
নতুন বাংলাদেশে নতুন সরকারের টেকনোক্র্যাট কোটায় যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন সাবেক তারকা ফুটবলার আমিনুল হক। এই মন্ত্রনালয়ের ৩৪তম অভিবাবক তিনি। সেই সঙ্গে প্রথমবারের মতো সাবেক কোনো ক্রীড়াবিদের টেকনোক্র্যাট হিসেবে প্রতিমন্ত্রী হওয়ার রেকর্ড গড়লেন আমিনুল হক।
মো. আমিনুল হক বাংলাদেশের ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম কিংবদন্তি গোলকিপার এবং জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক। দীর্ঘ সময় জাতীয় দলের গোলপোস্টের অতন্দ্র প্রহরী ছিলেন তিনি, যেখানে কোনো দলকে সহজে গোল করার সুযোগ দেননি এবং দেশের ফুটবলে নিজের একটি আলাদা জায়গা তৈরি করেছেন। জাতীয় দলের অধিনায়ক এবং গোলকিপার হিসেবে খেলতে গিয়ে তিনি দেশকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিনিধিত্ব করেছেন। পাশাপাশি, তিনি বিভিন্ন যুগে দেশের বড় ক্লাবগুলোর হয়ে খেলেছেন এবং স্থানীয় লিগ ও টুর্নামেন্টে অসংখ্য শিরোপা অর্জন করেছেন, যা তার খেলোয়াড়ি জীবনের গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে চিহ্নিত।
ফুটবল জীবন থেকে অবসরের পর আমিনুল হক রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। তিনি বাংলাশে জাতীয়তাবাদী দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতা হিসেবে দলের কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ক্রীড়া সম্পাদক এবং ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংস নির্বাচনে ঢাকা১৬ আসন থেকে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হিসেবে ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন, যেখানে নির্বাচনে হেরে যান জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত প্রার্থী মো. আবদুল বাতেনের কাছে। নির্বাচনে পরাজয়ের কারণে বিএনপির প্রধানমন্ত্রীর মন্ত্রিসভায় টেকনোক্র্যাট হিসেবে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর শপথ নিয়েছেন।
মো. আমিনুল হক জাতীয় দলের হয়ে প্রায় ৫৪টি ফিফা ম্যাচ এবং তিনটি ননফিফা ম্যাচ খেলেছেন। জাতীয় দলের প্রতিনিধিত্বের সময়কাল ১৯৯৮ থেকে ২০১০ পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। তিনি ২০০৬, ২০০৮, ২০০৯ এবং ২০১০ সালে জাতীয় দলের অধিনায়কত্ব করেছেন এবং ২০১০ সালে বাংলাদেশ অনূ২৩ দলের অধিনায়ক হিসেবে দক্ষিণ এশীয় গেমসে স্বর্ণপদক জিতেছেন। ক্লাব পর্যায়ে মো. আমিনুল হক দেশের শীর্ষস্থানীয় ক্লাবগুলোর হয়ে দীর্ঘ সময় খেলেছেন। তিনি মোহামেডান এসসি, ফরাশগঞ্জ এসসি, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, আবাহনী লিমিটেড ঢাকা, ব্রাদার্স ইউনিয়ন, শেখ জামাল ডিসি এবং টিম বিজেএমসির হয়ে মাঠে নামেছেন। ক্লাব পর্যায়ে তার অবদান অসাধারণ ছিল, যেখানে তিনি সুপার কাপ, ফেডারেশন কাপ এবং অন্যান্য ট্রফি জয়ী দলের অংশ হিসেবে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছেন।
আমিনুল হককে বাংলাদেশের অন্যতম সেরা গোলকিপার এবং কিংবদন্তি খেলোয়াড় হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তার আন্তর্জাতিক পারফরম্যান্স বিশেষ করে ২০০২ ও ২০০৯ সালে প্রশংসিত হয়েছিল এবং কোচ ও ফুটবল বিশ্লেষকদের নজর কাড়ে। গোলকিপার হিসেবে তিনি বহু ম্যাচে দলকে গুরুত্বপূর্ণ স্টপ তৈরি করেছেন এবং তার উপস্থিতি ম্যাচের প্রতিরোধ ও সমর্থন গড়ে তুলতে সাহায্য করেছে।