
পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের সুযোগ বাড়াতে নতুন আর্থিক পণ্য চালু, টেকসই বন্ড কাঠামো তৈরি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) নজরদারি ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। একই সঙ্গে বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা, বাজারে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং ডিজিটাল প্রতারণা প্রতিরোধে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।
বিএসইসির পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে- ব্লু বন্ড, অরেঞ্জ বন্ড, সুকুক, গ্রিন বন্ড ও এক্সচেঞ্জ ট্রেডেড ফান্ড (ইটিএফ) চালুর মাধ্যমে বিনিয়োগ পণ্যে বৈচিত্র্য আনা। পাশাপাশি ইটিএফ সংক্রান্ত বিধিমালা প্রণয়ন এবং টেকসই বন্ডের জন্য একটি কাঠামো তৈরির কাজ চলছে। ২০৩০ সালের মধ্যে ৫০ হাজার কোটি টাকার গ্রিন বন্ড চালুর লক্ষ্যও রয়েছে কমিশনের।
এরই মধ্যে ব্র্যাক ব্যাংককে তিন বছর মেয়াদি ১ হাজার কোটি টাকার গ্রিন বন্ড ইস্যুর অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ব্যাংকটি এরইমধ্যে সেটি চালুও করেছে। সম্প্রতি বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহ ২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এক উপস্থাপনায় বিএসইসির কমিশনার তানভীর হাবিব রহমান এসব উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন। আন্তর্জাতিক সিকিউরিটিজ কমিশনসমূহের সংস্থা (আইওএসসিও) নির্ধারিত তিনটি মূল প্রতিপাদ্য— বিনিয়োগকারীর সক্ষমতা ও স্থিতিস্থাপকতা, ডিজিটাল প্রতারণা এবং জালিয়াতি সম্পর্কে সতর্কতা সামনে রেখে কমিশনের পরিকল্পনা ও কার্যক্রম তুলে ধরেন তিনি।
তানভীর হাবিব রহমান জানান, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের মধ্যেই পুঁজিবাজারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক নজরদারি ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে বাজারে অস্বাভাবিক লেনদেন, কারসাজি এবং অন্যান্য অনিয়ম শনাক্ত করার সক্ষমতা বাড়বে।
তিনি বলেন, পুঁজিবাজার ক্রমেই ডিজিটাল হয়ে উঠছে। বিনিয়োগকারীরাও অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকে বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ সংক্রান্ত তথ্য পাচ্ছেন।