
ক্রমেই ঘনিয়ে আসছে আরেকটি ফিফা বিশ্বকাপ। মাঝে ২ মাস পেরুলেই আমেরিকা মহাদেশে গড়াবে ফুটবলের এই মহাযজ্ঞ। তার আগে নিজেদের প্রস্তুতি কতটা পোক্ত, তারই ঝলক দেখাল ফ্রান্স। গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে যুক্তরাষ্ট্রের ফক্সবরোর জিলেট স্টেডিয়ামে ফিফা প্রীতি ম্যাচে ব্রাজিলকে ২-১ গোলে হারিয়ে আত্মবিশ্বাসী বার্তা ছুঁড়ে দিল দিদিয়ের দেশমের দল। আর সেই জয়ের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। চোটমুক্ত হয়ে ফিরেই গোল করে দলকে এগিয়ে দেন তিনি।
ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল ফ্রান্স। বাম হাঁটুর চোট থেকে সেরে ওঠা এমবাপ্পে মাঠে নেমেই বুঝিয়ে দেন, তার ফিটনেস নিয়ে কোনো শঙ্কার জায়গা নেই। ম্যাচের ৩২তম মিনিটে উসমান দেম্বেলের নিখুঁত থ্রু পাস পেয়ে ডিফেন্ডারদের পেছনে ফেলে এগিয়ে যান তিনি। ঠান্ডা মাথায় গোলরক্ষককে পরাস্ত করে বল জালে পাঠিয়ে ফ্রান্সকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন এই তারকা ফরোয়ার্ড।
৬৬ হাজার ২১৫ জন দর্শকের গ্যালারি ছিল ব্রাজিল সমর্থকদের দখলে। তবুও মাঠের লড়াইয়ে এগিয়ে ছিল ফরাসিরাই। ৬৫তম মিনিটে মাইকেল অলিসের পাস থেকে লিভারপুলের এই মৌসুমের সর্বোচ্চ গোলদাতা হুগো একিতিকে ব্যবধান বাড়িয়ে ২-০ করেন। এর আগে ৫৫তম মিনিটে দিওত উপামেকানো সরাসরি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে ১০ জনের দলে পরিণত হয় ফ্রান্স। শুরুতে হলুদ কার্ড দেওয়া হলেও ভিডিও রিভিউয়ের পর সেটি লালে উন্নীত হয়। এই সুযোগে ৭৮তম মিনিটে লুইজ হেনরিকের ক্রস থেকে ব্রেমার গোল করে ব্যবধান কমান (২-১)। ম্যাচজুড়ে ফ্রান্সের রক্ষণ সামলে রাখেন গোলরক্ষক মাইক মেনিয়ান। শেষ পর্যন্ত আর কোনো গোল না হওয়ায় জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে ইউরোপের এই শক্তিধর দল। এই ম্যাচটি শুধু দুই ফুটবল পরাশক্তির লড়াইই নয়, বরং আসন্ন বিশ্বকাপের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতিও ছিল।
এদিকে ফ্রান্সের দীর্ঘদিনের কোচ দিদিয়ে দেশম ব্রাজিলের বিপক্ষে জয়ের স্বাদ পেলেন এই প্রথম। গত নভেম্বরে ‘ডি’ গ্রুপের শীর্ষে থেকে বিশ্বকাপ বাছাই শেষ করেছে ফ্রান্স। ৬ ম্যাচের ৫টিতে তারা জিতেছে, ড্র করেছে বাকিটি। এখন বিশ্বকাপের জন্য তৈরি হওয়ার পালা। সেই পরিক্রমায় ব্রাজিলের বিপক্ষে ম্যাচটি ছিল দারুণ গুরুত্বপূর্ণ। ম্যাচের পর এমবাপ্পের কণ্ঠে ফুটে উঠল সেটিই ‘আমাদের জন্য এটা কোনো প্রীতি ম্যাচ ছিল না। টেকনিক্যালি ও ট্যাকটিক্যালি আমরা কোথায় দাঁড়িয়ে আছি, তা দেখার জন্য ব্রাজিলের বিপক্ষে খেলতে পারা একটা দারুণ সুযোগ। এই ধরনের ম্যাচ খেলতে পারাটা দারুণ ব্যাপার।’ ফ্রান্সের এই রিয়াল মাদ্রিদ তারকা বলেন, ম্যাচের আগে বলেছিলাম, যে এই ম্যাচ থেকে কোনো সিদ্ধান্তে আসা উচিত নয়। তাই কপটতা করব না এবং ম্যাচটিকে বিশ্বকাপ ফাইনালের মতো করে দেখব।’ সেই লড়াইয়ে নিজেদের মেলে ধরতে পেরে খুশি এমবাপ্পে। তবে বেশি খুশি তিনি বিশ্বকাপের আগে ব্রাজিলের মতো দলের সঙ্গে খেলতে পেরেই। আমরা মাঠে সৃষ্টিশীলতা দেখিয়েছি এবং নিজেদের দৃঢ়তা বজায় রেখেছি। সামনের দিকে ছুটছি আমরা। আমি শুধু মাঠে থাকতে এবং খেলতে চেয়েছি। প্রতিটি বাচ্চাই বেড়ে ওঠার সময় ফ্রান্স-ব্রাজিল ম্যাচ খেলার স্বপ্ন দেখে। খুব ভালো করেই জানি, এটা কত বড় প্রাপ্তি।’
ফক্সবরোর এই ভেন্যুতেই গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে নরওয়ের বিপক্ষে মাঠে নামবে ফ্রান্স, যেখানে মুখোমুখি হবেন আরেক গোলমেশিন আর্লিং হলান্ড। আয়োজনে কোনো ঝামেলা না থাকলেও ম্যাচের আগে নিরাপত্তা ব্যয় নিয়ে কিছুটা উত্তেজনা ছিল আয়োজক ও স্থানীয় প্রশাসনের মধ্যে। প্রায় ৮ মিলিয়ন ডলার নিরাপত্তা খরচ নিয়ে দ্বন্দ্ব থাকলেও শেষ পর্যন্ত সমঝোতায় পৌঁছানোয় নির্বিঘ্নেই ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয়। উল্লেখযোগ্যভাবে, নিউ ইংল্যান্ডের এই ছোট শহরটি বিশ্বকাপকে স্বাগত জানানোর জন্য প্রস্তুত। এনএফএল দলের ব্যবহৃত কৃত্রিম টার্ফ সরিয়ে সেখানে বসানো হয়েছে প্রাকৃতিক ঘাসের মাঠ, যাতে আন্তর্জাতিক মান পূরণ করা যায়।
ম্যাচটি ছিল জিলেট স্টেডিয়ামে ফুটবল ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দর্শকসমাগম। এর আগে ২০০৭ সালে ব্রাজিল বনাম মেক্সিকোর প্রীতি ম্যাচে সবচেয়ে বেশি দর্শক হয়েছিল।