ঢাকা বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬, ৪ চৈত্র ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অনুপস্থিতি নিয়ে তদন্ত করবে ক্রীড়া মন্ত্রণালয়

বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অনুপস্থিতি নিয়ে তদন্ত করবে ক্রীড়া মন্ত্রণালয়

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শেষ হয়ে গেছে বেশ কদিন আগেই। তবে বিশ্বকাপ নিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেটের ক্ষত শুকিয়ে যায়নি এখনও। সেই ক্ষত তৈরি হওয়ার পেছনের কারণগুলো খুঁজে বের করতে বের করতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে বলে জানালেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রী আমিনুল হক।

ক্রীড়া মন্ত্রীর অনুমোদন নিয়েকদিন আগে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ, যেটি খতিয়ে দেখবে বিসিবির গত নির্বাচনে অনিয়ম, কারসাজি ও সরকারি হস্তক্ষেপের নানা অভিযোগ। সেই তদন্ত কমিটির কাজ চলমান আছে এখন।

সেই তদন্ত কমিটি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে সোমবার বিবৃতি দেয় বিসিবি। এরপর মঙ্গলবার মিরপুরের একটি স্কুলে এক অনুষ্ঠানে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে ক্রীড়া মন্ত্রী জানালেন, বাংলাদেশের বিশ্বকাপে না খেলার ব্যাপারটি খতিয়ে দেখা হবে।

‘আমরা কেন বিশ্বকাপ ক্রিকেট খেলতে গেলাম না, এই বিষয়গুলো যাচাই-বাছাই করে পরবর্তীতে ইনশাআল্লাহ পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আমরা কিছুদিন আগে দেখেছি যে বিশ্বকাপ হয়েছে; কিন্তু আমাদের ক্রীড়া কূটনীতির অভাবে সেই বিশ্বকাপটি আমরা খেলতে যেতে পারিনি। কেন এটি হয়েছে, সেটিও আসলে তদন্ত করে দেখার বিষয় রয়েছে। এই বিষয়গুলো নিয়েও আমি একটি তদন্ত কমিটি গঠন করব।’

‘কেন আমরা বিশ্বকাপ খেলতে গেলাম না, আমাদের কোথায় সমস্যা ছিল বা কেন আমাদের ক্রীড়া কূটনীতির অভাব ছিল, সেই বিষয়গুলো আমরা তদন্ত কমিটির মাধ্যমে পরবর্তীতে এগুলো প্রতিবেদন আকারে ক্রিকেট বোর্ড এবং যারা এটার সঙ্গে জড়িত ছিলেন, তাদের কাছে থেকে আমি অবশ্যই চাইব।’

ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (কোয়াব)-এর একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গেও সম্প্রতি বৈঠক হয়েছে বলে জানালেন ক্রীড়া মন্ত্রী। ‘এরমধ্যেই আমাদের কোয়াবের মিঠুনের নেতৃত্বে ক্রিকেটারদের একটি দল আমার কাছে এসেছিল। আমি তাদের সঙ্গে কথা বলেছি, তাদের কথাগুলো শুনেছি। আমি আশ্বস্ত করেছি যে, পরবর্তীতে আমরা এই বিষয়গুলো যেহেতু রমজান মাস চলমান রয়েছে- কেন বিশ্বকাপ ক্রিকেট খেলতে গেলাম না, এ বিষয়গুলো আমরা ঈদের পরে যাচাই-বাছাই করে পরবর্তীতে পদক্ষেপ নেব।’ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে জটিলতা তৈরি হয় গত জানুয়ারির শুরুতে। ভারতীয় বোর্ডের নির্দেশে কলকাতা নাইট রাইডার্স দল থেকে মুস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়ার পর সেদিন রাতেই সামাজিকমাধ্যমে প্রতিবাদ জানান, তখনকার যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। পরদিন সামাজিকমাধ্যমেই তিনি জানান, ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে যাবে না বাংলাদেশ।

এরপর নিরাপত্তা শঙ্কার কথা জানিয়ে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নিতে আইসিসিকে অনুরোধ জানায় বিসিবি। আইসিসির পক্ষ থেকে এরপর নানাভাবে চেষ্টা করা হয়েছে বাংলাদেশকে রাজি করাতে। অনলাইনে বৈঠক হয়েছে দুই পক্ষের, আইসিসির প্রতিনিধি দল সশরীরে এসেও সভা করে গেছে। কিন্তু বাংলাদেশ নিরাপত্তা শঙ্কার অবস্থানেই অটল ছিল। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের জায়গায় স্কটল্যান্ডকে বিশ্বকাপে সুযোগ দেওয়া হয়। বিশ্বকাপে খেলতে না যাওয়ার পেছনে সত্যিই নিরাপত্তা শঙ্কা ছিল নাকি ছিল অন্য কোনো ব্যাপার, এসব নিয়ে দেশের ক্রিকেট আঙিনায় প্রশ্ন ও বিতর্ক উঠেছে অনেক। জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তনের পর ক্রীড়া সংগঠকদের অনেকেই এটি নিয়ে তদন্তের দাবি করেছিলেন। সেটিই এবার হতে চলেছে।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে বিসিবির নির্বাচন নিয়েও প্রশ্ন ও বিতর্ক ছিল বিস্তর। গত অক্টোবরে সেই সময় অবশ্য যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা ছিলেন আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। সে নির্বাচন নিয়ে গঠিন তদন্ত কমিটিকে ১৫ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

নির্বাচন নিয়ে কিছু অনিয়মের উদাহরণ আমিনুল হক নিজেও তুলে ধরলেন, তার চোখে যেগুলো ছিল দৃশ্যমান। তদন্ত কমিটি কীভাবে কাজ করছে বা করবে, সেটিও কিছুটা তুলে ধরলেন ক্রীড়া মন্ত্রী।

‘আমি নিজেও এটি সম্পর্কে বলেছি, যেভাবে বিগত সরকারের সময়ে সরাসরি হস্তক্ষেপ করা হয়েছে ক্রিকেট বোর্ডের ওপর, এটি আপনারা সকলেই জানেন, এগুলো নতুন করে আসলে বলার কিছু নেই। এটি নিয়ে কাদা ছোড়াছুড়ি না করে সঠিক যেটি, তদন্ত প্রতিবেদনে তা উঠে আসবে। এখানে যারা বিগত সময়ে নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব পালন করেছেন, তাদের সঙ্গেও তদন্ত কমিটি কথা বলবে। বর্তমান ক্রিকেট বোর্ডের যারা রয়েছেন, তাদের সঙ্গেও কথা বলবে। পাশাপাশি যারা অভিযোগ দিয়েছেন, তাদের সঙ্গেও কথা বলবে।’

‘এছাড়াও সারা বাংলাদেশে যারা বিভিন্ন জায়গায় ডিসির দায়িত্ব পালন করেছেন- কারণ আপনারা সকলেই জানেন- যেমন, আমি নিজেও ব্যক্তিগতভাবে জানি যে, যখন বিগত নির্বাচনের সময় ডিসিরা একবার কাউন্সিলরশিপ পাঠিয়েছিলেন, পরবর্তীতে আমাদের বর্তমান প্রেসিডেন্ট বুলবুল ভাইয়ের চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে তারা আবার দ্বিতীয়বার কাউন্সিলর পাঠিয়েছেন। এটি তো একদম দৃশ্যমান সত্য কথা। এটি নিয়ে যদি এখন সেই বিগত স্বৈরাচারের মতো যদি কথা বলে যে, ‘আমরা যেটি করেছি সঠিক করেছি’, সেটি আসলে সমুচিত হবে না।’

এই তদন্ত কমিটি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বিসিবি যে বিবৃতি দিয়েছে, সেখানে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের প্রতি প্রচ্ছন্ন সতর্কবার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে নির্বাচিত বোর্ডের বাইরের হস্তক্ষেপে সম্ভাব্য পরিণতি সম্পর্কে।

তবে ক্রীড়া মন্ত্রী জানালেন, আইসিসির সঙ্গে যোগাযোগ করেই তাদের কাজ চলবে।

‘আমার কাছে মনে হয় যে আমরা তদন্ত প্রতিবেদনটি দেখি, তারপরে আমি আইসিসির সঙ্গে কথা বলে আমাদের পরবর্তী পদক্ষেপ আপনাদের জানাব। আইসিসির সঙ্গে কথা বলেই সকল সিদ্ধান্ত নেব।’

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত