প্রিন্ট সংস্করণ
০০:০০, ০৯ এপ্রিল, ২০২৬
হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর হৃদয় ছিল ভালোবাসায় পরিপূর্ণ। তিনি হৃদয়জুড়ে মানুষের জন্য ভালোবাসা পুষতেন, উদার চিত্তে ভালোবাসা বিলি করতেন। সৃষ্টিকুলের প্রতি তার অপরিসীম দয়া। তার দয়ার পরিধি সমস্ত সৃষ্টির ওপর সমান বিস্তৃত ছিল। তার দয়াশীল আচরণ শত্রুর হৃদয়েও ঝড় তুলতো। কেড়ে নিতো চোখের ঘুম।
মাদ্রাসার আবাসিক শিক্ষক, মসজিদের ইমামণ্ডমুয়াজ্জিন, প্রাইভেট কোম্পানির কর্মকর্তা, সময় নির্ধারণ না করে কাজ করে যাওয়া শ্রমিক, বাড়ির দারোয়ান ও শিক্ষালয়ের আবাসিক শিক্ষার্থীসহ নানা মানুষ বিভিন্ন জীবন বয়ে বেড়ান। চাইলেই ইচ্ছেমতো বাড়ি যেতে পারেন না। সদ্য বিবাহিত মাদ্রাসা-স্কুলের আবাসিক শিক্ষকও প্রতি সপ্তাহে ছুটি পান না। নানাবিধ প্রয়োজনের অজুহাতে পরিচালক তাকে আটকে রাখেন।
আজান ও নামাজ পড়ানোর দোহাই দিয়ে অনেক মসজিদে ইমামণ্ডমুয়াজ্জিনদের অন্তত একমাস নাগাদ বন্দি রাখা হয় মসজিদের ছোটো কামরার ভেতর। ছুটি চাইলেই কমিটির সভাপতি-সেক্রেটারির শুরু হয় টালবাহানা। অনেকে প্রাইভেট কোম্পানিতে ১০-১২ ঘণ্টা ডিউটি করেও ছয় মাসে এক সপ্তাহের ছুটি চাওয়ার জো নেই। অনেক প্রতিষ্ঠানে বরং মুখের ওপর বলে দেওয়া হয়, খুব জরুরি হলে পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে চলে যান।
ধর্মীয় অনুষ্ঠানসহ ছুটির দিনগুলোতে সবাই বাড়ি ফিরে। শুধু বাড়ি ফেরা হয় না দারোয়ানের। আনন্দ আহ্লাদ থাকে না বাড়ির কাজের মেয়েটিরও। ঈদে মেহমানের চাপ সামলাতে হবে বলে ছুটি দেওয়া হয় না তাকে। যেতে দেওয়া হয় না বাড়ির প্রিয়জনদের কাছে।
অনেক প্রতিষ্ঠানে নিয়মের বেড়াজালে শ্রমিককে বন্দি করে রাখেন মালিকপক্ষ। ফলে তারা মনের মাধুরী মিশিয়ে ভালোবেসে দায়িত্ব পালন করে না। কাজে মনোযোগী হয় না। তখন তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয়। অনেক ক্ষেত্রে করা হয় হয়রানি ও হেনস্তা।
মুহাম্মাদ (সা.)-ও ছিলেন মদিনার অধিপতি। একজন শিক্ষক। তার অধীনে অসংখ্য সাহাবি জীবন পরিচালনা করতেন। তার কাছে ইসলাম শিখতেন। তাদের যখন বাড়ি ফেরার সময় হতো, নবী (সা.) তাদের ছুটি দিয়ে দিতেন। কাজ বুঝিয়ে দিয়ে দিতেন। হোমওয়ার্ক দিতেন। খুশি মনে বাড়ি যেতেন তারা। বাড়ি ফিরে হোমওয়ার্ক করতেন।
সাহাবি আবু সুলাইমান মালিক ইবনে হুওয়ায়রিস (রা.) বলেন, ‘আমরা প্রায় সমবয়সী কয়েকজন যুবক রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে এলাম। বিশ দিন তার কাছে থাকলাম। তিনি বুঝতে পারলেন, আমরা পরিবারের কাছে প্রত্যাবর্তনের জন্য উদগ্রীব হয়ে পড়েছি। তিনি আমাদের পরিবারের কথা জিজ্ঞেস করলে অবস্থা জানালাম। তিনি ছিলেন কোমল হৃদয় ও দয়ার্দ্র। নবী (সা.) বললেন, ‘তোমরা তোমাদের পরিজনের কাছে ফিরে যাও। তাদের (কোরআন) শিক্ষা দাও, (সৎ কাজের) আদেশ করো এবং যেভাবে আমাকে নামাজ আদায় করতে দেখেছ, ঠিক সেভাবে নামাজ আদায় করো। নামাজের সময় হলে তোমাদের একজন আজান দেবে এবং যে তোমাদের মধ্যে বড়ো সে ইমামতি করবে।’ (বোখারি : ৬০০৮)।
বর্তমানে দেখা গেছে, অনেক কোম্পানি ইমপ্লয়িদের সপ্তাহে দুই দিন বা তিন দিন অফিসে আসতে বলেন। বাকি দুই দিন রিমোট অফিস করান। সপ্তাহের বাকি দুই দিন ছুটি। অনেকে আবার সপ্তাহে দুদিন মাত্র অফিস করতে বলেন। এ ক্ষেত্রে কোম্পানিগুলো ইমপ্লয়িদের কাছ থেকে ভালো ফিডব্যাক পাচ্ছে। ইমপ্লয়িরাও স্বাচ্ছন্দে কাজ করছেন। কোম্পানিকে সর্বোচ্চটুকু দিচ্ছেন। এই থিউরি নবী (সা.) পনেরো শত বছর আগেই উপস্থাপন করে গেছেন। তিনি শিক্ষার্থী, যোদ্ধা কিংবা অন্যান্য দায়িত্বশীলদের পূর্ণাঙ্গ স্বাধীনতা দিয়ে কাজ আদায় করেছেন। খবরদারি বা দারোগাগিরি করে নয়।