ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারি ২০২৬, ১৫ মাঘ ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

ভালোবাসার মসজিদে নববি

মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ
ভালোবাসার মসজিদে নববি

মানুষ তাজমহলকে ভালোবাসার প্রতীক বলে মনে করে; কিন্তু ওসমানীয় যুগে মসজিদে নববি পুনর্র্নির্মাণ ছিল স্থাপত্য জগতে ভালোবাসা ও সম্মানের সর্বোচ্চ শিখর। যখন তুর্কিরা মসজিদে নববির পুনর্র্নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয়, তখন তারা তাদের বিশাল সাম্রাজ্যে ঘোষণা করে যে ভবন নির্মাণে দক্ষ বিশেষজ্ঞদের প্রয়োজন। ঘোষণা হতেই বিভিন্ন শাখার স্বনামধন্য বিশেষজ্ঞরা তাদের দক্ষতা নিয়ে উপস্থিত হন। সুলতানের নির্দেশে ইস্তানবুলের বাইরে একটি নতুন শহর গড়া হয়, যেখানে বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে আগত ওই বিশেষজ্ঞদের আলাদা আলাদা মহল্লায় রাখা হয়। এখান থেকেই শুরু হয় ভক্তি ও বিস্ময়ের এমন এক অধ্যায় যার তুলনা খুঁজে পাওয়া কঠিন।

ওই সময়ের খলিফা বিশ্বের শক্তিশালী শাসক- নিজে সেই শহরে আসেন এবং প্রতিটি বিশেষজ্ঞকে নির্দেশ দেন- তাদের সবচেয়ে মেধাবী ছেলেকে এমনভাবে তারা শিল্প-বিদ্যা শেখাবে যেন সে অনন্য ও তুলনাহীন হয়ে ওঠে। এদিকে তুর্কি সরকার সেই ছেলেদের হাফেজে কোরআন এবং দক্ষ অশ্বারোহী হিসেবে প্রশিক্ষণ দেবে।

ইতিহাসের এই বিস্ময়কর প্রকল্পটি বহু বছর চলেছিল। ২৫ বছর পর একদল যুবক তৈরি হলো- যারা শুধু তাদের নিজ নিজ শিল্পে অনন্যই ছিল না, প্রত্যেকেই হাফেজে কোরআন এবং আমলে পরিপূর্ণ মুসলমানও ছিল। এদের সংখ্যা ছিল প্রায় ৫০০। এ সময় তুর্কিরা নতুন পাথরের খনি আবিষ্কার করে, জঙ্গল থেকে কাঠ সংগ্রহ করে, তক্তা প্রস্তুত করে এবং কাঁচ তৈরির উপকরণ প্রস্তুত করে।

সমস্ত সামগ্রী নবী করিম (সা.)-এর শহর মদিনায় পৌঁছালে এমন আদব করা হয় যে- এই সব উপকরণ মদিনা থেকে কিছু দূরে নতুন একটি জনপদে রাখা হয়, যেন শহরের নীরবতা ও পরিবেশে কোনো ব্যাঘাত না ঘটে। নবী (সা.)-এর প্রতি আদবের কারণে যদি কোনো পাথরে সামান্য পরিবর্তনের প্রয়োজন হতো, সেটিকে ফের সেই বস্তিতেই পাঠানো হতো। বিশেষজ্ঞদের নির্দেশ ছিল- কাজ করার সময় সবাই অজু অবস্থায় থাকবে, দরুদ শরিফ ও কোরআন তিলাওয়াতে ব্যস্ত থাকবে। হুজরা মুবারকের জালিগুলো কাপড়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছিল, যেন কোনো ধূলিকণা রওজা মুবারকে প্রবেশ না করে।

স্তম্ভ স্থাপন করা হয়েছিল, যাতে রওজার ওপর ও রিয়াজুল জান্নাহর ওপর কোনো মাটি না পড়ে। এই কাজ চলে টানা ১৫ বছর। এবং বিশ্ব ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়- এত ভালোবাসা, এত শ্রদ্ধা ও এত আদব দিয়ে কোনো স্থাপনা আগে কখনও নির্মিত হয়নি, আর পরে কখনও হবে বলেও মনে হয় না।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত