
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে (ঢাবি) পরিবেশবান্ধব ও জ্বালানি-আত্মনির্ভর ক্যাম্পাস হিসেবে গড়ে তুলতে সমন্বিত সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প গ্রহণের প্রস্তাব দিয়েছে ছাত্রদল নেতা শেখ তানভীর বারী হামিম। গতকাল বৃহস্পতিবার এই প্রস্তাব জানিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল মনোনীত ডাকসু ২০২৫-এর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদপ্রার্থী ও কবি জসীমউদ্দীন হল ছাত্রদলের আহ্বায়ক শেখ তানভীর বারী হামিম। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবন ও আবাসিক হলগুলোর ছাদে সৌর প্যানেল স্থাপন করে নিজেদের বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণের পাশাপাশি অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের প্রস্তাব করা হয়েছে স্মারকলিপিতে।
স্মারকলিপিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিদিন প্রায় ৮ দশমিক ৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ব্যবহারের কথা উল্লেখ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবন, প্রশাসনিক ভবন ও আবাসিক হলের ছাদকে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের কাজে ব্যবহারের প্রস্তাব দেওয়া হয়। এ লক্ষ্যে 'ঢাকা ইউনিভার্সিটি রুফটপ সোলার অ্যান্ড গ্রিন এনার্জি প্রজেক্ট' নামে একটি সমন্বিত প্রকল্প নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, শুরুতেই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি ভবনের ছাদের কাঠামোগত সক্ষমতা, সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা ও ধারণক্ষমতা যাচাই করে একটি 'সোলার মাস্টার প্ল্যান' তৈরি করা যেতে পারে। এরপর অধিক বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী কয়েকটি ভবনে পরীক্ষামূলকভাবে পাইলট প্রকল্প চালু করে সফলতার ভিত্তিতে পর্যায়ক্রমে পুরো ক্যাম্পাসে তা সম্প্রসারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।
স্মারকলিপিতে উৎপাদিত সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে 'নেট মিটারিং' ব্যবস্থা চালুর কথাও বলা হয়েছে। এর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব চাহিদা মেটানোর পর অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হবে। এতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভবিষ্যতে শুধু বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী প্রতিষ্ঠান নয়, বরং একটি 'নেট এনার্জি কন্ট্রিবিউটর' হিসেবেও ভূমিকা রাখতে পারবে বলে স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়। এছাড়া প্রকল্পটিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য একটি 'লিভিং ল্যাবরেটরি' হিসেবে ব্যবহারের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মাধ্যমে বিজ্ঞান, প্রকৌশল, পরিবেশবিজ্ঞানসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের শিক্ষার্থীরা সৌরবিদ্যুৎ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও সবুজ প্রযুক্তি নিয়ে সরাসরি গবেষণা ও ব্যবহারিক অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পাবেন।
প্রকল্পের অর্থায়নে সরকারি বরাদ্দের পাশাপাশি গ্রিন ফাইন্যান্সিং, কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) এবং পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের (পিপিপি) মতো বিকল্প ব্যবস্থার কথা প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে এ ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যুৎ ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হবে বলেও স্মারকলিপিতে দাবি করা হয়।
শেখ হামিম বলেন, 'ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শুধু জ্ঞান উৎপাদন করবে না-পরিচ্ছন্ন বিদ্যুৎও উৎপাদন করবে।' পরিবেশবান্ধব ও সময়োপযোগী এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে উপাচার্য নীতিগত অনুমোদন দেবেন বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি। স্মারকলিপি প্রদানকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মৌসুমী শেখ, ক্রীড়া সম্পাদক মো. সাইফ উল্লাহ, মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হল ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. জাহিদুল ইসলাম, শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল ছাত্রদলের আহ্বায়ক হাসিবুর রহমান আসিফ, ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল ছাত্রদলের আহ্বায়ক মালিহা বিনতে অবন্তী খান, স্যার এ এফ রহমান হল ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মেহেদী হাসান মুন্না, সহক্রীড়া সম্পাদক সাদমান সাকিব বিশ্বাস মাহির, ফজলুল হক মুসলিম হল ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাখওয়াত হোসেন, মাস্টারদা সূর্যসেন হল ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রাজা আমিনুল হক অভি ও মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হল ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আশরাফুল ইসলামসহ সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।