ঢাকা মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারি ২০২৬, ২৯ পৌষ ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

নাটক জমিয়ে সুপার কাপ জিতল বার্সেলোনা

নাটক জমিয়ে সুপার কাপ জিতল বার্সেলোনা

এল ক্লাসিকোর উত্তাপ মানেই নাটক, গতি আর রোমাঞ্চ। সৌদি আরবের জেদ্দায় স্প্যানিশ সুপার কাপের শিরোপা লড়াইয়ের মঞ্চে সে চিরচেনা দৃশ্যই মঞ্চায়ন হলো। শেষ পর্যন্ত রাফিনহার জোড়া গোলে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদকে ৩-২ ব্যবধানে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বার্সেলোনা। নাটকীয় এ জয়ে সুপার কাপ ইতিহাসে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব আরও একবার প্রমাণ করল কাতালান ক্লাবটি। গত আসরের ফাইনালে কাতালান দলটি জিতেছিল ৫-২ গোলে। গত মৌসুমে দুটি ফাইনালসহ রিয়ালের বিপক্ষে চারবারের দেখায় সবকটিতে জিতলেও, এই মৌসুমে প্রথম ক্লাসিকোয় অক্টোবরে সান্তিয়াগো বের্নাবেউয়ে লা লিগার ম্যাচে ২-১ গোলে হেরে যায় বার্সেলোনা। এবার ভিন্ন প্রতিযোগিতা হলেও, সেই হারের ক্ষতেও প্রলেপ দিতে পারল তারা।

সেমিফাইনালের মতো ফাইনালেও জোড়া গোল করে বার্সেলোনার নায়ক রাফিনিয়া। তার গোলেই এগিয়ে যায় দল। ১৬ ম্যাচের গোল-খরা কাটিয়ে রিয়ালকে সমতায় ফেরান ভিনিসিউস জুনিয়র। পরক্ষণেই বার্সেলোনার দ্বিতীয় গোল করেন রবের্ত লেভানদোভস্কি। সেই গোল শোধ করে দেন গন্সালো গার্সিয়া। দ্বিতীয়ার্ধে রাফিনিয়ার দ্বিতীয় গোল গড়ে দেয় ব্যবধান। ফেভারিট হিসেবে মাঠে নামা বার্সেলোনা ৬৮ শতাংশ পজেশন রেখে গোলের জন্য ১৬টি শট নিয়ে ৭টি লক্ষ্যে রাখতে পারে। রিয়ালের ১২ শটের ১০টি লক্ষ্যে ছিল। সেমিফাইনালে আথলেতিক বিলবাওকে ৫-০ গোলে হারানো ম্যাচ থেকে একাদশে দুটি পরিবর্তন আনেন বার্সেলোনা কোচ ফ্লিক। দুই গোলদাতা ফেররান তরেস ও রুনি বার্দগিকে বেঞ্চে রেখে লামিনে ইয়ামাল ও লেভানদোভস্কিকে ফেরান তিনি। আতলেতিকো মাদ্রিদকে ২-১ গোলে হারানো ম্যাচ থেকে শুধু আন্টোনিও রুডিগারের জায়গায় ডিন হাউসেনকে একাদশে ফেরান রেয়াল কোচ শাবি আলোন্সো।

বার্সেলোনা শুরুতে একচেটিয়া বল দখলে রাখলেও প্রথম উল্লেখযোগ্য সুযোগ পায় রিয়াল। চতুর্দশ মিনিটে বাঁ দিক দিয়ে আক্রমণে উঠে বক্সে ঢুকে পড়েন ভিনিসিউস। সামনে একমাত্র বাধা গোলরক্ষক। তবে ব্রাজিলিয়ান তারকার শটে খুব বেশি জোর ছিল না, ঠেকিয়ে দেন হোয়ান গার্সিয়া। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা ৯ ম্যাচ জিতে মাঠে নামা বার্সেলোনা প্রথম লক্ষ্যে শট রাখতে পারে ২৮তম মিনিটে। যদিও থিবো কোর্তোয়া বরাবর শট করেন রাফিনিয়া। ৩৩তম মিনিটে আরেকটি ভালো সুযোগ পায় আগের পাঁচ ম্যাচ জয়ী রিয়াল। কিন্তু বক্সে ঢুকে ওয়ান-অন-ওয়ানে দুর্বল শটে শতাশ করেন গন্সালো গার্সিয়া।

এক মিনিট পর সুবর্ণ সুযোগ নষ্ট করেন রাফিনিয়া। ইয়ামালের দারুণ পাস বক্সে পেয়ে বাইরে মারেন তিনি। সেই হতাশা পরের মিনিটেই ঝেড়ে ফেলে দলকে এগিয়ে নেন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড। ফের্মিন লোপেসের পাস ধরে বাঁ দিক দিয়ে বক্সে ঢুকে পড়েন তিনি। সামনে ছিলেন অহেলিয়া চুয়ামেনি। রিয়াল মিডফিল্ডারকে কোনো সুযোগ না দিয়ে নিচু শটে দূরের পোস্ট দিয়ে ঠিকানা খুঁজে নেন রাফিনিয়া। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে চমৎকার গোলে সমতা ফেরান ভিনিসিউস। গার্সিয়ার পাস ধরে বাঁ দিক দিয়ে এগিয়ে যান তিনি। জুল কুন্দের দুই পায়ের ফাঁক দিয়ে বল নিয়ে ঢুকে পড়েন বক্সে। সেখানে আরেক ডিফেন্ডারের বাধা এড়িয়ে নিচু শটে জালে পাঠান ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড। গত ৪ অক্টোবরের পর এই প্রথম রিয়ালের হয়ে গোলের দেখা পেলেন ভিনিসিউস।

চতুর্থ মিনিটে লেভানদোভস্কির গোল আবার এগিয়ে দেয় বার্সেলোনাকে। দারুণ পাস দেন পেদ্রি। অফসাইডের ফাঁদ এড়িয়ে বক্সে বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এগিয়ে আসা কোর্তোয়ার ওপর দিয়ে লব শট নেন পোলিশ তারকা, বল পোস্টে লেগে জালে জড়ায়। ষষ্ঠ মিনিটে ফের সমতায় ফেরে রিয়াল। কর্নারে হাউসেনের হেড রাফিনিয়ার মাথা ছুঁয়ে পোস্টে লেগে ফিরে আসে। জটলার ভেতর নিচে পড়ে যাওয়ার মুহূর্তে শট করেন গার্সিয়া।

বল ক্রসবারের নিচের দিকে লেগে জালে জড়ায়। তিন মিনিট যোগ করা সময় শেষ হয় ৯ মিনিটে গিয়ে! একবিংশ শতাব্দীতে প্রথমবারের মতো ক্লাসিকোয় ম্যাচের প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে দেখা গেল তিন গোল।

৫২তম মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে ভিনিসিউসের শট ঝাঁপিয়ে ঠেকান গার্সিয়া। ফিরতি বল উড়িয়ে মারেন ২৫ বছর বয়সী ফুটবলার। দুই মিনিট পর বক্সের ঠিক বাইরে ফ্রি-কিক পায় বার্সেলোনা। রাফিনিয়ার শট ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে যায়। ৫৭তম মিনিটে পেদ্রিকে রিয়াল ডিফেন্ডার রাউল আসেন্সিওর ফাউল করাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ায় দুই দলের মধ্যে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত