
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে সিঙ্গাপুরের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি কিছুটা কমেছে। ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতের উত্থান থেকে পাওয়া সুবিধা কিছুটা বাধাগ্রস্ত হয়েছে। দেশটির বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত দেশটির অর্থনীতি ৫ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়েছে। এর আগের তিন মাস, অর্থাৎ জানুয়ারি থেকে মার্চ সময়ে দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৬ দশমিক ৩ শতাংশ।
প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি ছিল উৎপাদন খাত। এ খাতে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১২ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে, যা জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকের ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধির চেয়ে বেশি।
মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘ইলেকট্রনিক্স ও প্রকৌশল খাতে উৎপাদন বৃদ্ধির কারণে এই প্রবৃদ্ধি হয়েছে। এআই-সম্পর্কিত সেমিকন্ডাক্টর এবং সেমিকন্ডাক্টর তৈরির সরঞ্জামের জোরালো চাহিদা এর পেছনে ভূমিকা রেখেছে।’
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় বিশ্বজুড়ে বড় ধরনের বিনিয়োগের ফলে চিপ, ডেটা সেন্টারের সরঞ্জাম এবং অন্যান্য প্রযুক্তিপণ্যের চাহিদা বেড়েছে। এতে সিঙ্গাপুরের মতো রপ্তানিনির্ভর অর্থনীতিগুলো লাভবান হয়েছে। তবে জুন প্রান্তিকে উৎপাদন খাতের গুরুত্বপূর্ণ দুটি অংশ—রাসায়নিক ও বায়োমেডিকেল খাতে সংকোচনের কারণে সামগ্রিক প্রবৃদ্ধি কিছুটা কমেছে।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে কাঁচামাল সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় রাসায়নিক খাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গত মাসে সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী লরেন্স ওং সতর্ক করে বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাব বাড়তে থাকায় বছরের দ্বিতীয়ার্ধে দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধীর হতে পারে এবং মূল্যস্ফীতি বাড়তে পারে। দেশটির সরকার ২০২৬ সালের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ২ দশমিক ০ শতাংশ থেকে ৪ দশমিক ০ শতাংশের মধ্যেই অপরিবর্তিত রেখেছে।