ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২৬, ১৯ চৈত্র ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

দুই গোলে এগিয়ে থেকেও হারল বাংলাদেশ

দুই গোলে এগিয়ে থেকেও হারল বাংলাদেশ

প্রথমবারের মতো এএফসি উইমেনস অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপ খেলতে যাওয়া বাংলাদেশের জয়ের স্বপ্ন গুঁড়িয়ে গেল মুহূর্তেই। সেন্টারের একটু উপরে সতীর্থের থ্রু পাস ধরে এক ছুট দিলেন সাগরিকা। গতিতে প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারদের পেছনে ফেলে ঢুকে পড়লেন বক্সে। ঠান্ডা মাথায় আগুয়ান গোলকিপারের পাশ দিয়ে বল জালে পাঠালেন এই ফরোয়ার্ড। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে আবার আলো ছড়ালেন তিনি। কিন্তু জয়ের সম্ভাবনা মূহূর্তেই ফিকে হয়ে গেল অপ্রয়োজনীয় ট্যাকলে দুটি পেনাল্টি উপহার দিয়ে। ১০ মিনিটের মধ্যে তিন গোল হজম করে থাইল্যান্ডের বিপক্ষে হেরে গেল বাংলাদেশ।

এএফসি উইমেনস অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপে গতকাল বুধবার পাথুম থানির থাম্মাসাত স্টেডিয়ামে স্বাগতিক দলের বিপক্ষে ৩-২ গোলে হেরেছে বাংলাদেশ। ৩৫তম মিনিটে দৃষ্টিনন্দন গোলে দলকে এগিয়ে নেওয়ার পর, ৫০তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন সাগরিকা। এরপর তিন গোল হজম করে হারে বাংলাদেশ।

প্রথমবারের মতো এই মঞ্চে খেলতে নামার আগে বাংলাদেশ কোচ পিটার জেমস বাটলার দিয়েছিলেন লড়াকু ফুটবল খেলার প্রতিশ্রুতি। ২০০৪ সালের সেমি-ফাইনালিস্ট থাইল্যান্ডের বিপক্ষে শুরু থেকে সাহসী ফুটবলই খেলে মেয়েরা। একাদশ মিনিটে স্বপ্নার দূরপাল্লার শট যায় সরাসরি গোলরক্ষকের কাছে। ষোড়শ মিনিটে ফ্রি কিক আটকাতে ঝাঁপিয়েছিলেন মিলি আক্তার, বল তার গ্লাভস গলে বেরিয়ে যাওয়ার পর, দূরূহ কোণ থেকে কুরিসারা লিম্পাওয়ানিচের নেওয়া শট থাকেনি লক্ষ্যে। ২৫তম মিনিটে স্বপ্নাকে তুলে পুজা দাসকে নামান কোচ বাটলার। একটু পরই থাইল্যান্ডের দূরপাল্লার একটি প্রচেষ্টা ফিস্ট করে ফেরান মিলি, আলগা বলে আরেকজনের প্রচেষ্টা প্রতিহত হয় রক্ষণে। ৩৫তম মিনিটে সাগরিকার ওই একক প্রচেষ্টার দর্শনীয় গোলে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। সাগরিকার সঙ্গে উদযাপনে মেতে ওঠে পুরো দল।

পিছিয়ে পড়ে হতচকিত হয়ে পড়া থাইল্যান্ডের আক্রমণের ধার কমে কিছুটা। তাতে নিজেদের আরও গুছিয়ে নেওয়ার সময় পায় বাংলাদেশ। প্রথমার্ধের শেষ দিকে আবারও সতীর্থের লং পাস পান সাগরিকা; কিন্তু রক্ষণের কড়া পাহারা এবার ভেদ করতে পারেননি তিনি।

দ্বিতীয়ার্ধেও আধিপত্য করতে থাকে বাংলাদেশ। ৫০তম মিনিটে উমহেলা মারমার নিখুঁত থ্রু পাস নিয়ন্ত্রণে নিয়ে, ডান পায়ের শটে গোলকিপারের পায়ের ফাঁক দিয়ে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন সাগরিকা।

একের পর এক সেভে পোস্টের নিচে বিশ্বস্ত দেয়াল হয়ে দাঁড়ান মিলি আক্তার। ৬১তম মিনিটে পিচায়াতিদা মানোয়াংয়ের কোনাকুনি শট দারুণ ক্ষিপ্রতায় ফেরান তিনি। ৬৭তম মিনিটে রিনিয়াফাত মনডংয়ের শট ফিস্ট করে ফেরানোর পর, দ্বিতীয় প্রচেষ্টায় বল গ্লাভসে জমান মিলি।

পরের মিনিটেই উল্টো পথে ছোটা শুরু বাংলাদেশের। বক্সে সুরভি আক্তার আফরিন বলা যায় অপ্রয়োজনো নাতচাকে ফাউল করেন, পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। মিলি পারেননি কুরিসারার শট আটকাতে। ৭৪তম মিনিটে বক্সে আরেকটি অহেতুক ট্যাকলে থাইল্যান্ডকে দ্বিতীয় পেনাল্টি উপহার দেন নবীরন খাতুন। মনডংয়ের জোরাল শটে গ্লাভস ছোঁয়ালেও মিলি পারেননি ফেরাতে। এই গোলের কিক অফ থেকে তৃতীয় গোল তুলে নেয় থাইল্যান্ড।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত