ঢাকা রোববার, ১৫ মার্চ ২০২৬, ১ চৈত্র ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

তারাবির সারকথা : পর্ব ১

আল্লাহর অপার মহিমার কথা

মুনশি মুহাম্মদ উবাইদুল্লাহ
আল্লাহর অপার মহিমার কথা

আজ সন্ধ্যায় চাঁদ দেখা গেলে সালাতুত তারাবির মাধ্যমে পবিত্র রমজান শুরু হবে। দেশের সব মসজিদে একই পদ্ধতি অনুসরণ করে রমজানের অন্যতম অনুষঙ্গ খতমে তারাবি আদায়ের আহ্বান জানিয়েছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন। ইফার বাতলে দেওয়া পদ্ধতি অনুসরণ করলে ২৬ রমজানে তারাবিতে পূর্ণ কোরআনের একটি খতম হয়ে যায়। সে হিসেবে আজ বুধবার সন্ধ্যায় চাঁদ দেখা গেলে আজকের প্রথম তারাবিতে পবিত্র কোরআনের প্রথম দেড় পারা অর্থাৎ সুরা ফাতিহাসহ সুরা বাকারার ১ থেকে ২০৩ নম্বর আয়াত পর্যন্ত তেলাওয়াত করা হবে। এ অংশে ইসলামের অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিধানের কথা আলোচনা করা হয়েছে। রোজা, হজ, খুন, বনি ইসরাইলের বাড়াবাড়িসহ অনেক কথা উঠে এসেছে। সংক্ষেপে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিষয় তুলে ধরা হলো-

সরল পথের প্রার্থনা : সুরা ফাতিহা কোরআনের প্রথম নাজিলকৃত পূর্ণাঙ্গ সুরা। রাসুল (সা.) মক্কায় অবস্থানকালীন একবার ও মদিনায় হিজরতের পর একবার এ সুরা নাজিল হয়। সব ধরনের নামাজেই এ সুরা পাঠ করা আবশ্যক। হাদিসে এ সুরাকে ‘কোরআনে মা’ ও ‘কোরআনের মূল’ বলা হয়েছে। সুরা ফাতিহায় পরকালীন জীবনে মুক্তি ও সাফল্যের রাজপথের কথা বলা হয়েছে। এ সুরায় মূলত সরল পথের দিশা পেতে আল্লাহর কাছে দোয়া করার পদ্ধতি শেখানো হয়েছে। যে পথে না চলার কারণে আগের জাতিগুলো পথভ্রষ্ট হয়েছে, তা থেকে আল্লাহর সন্তুষ্টির পথে জীবন পরিচালিত করার চিরন্তন প্রার্থনা এ সুরা।

কোরআনের সবচেয়ে বড় সুরা : সুরা বাকারা মদিনায় অবতীর্ণ। এ সুরার আয়াত সংখ্যা ২৮৬টি। এটি কোরআনের দ্বিতীয় এবং সবচেয়ে বড় সুরা। বাকারা অর্থ গাভি। এ সুরায় একটি গাভির ঘটনা বর্ণিত হয়েছে। যেটি জবাই করার জন্য বনি ইসরাইলকে আদেশ করা হয়েছিল। সে কারণে এ সুরার নাম সুরা বাকারা। ইসলামের মৌলিক নীতি, বিশ্বাস ও শরিয়তের বিধিবিধানের বিস্তারিত বর্ণনা এ সুরায় রয়েছে।

শুরুতে কোরআনের চ্যালেঞ্জ : সুরা বাকারার ২ নম্বর আয়াতে বিশ্ববাসীকে এ কথার বার্তা দেওয়া হচ্ছে, এ কোরআন আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ হয়েছে। এটা সন্দেহাতীতভাবে নির্ভুল ও আল্লাহর পক্ষ থেকে এসেছে। তৎকালীন আরবি ভাষার পণ্ডিতেরা এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় একটি ভুলও বের করতে পারেনি। কেউ কখনও পারবেও না। কোরআন আল্লাহভীরুদের জন্য পথনির্দেশক।

মুত্তাকির ৫ বৈশিষ্ট্য : মোত্তাকি অর্থ আল্লাহভীরু। যারা আল্লাহর ভয়ে তাঁর আদেশ-নিষেধ যথাযথভাবে পালন করেন, তারাই মোত্তাকি। ৩ ও ৪ নম্বর আয়াতে মুত্তাকিদের ৫টি বৈশিষ্ট্যের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। যথা- ১. অদৃশ্যের বিষয়াবলি আল্লাহর কথার ভিত্তিতে বিশ্বাস করা, ২. নামাজ কায়েম করা, ৩. জাকাত দেওয়া ও দান-সদকা করা, ৪. মুহাম্মদ (সা.) ও তার আগের নবীদের প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে, তাতে বিশ্বাস করা এবং ৫. পরকালকে বিশ্বাস করা।

মোনাফেকের ৮ বৈশিষ্ট্য : ৮ থেকে ২০ নম্বর আয়াতে মোনাফেকের বেশ কিছু বৈশিষ্ট্যের কথা আলোচনা করা হয়েছে। যথা- ১. মুখে ঈমান ও বিশ্বাসের কথা বললেও মনে মনে অবিশ্বাস লালন করা, ২. আল্লাহ ও মোমিনদের সঙ্গে প্রতারণা করে নিজেকে চালাক মনে করা, ৩. অন্তরে কপটতা ও বক্রতা থাকা, ৪. সমাজে অশান্তি সৃষ্টি করে নিজেকে শান্তিকামী দাবি করা, ৫. নিষ্ঠার সঙ্গে ইসলাম গ্রহণ করতে বললে বোকা ভাবা, ৬. বিশ্বাসীদের বন্ধু দাবি করলেও অবিশ্বাসীদের সঙ্গে গোপন আঁতাত করা এবং ঈমানদারদের নিয়ে উপহাস করা, ৭. হেদায়াতের মর্ম বুঝতে না পারা, ৮. ঝোড়ো রাতের বিভ্রান্ত পথিকের মতো সরল পথের দিশা না পাওয়া।

বনি ইসরাইলের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ : ৪০ থেকে ১০৩ নম্বর আয়াতে বনি ইসরায়েলের পরিপূর্ণ ঈমান আনার নির্দেশনা, তাদের ওপর আল্লাহ কী কী অনুগ্রহ করেছেন, আল্লাহর বিশেষ নেয়ামত পেয়েও তারা কী কী নাফরমানি করেছে, তাদের গো-পূজায় লিপ্ত হওয়া, জান্নাতি খাবার মান্না ও সালওয়া খেতে অনাগ্রহ প্রকাশ, সম্পদের লোভে একজন আরেকজনকে হত্যা ইত্যাদি অপকর্মের কথা আলোচিত হয়েছে। যে ঘটনার কারণে সুরা বাকারাকে ‘বাকারা’ নামকরণ করা হয়েছে, সেটিও এখানে আলোচনা করা হয়েছে।

একটি খুন ও গাভি নিয়ে বাড়াবাড়ি : বনি ইসরাইলের এক ব্যক্তি খুন হলে মুসা (আ.)-এর কাছে বিচার এলো। আল্লাহর নির্দেশে মুসা (আ.) তাদের একটি গাভি জবাই করে হত্যার রহস্য উদ্ঘাটনের আদেশ দেন। তবে তারা গাভির বৈশিষ্ট্য নিয়ে অহেতুক ও অসাড় প্রশ্ন করতে থাকে। আল্লাহ গাভির বৈশিষ্ট্য বলতে থাকেন।

ফলে এত নিখুঁত বৈশিষ্ট্যের গাভি পাওয়া তাদের জন্য মুশকিল হয়। শেষমেষ অনেক খোঁজাখুঁজির পর একটি গাভি পাওয়া গেল। গাভিটি জবাই করে মাংসের একটি অংশ দিয়ে আল্লাহর নির্দেশমতো নিহতের দেহে স্পর্শ করল। অমনি সে জীবিত হয়ে খুনির নাম বলল। দেখা গেল, যে মানুষটি বিচার নিয়ে গিয়েছিল, সে-ই ছিল প্রকৃত খুনি।

গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের আলোচনা : সুরা বাকারার এ আয়াতগুলোতে পৃথিবীর প্রথম মানুষ আদম (আ.)-এর সৃষ্টি, ফেরেশতাদের সেজদা, ইবলিসের সেজদায় অস্বীকৃতি ও অহংকার, পৃথিবীতে মানুষের আবির্ভাব, ইবরাহিম (আ.)-এর কোরবানি, কাবাঘর নির্মাণ, মহানবী (সা.)-এর যুগে কেবলা পরিবর্তনের কারণ ও যৌক্তিকতা, রমজানের রোজার বিধান, হত্যার অপরাধে হত্যা ও ক্ষমার বিধান, হজ পালনের বিধিবিধান ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আলোচিত হয়েছে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত