ঢাকা মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

আর কোনো মেয়ের যেন এভাবে মৃত্যু না হয় : আয়নীর মা

আর কোনো মেয়ের যেন এভাবে মৃত্যু না হয় : আয়নীর মা

চট্টগ্রামে শিশু আবিদা সুলতানা আয়নীকে হত্যার দায়ে খুনির ফাঁসির রায়ে স্বস্তি এসেছে মায়ের মনে, কিন্তু সন্তান হারানোর বেদনা তাতে পূরণ হওয়ার নয়।

গতকাল সোমবার রায় ঘোষণার পর আয়নীর মা মোছাম্মৎ বিবি ফাতেমা কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ‘আমার মেয়ে তো আর ফিরবে না। এভাবে আর কোনো মেয়ের যেন মৃত্যু না হয়।’ চট্টগ্রামের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারক মোহাম্মদ সাইফুর রহমান এদিন আয়নী হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেন। আসামি মো. রুবেলকে মৃত্যুদণ্ড দেন তিনি। আয়নী চট্টগ্রামের পাহাড়তলী এলাকার আব্দুল হাদি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী ছিল। পাহাড়তলীর আব্দুর কাজীর দীঘির পাড় এলাকায় তাদের বাসা। তার মা ফাতেমা পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন। আর বাবা কাজ করতেন ঢাকার একটি পোশাক কারখানায়।

২০২৩ সালের ২১ মার্চ বিকেল থেকে আয়নীর খোঁজ পাচ্ছিল না পরিবার। থানায় জিডি করেও সন্ধান না মেলায় সাত দিন পর ওই বছরের ২৮ মার্চ আদালতে গিয়ে অপহরণের মামলা করেন আয়নীর মা। বিচারক তার আর্জি শুনে অভিযোগটি এজাহার হিসেবে গ্রহণ করতে পাহাড়তলী থানার ওসিকে নির্দেশ দেন। মামলায় প্রতিবেশী সবজি বিক্রেতা ৩৫ বছর বয়সি মো. রুবেলকে আসামি করা হয়। তাকে আটক করার পর পিবিআই শিশুটির লাশের খবর জানতে পারে। পরদিন আয়নীর লাশ উদ্ধার করা হয়।

মামলার এজাহারে শিশুটির মা বলেন, ঘটনার দু-তিন দিন আগে স্কুলের এক বান্ধবী বিড়াল কিনেছে জানিয়ে আমার কাছে বিড়াল ছানা কিনে দেওয়ার আবদার করে মেয়ে। তখন বলেছিলাম, বেতন পেলে বিড়াল ছানা কিনে দিব। তখন সে বলেছিল, রাস্তার এক তরকারি বিক্রেতা বলেছে, তার এক পরিচিত লোক আছে। সেখান থেকে আমাকে বিড়াল ছানা এনে দেবে। ২০২৩ সালের ২০ মার্চ রাস্তায় বিড়াল ছানা ধরতে গিয়ে সবজি বিক্রেতা রুবেলের ভ্যানের সঙ্গে ধাক্কা লাগে আয়নীর। বিড়াল ছানা এনে দেবে বলে তখন শিশুটির সঙ্গে মিনিট পাঁচেক কথাও বলেছিল প্রতিবেশী রুবেল। পরদিন ২১ মার্চ বিকেলে আবার রাস্তায় দেখা হলে শিশুটিকে বিড়াল ছানা দেবে বলে ভ্যান করে নিয়ে যায় ফাঁকা এক বাসায়।

মামলাটি তদন্তকারী সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পরিদর্শক ইলিয়াস খান তখন জানিয়েছিলেন, শিশুটিকে কাজীর দিঘী এলাকাতেই একটি ভবনের চতুর্থ তলায় নিয়ে যায় রুবেল। যেটি তার পরিচিত এক জনের খালি বাসা। ওই বাসায় নিয়ে গিয়ে রুবেল শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। ওই সময় শিশুটি চিৎকার করে দরজা খুলে বাসা থেকে বের হবার চেষ্টা করলে তাকে ভয়ভীতি দেখায় এবং বিষয়টি কাউকে না জানানোর জন্য হুমকি দেয়। বিষয়টি অন্যদের জানিয়ে দেবে, সেই ভয় থেকে রুবেল ‘শ্বাসরোধ করে হত্যা করে’ শিশুটিকে। গ্রেপ্তার হওয়ার পর পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে রুবেল হত্যাকাণ্ডের কথা ‘স্বীকার করে’ ঘটনার বর্ণনা দেন। তিনি জানান, ২১ মার্চ বিকাল সাড়ে ৫টা থেকে ৬টার মধ্যে শিশুটিকে খুন করা হয়।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত