
সব ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের একটি সঠিক ও নির্ভুল তালিকা প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান। গতকাল শনিবার মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) নগর ভবন প্রাঙ্গণে আয়োজিত বীর মুক্তিযোদ্ধা সংবর্ধনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, অতীতে সঠিক জরিপ ছাড়াই যে ৩০ লাখ মুক্তিযোদ্ধার তালিকা করা হয়েছিল, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন রয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘স্বাধীনতা একবারেই এসেছে। ৯০-এর গণ-আন্দোলন এবং ২৪-এর অভ্যুত্থান গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক অর্জন; এগুলোকে অবশ্যই সম্মান করতে হবে। তবে এই অর্জনগুলোকে মহান মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে মেলানো যাবে না। মুক্তিযুদ্ধের অনন্য মহিমা অক্ষুণ্ণ রেখেই আমরা সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা চূড়ান্ত করব।’
অনুষ্ঠানে ডিএসসিসি প্রশাসক আব্দুস সালাম প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে বেশ কিছু দাবি উত্থাপন করেন। তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা বৃদ্ধি, পুনর্বাসন এবং সব সরকারি সুযোগ-সুবিধা বিনা মূল্যে প্রদানের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। একইসঙ্গে তিনি ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত বীর মুক্তিযোদ্ধারা যুদ্ধের স্মৃতিচারণা করেন এবং পরবর্তী প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরার অনুরোধ জানান। আমন্ত্রিত মুক্তিযোদ্ধারা আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের কারণে প্রকৃত যোদ্ধাদের সম্মান ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। তারা দ্রুত ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে মন্ত্রী আশ্বস্ত করেন যে, মুক্তিযোদ্ধাদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির বিষয়টি সরকারের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।