলে ‘বিপজ্জনক’ বলা হয়, যা মানুষের জন্য মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে। একিউআই সূচক পাঁচটি দূষণের ওপর নির্ভরশীল। সেগুলো হলো- অতিক্ষুদ্র বস্তুকণা (পিএম১০ ও পিএম২.৫), এনও২, সিও, এসও২ ও ওজোন। ঢাকা দীর্ঘদিন ধরেই বায়ুদূষণজনিত সমস্যায় জর্জরিত। ঢাকার বায়ুর গুণমান সাধারণত বর্ষাকালে কিছুটা উন্নত হলেও শীতকালে চরম অস্বাস্থ্যকর হয়ে ওঠে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মতে, বায়ুদূষণের কারণে প্রতি বছর বিশ্বব্যাপী আনুমানিক ৭০ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়। বায়ুদূষণে প্রধানত স্ট্রোক, হৃদরোগ, ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ, ফুসফুসের ক্যান্সার ও শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণ থেকে মৃত্যুর হার বাড়ে। ২০১৯ সালের মার্চে পরিবেশ অধিদপ্তর ও বিশ্বব্যাংকের একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ঢাকার বায়ুদূষণের তিনটি প্রধান উৎস হলো- ইটভাটা, যানবাহনের ধোঁয়া ও নির্মাণ কাজের ধুলো।