
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে জ্বালানি সংকট ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে চাপের মধ্যে রুপির দরপতন ঠেকাতে স্বর্ণ ও রুপার আমদানি শুল্ক বাড়িয়েছে ভারত সরকার। সরকারি দুটি আদেশ অনুযায়ী, স্বর্ণ ও রুপার আমদানি শুল্ক আগের ৬ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে প্রায় ১৫ শতাংশ করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, স্বর্ণ আমদানির জন্য ডলারে মূল্য পরিশোধ করতে হয়। ফলে এতে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে যায় অথবা রুপি ডলারে রূপান্তর করতে বাড়তি চাপ তৈরি হয়। এর আগে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদি দেশবাসীর প্রতি এক বছরের জন্য অপ্রয়োজনীয় স্বর্ণ কেনাকাটা এড়িয়ে চলার আহ্বান জানিয়েছিলেন। ইরান যুদ্ধের প্রভাবে ডলারের বিপরীতে রুপির দীর্ঘমেয়াদি দরপতন আরও তীব্র হয়ে ওঠায় তিনি এই আহ্বান জানান। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়েছে। বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম তেল আমদানিকারক দেশ ভারত এই সংকটে বড় ধাক্কা খেয়েছে। অপরিশোধিত তেলের মূল্যবৃদ্ধির ফলে দেশটির আমদানি ব্যয় বেড়েছে এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, উচ্চ জ্বালানি মূল্য ভারতের চলতি হিসাবের ভারসাম্য ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে আরও দুর্বল করে তুলছে। গত রোববার প্রধানমন্ত্রী মোদি জনগণকে পেট্রোল ও ডিজেলের ব্যবহার কমানোর আহ্বান জানান। তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে জ্বালানি সরবরাহে যে বিঘ্ন তৈরি হয়েছে, তা মোকাবিলায় সবাইকে সাশ্রয়ী হতে হবে। ভারতে স্বর্ণকে সম্পদ ও সমৃদ্ধির প্রতীক হিসেবে দেখা হয়। বিয়ে ও ধর্মীয় উৎসবে এর ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে। অপরিশোধিত তেলের পর স্বর্ণই ভারতের দ্বিতীয় বৃহত্তম আমদানি পণ্য।