
রাজশাহীর নগরীর বিনোদপুর এলাকায় খাবার পরিবেশনে দেরি হওয়াকে কেন্দ্র করে দুটি রেস্তোরাঁয় হামলা, ভাঙচুর ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় এক পুলিশ কনস্টেবল আহত হয়েছেন। ঘটনার পর মতিহার থানায় পৃথক দুটি মামলা করা হয়েছে। আহত পুলিশ সদস্যের ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে একটি এবং ভাঙচুরের ঘটনায় রেস্তোরাঁর মালিক বাদী হয়ে আরেকটি মামলা করেন।
পুলিশ জানায়, গত শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে বিনোদপুর এলাকার ‘বাংলা টিফিন’ রেস্তোরাঁয় খাবার কিনতে যান রমজান নামে এক ব্যক্তি। তিনি বিনোদপুর এলাকার বাসিন্দা। খাবার পরিবেশনে দেরি হওয়া নিয়ে রেস্তোরাঁর কর্মচারী ও মালিকের সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডা হয়। এর কিছু সময় পর রমজানের অনুসারীরা ছুরি, চাপাতিসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে এসে ‘বাংলা টিফিন’ এবং একই মালিকানাধীন ‘বঙ্গভোজ’ রেস্তোরাঁয় হামলা ও ভাঙচুর চালায়। এ সময় তারা চার থেকে পাঁচটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে হামলাকারীরা পুলিশ ও রেস্তোরাঁর কর্মচারীদের লক্ষ্য করে আরও ককটেল নিক্ষেপ করে। এতে মতিহার থানার কনস্টেবল মো. ফয়েজ উদ্দিন আহত হন। ককটেলের আঘাতে তার পায়ে জখম হয়। তাকে প্রথমে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে বিভাগীয় পুলিশ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
রেস্তোরাঁ দুটির মালিক মুর্শেদ শাকিল বলেন, গতকাল সকালে কর্মচারীরা রেস্তোরাঁ খুলতে গেলে মোটরসাইকেলে আসা দুই ব্যক্তি তাদের হুমকি দেয়। নরাপত্তাহীনতার কারণে ব্যবসা পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়েছে। এভাবে প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে। অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত রমজানের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ গোলাম কবীর বলেন, বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজের প্রভাব ও ক্ষমতা দেখাতে এ ঘটনা ঘটিয়েছে। তিনি আরও জানান, মামলায় রমজান, বাদশাহ এবং আরও ২০ থেকে ২৫ জন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।