ঢাকা মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

কনটেইনারে পণ্য নেই, তবু রপ্তানি সাড়ে পাঁচ কোটি টাকা

কনটেইনারে পণ্য নেই, তবু রপ্তানি সাড়ে পাঁচ কোটি টাকা

কনটেইনার পণ্য নেই, ডিপোতেও কোনো পণ্য ঢুকেনি। রপ্তানির জন্য ১২১ টনের বেশি পণ্য ঘোষণা করা হলেও বাস্তবে অস্তিত্ব নেই। কাগজপত্র ও কাস্টমসের অ্যাসিকিউডিএ ওয়ার্ল্ডে ১ লাখ ২১ হাজার ১৭৫ কেজি পণ্যের ঘোষিত মূল্য ধরা হয় ৪ লাখ ৩৮ হাজার ৩০৪ মার্কিন ডলার, বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ৫ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। এমন ঘটনায় ভ্যালমন্ট ফ্যাশনস লিমিটেডের পাঁচটি সন্দেহজনক রপ্তানি চালান আটক করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। গতকাল সোমবার এনবিআর থেকে এক সংবাদ বিবৃতিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

কাস্টমস গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, গত ৩ সেপ্টেম্বর অ্যাসিকিউডিএ ওয়ার্ল্ড ব্যবস্থায় রপ্তানি চালান যাচাইয়ের সময় ভ্যালমন্ট ফ্যাশনসের পাঁচটি চালান কাস্টমস গোয়েন্দাদের নজরে আসে। প্রাথমিক বিশ্লেষণে চালানগুলোর গন্তব্য, পণ্যের ধরন ও ঘোষিত মোট ওজনে অস্বাভাবিকতা পাওয়া যায়। দাখিল করা রপ্তানি বিলের তথ্য অনুযায়ী পাঁচটি চালানের পণ্য ইসাক ব্রাদার্স ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড নামের একটি অভ্যন্তরীণ কনটেইনার ডিপো থেকে রপ্তানি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ডিপো কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট কোনো পণ্যই উপস্থাপন করতে পারেননি। বরং রপ্তানির জন্য ঘোষিত পণ্যগুলো ওই ডিপোতে প্রবেশই করেনি।

পণ্য ডিপোতে প্রবেশ না করেই কীভাবে সংশ্লিষ্ট চালানগুলোর কাস্টমস আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। কাস্টমস গোয়েন্দার প্রাথমিক যাচাই অনুযায়ী, ভ্যালমন্ট ফ্যাশনসের পাঁচটি চালানে মোট ১ লাখ ২১ হাজার ১৭৫ কেজি পণ্য রপ্তানির ঘোষণা দেওয়া হয়। এসব পণ্যের ঘোষিত রপ্তানিমূল্য ৪ লাখ ৩৮ হাজার ৩০৪ মার্কিন ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার মূল্য প্রায় ৫ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। অর্থাৎ প্রায় ১২১ মেট্রিক টন পণ্যের অস্তিত্ব কাগজপত্রে থাকলেও সংশ্লিষ্ট ডিপোতে সরেজমিন যাচাইয়ে ঘোষিত পণ্য পাওয়া যায়নি। পণ্যের বাস্তব উপস্থিতি ছাড়াই পাঁচটি চালানের মাধ্যমে রপ্তানি প্রদর্শনের চেষ্টা হয়েছে।

কাস্টমস গোয়েন্দার অনুসন্ধানে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় কাস্টমস গোয়েন্দাদের নজরে এসেছে। বন্ডেড প্রতিষ্ঠান ভ্যালমন্ট ফ্যাশনসের গত এক বছরে আমদানি করা কাঁচামালের পরিমাণের তুলনায় ঘোষিত রপ্তানি পণ্যের পরিমাণ অস্বাভাবিকভাবে বেশি। ঘোষিত রপ্তানি পণ্যের পরিমাণ স্বাভাবিক ইনপুট-আউটপুট সহগের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, সেটিও যাচাই করা হচ্ছে। বন্ডেড প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে আমদানি করা কাঁচামাল ব্যবহার করে উৎপাদিত পণ্য রপ্তানির হিসাব গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় এ বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।

বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের বড় রপ্তানি বাজার ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য। এ ছাড়া, জাপান, অস্ট্রেলিয়া, ভারত, তুরস্ক ও রাশিয়াসহ বিভিন্ন দেশেও তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়। তবে ভ্যালমন্ট ফ্যাশনসের আলোচ্য পাঁচটি চালানের গন্তব্য হিসেবে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ফিলিপাইনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। চালানগুলোর অন্যান্য তথ্যের সঙ্গে গন্তব্য দেশের বিষয়টিও কাস্টমস গোয়েন্দার যাচাই করছে বলে জানা গেছে।

সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী রপ্তানি পণ্য সংশ্লিষ্ট অভ্যন্তরীণ কনটেইনার ডিপোতে প্রবেশের পর প্রয়োজনীয় কাস্টমস প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। এরপর পণ্য রপ্তানির জন্য পাঠানো হয়। কিন্তু ভ্যালমন্ট ফ্যাশনসের পাঁচটি চালানের ক্ষেত্রে পণ্য ডিপোতে প্রবেশই করেনি বলে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে তথ্য পাওয়া গেছে। ফলে পণ্য ছাড়াই কীভাবে কাস্টমসের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হলো, সেটাই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এ ঘটনায় রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান, সংশ্লিষ্ট সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট, অভ্যন্তরীণ কনটেইনার ডিপো এবং কাস্টমস প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত অন্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের যোগসাজশ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে পাঁচটি চালানের কাগজপত্র, রপ্তানি বিল, অ্যাসিকিউডিএ ওয়ার্ল্ড ব্যবস্থার তথ্য, ডিপো-সংক্রান্ত রেকর্ড, সংশ্লিষ্ট সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের ভূমিকা এবং আমদানি-রপ্তানির হিসাব পর্যালোচনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে কাস্টমস গোয়েন্দা।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত