ঢাকা বুধবার, ০৫ আগস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

ঢাকেশ্বরী মন্দিরে সমলিঙ্গের বিয়ের ঘটনায় শাস্তির দাবি

১ হাজার ২৩০ নাগরিকের বিবৃতি
ঢাকেশ্বরী মন্দিরে সমলিঙ্গের বিয়ের ঘটনায় শাস্তির দাবি

রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে সমলিঙ্গের বিয়ের অভিযোগে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে দেশের বিভিন্ন পেশার ১ হাজার ২৩০ জন নাগরিক একটি যৌথ বিবৃতি দিয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার প্রকাশিত ওই বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে আলেম, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, ব্যবসায়ী, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা রয়েছেন।

মূল্যবোধ আন্দোলনের মুখপাত্র প্রকৌশলী মুহাম্মাদ সাদাতের পাঠানো বিবৃতিতে বলা হয়, সম্প্রতি ঢাকেশ্বরী মন্দিরে সমলিঙ্গের বিয়ের যে ঘটনা গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে, তা নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন। বিবৃতিতে ওই ঘটনার সঙ্গে জড়িত একজন ব্যক্তির লিঙ্গপরিচয় ও ট্রান্সজেন্ডার পরিচয় সম্পর্কেও বিভিন্ন দাবি তুলে ধরা হয়।

বিবৃতিদাতারা দাবি করেন, বাংলাদেশের সংবিধানে নারী ও পুরুষের উল্লেখ রয়েছে এবং ২০১৪ সালে হিজড়া জনগোষ্ঠীকে পৃথক লিঙ্গ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হলেও ‘ট্রান্সজেন্ডার’ নামে কোনো স্বতন্ত্র লিঙ্গের আইনগত স্বীকৃতি নেই। তারা আরও দাবি করেন, দণ্ডবিধির ৩৭৭ ধারার আলোকে সমকামিতা শাস্তিযোগ্য অপরাধ এবং এ বিষয়ে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, রাষ্ট্রীয় আইনের প্রয়োগে বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নিলেও ঢাকেশ্বরী মন্দিরে সংঘটিত বলে দাবি করা এ ঘটনার এক সপ্তাহের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি।

স্বাক্ষরকারীরা বলেন, ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধের প্রশ্নে দেশের মানুষ সংবেদনশীল। তাদের ভাষ্য, অভিযোগের যথাযথ তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া না হলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে। তাই তারা ঘটনার তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। বিবৃতিতে বলা হয়, স্বাক্ষরকারীদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা মূল্যবোধ আন্দোলনের (mullobodh.com) ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। সংগঠনটির দাবি, বিবৃতিতে ৩৮ জন অধ্যাপক, ২৪ জন সহযোগী অধ্যাপক ও ৪৫ জন সহকারী অধ্যাপকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মোট ১ হাজার ২৩০ জন বিশিষ্ট নাগরিক স্বাক্ষর করেছেন।

বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন- ড্যাফোডিল ইসলামিক সেন্টারের পরিচালক অধ্যাপক মোখতার আহমাদ, মসজিদ উত তাকওয়া সোসাইটি ধানমন্ডির খতিব মুফতি সাইফুল ইসলাম, মাসজিদুল জুমা কমপ্লেক্স পল্লবীর খতিব শায়খ আব্দুল হাই মুহাম্মাদ সাইফুল্লাহ, মূল্যবোধ আন্দোলনের চেয়ারম্যান ও আইইউবির অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সরোয়ার হোসেন, মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির প্রভাষক আসিফ মাহতাব উৎস, ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল জাবের, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার, সাবেক সচিব নুরুল আলম ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জুলফিকার হাসান খান।

আরও রয়েছেন— খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সালমা বেগম, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. শামীমা তাসনিম, বুয়েটের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তানভীর পারভেজ, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সৈয়দ মো. গালিব, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. তারেক ফজল, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মুহাম্মাদ মাকসুদ হোসেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সাখাওয়াত হুসাইন, আইইউবির অধ্যাপক ড. মো. কাফিউল ইসলাম, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক সামসুন নাহার মিতুল, সহকারী বার্তা সম্পাদক মো. আনোয়ার হোসেন এবং সময় টিভির হেড অব ইসলাম মুফতি আবদুল্লাহ তামিমসহ আরও অনেকে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত