
রাজধানীর খিলগাঁওয়ের দক্ষিণ গোরান এলাকা থেকে এক কলেজছাত্রীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তাকে হত্যার অভিযোগে স্বামী সাইফুল ইসলামকে (২১) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত শুক্রবার রাত ৮টার দিকে দক্ষিণ গোরানের হাজি মসজিদের সামনের একটি বাসার নিচতলা থেকে সানজিদা আক্তার ওরফে মারিয়ার (১৮) লাশ উদ্ধার করা হয়। তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় বলে ধারণা করছে পুলিশ। নিহত সানজিদা লালমাটিয়া মহিলা কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তার স্বামী সাইফুল ফুডপান্ডায় কাজ করতেন। তাদের দুজনেরই গ্রামের বাড়ি নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার হাতকান্দা নয়াপাড়া গ্রামে।
সানজিদার ভাই মো. চান মিয়া দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, প্রায় এক বছর আগে সাইফুলের সঙ্গে সানজিদার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে দক্ষিণ গোরানের ওই বাসায় ভাড়া থাকতেন তারা। শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে মা অনেকবার কল দিয়েও সানজিদাকে পাচ্ছিলেন না। পরে সাইফুলকে ফোন দিলে তিনি সানজিদাদের বাসায় গিয়ে তাকে দেখে আসতে বলেন। পরিবারের সদস্যরা ওই বাসায় গিয়ে মেঝেতে সানজিদাকে নিথর পড়ে থাকতে দেখেন। তার গলায় দাগ দেখতে পেয়ে পরিবারের লোকজন জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল দেন। খবর পেয়ে খিলগাঁও থানা থেকে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠায়।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মতিঝিল বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) হারুন-অর-রশিদ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানান, গলায় পাটের সুতলি প্যাঁচানো অবস্থায় সানজিদার লাশ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পরপরই খিলগাঁও থানা-পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে নিহত ছাত্রীর স্বামী সাইফুলকে গ্রেপ্তার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যার দায় স্বীকার করেছেন। হত্যার কারণ সম্পর্কে পুলিশ জানায়, সাইফুলের মা-বাবাকে নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দাম্পত্য কলহ চলছিল। বিয়ের পর থেকেই চলা এই কলহের জেরে হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে বলে তারা ধারণা করছেন। সানজিদা পড়াশোনার পাশাপাশি টিউশনি করে সংসারের খরচ জোগাতে সহায়তা করতেন বলেও জানায় পুলিশ। এ ঘটনায় গতকাল শনিবার নিহত ছাত্রীর ভাই চান মিয়া বাদী হয়ে খিলগাঁও থানায় হত্যা মামলা করেছেন।