
‘পঞ্চপান্ডব’ এর বিদায়ের প্রভাব পরেছিল জাতীয় দলের পারফরম্যান্সে। নতুনদের নিয়ে চলছিল পরীক্ষা-নিরীক্ষা। তাতে আসন্ন ওয়ানডে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সরাসরি খেলা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছিল। তবে গত কয়েক মাসে দুর্দান্ত পারফর্ম করেছে টাইগাররা। এই ফরম্যাটে সর্বশেষ তিন সিরিজের সবকটিতেই জিতেছে লাল সবুজ দল। ফলে একদিনের বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার পথে অনেকটাই এগিয়ে গেছে টাইগাররা। ২০২৭ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত ওয়ানডে র্যাংকিংয়ের শীর্ষে থাকা ৮ দল সরাসরি খেলার সুযোগ পাবে বিশ্বকাপে। পাশাপাশি স্বাগতিক দুই দল দক্ষিণ আফ্রিকা ও জিম্বাবুয়েও সরাসরি খেলবে। দক্ষিণ আফ্রিকা বর্তমানে র্যাংকিংয়ের শীর্ষ পাঁচে আছে। প্রোটিয়াদের আটের বাইরে চলে যাওয়ার সম্ভাবনা নাই বললেই চলে।
বর্তমানে বাংলাদেশের অবস্থান ৯ম। তাদের নামের পাশে আছে ৮৩ রেটিং পয়েন্ট। বাংলাদেশের মূলত লড়াইটা হচ্ছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে। ক্যারিবিয়ানদের বর্তমান অবস্থান ১০ম। তাদের রেটিং পয়েন্ট ৭৭। আগামী ৩১ মার্চ পর্যন্ত বর্তমান অবস্থান ধরে রাখতে পারলেই বিশ্বকাপ নিশ্চিত হয়ে যাবে বাংলাদেশের। বিশ্বকাপে সরাসরি জায়গা পেতে বাংলাদেশকে সামনের ওয়ানডে সিরিজগুলোতেও ভালো করতে হবে। বাংলাদেশের পরবর্তী দুইটি সিরিজ ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের বিপক্ষে। সেপ্টেম্বরে আসবে অস্ট্রেলিয়া। ভারত আগস্টে। বড় দুইটি দলের বিপক্ষে সিরিজ খেলার সুবিধা হলো, জিতলে অনেক পয়েন্ট পাওয়া যাবে। হারলে তেমন কমবে না। নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশ তিন ম্যাচের সিরিজ ৩-০ ব্যবধানে জিতলে ৬ পয়েন্ট পেত। ২-১ ব্যবধানে জেতায় ৪ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে বাংলাদেশের পয়েন্ট এখন ৮৩। র্যাংকিং নয় নম্বরে।
২০২৭ বিশ্বকাপে সরাসরি খেলতে হলে র্যাংকিংয়ের সেরা আট দলের মধ্যে থাকতে হবে। ১৪ দলের এই আসরে বাকি দলগুলোকে খেলতে হবে বাছাইপর্ব। ২০২৭ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকা ও জিম্বাবুয়ে ছাড়াও র্যাংকিংয়ের সেরা আট দল সরাসরি বিশ্বকাপে খেলবে। অর্থাৎ, স্বাগতিকরা যদি সেরা আটের মধ্যে থাকে, তাহলে র্যাংকিংয়ের ১০ নম্বর পর্যন্ত দলও সরাসরি সুযোগ পেতে পারে। অতি নাটকীয় কিছু না ঘটলে আগামী বছরের ৩১ মার্চের মধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকার ৮ নম্বরের নিচে নামার ও জিম্বাবুয়ের ৮ নম্বরের ওপরে ওঠার সুযোগ নেই। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশ ৯ নম্বর জায়গা ধরে রাখলেও সরাসরি বিশ্বকাপে খেলতে পারবে।
সরাসরি বিশ্বকাপ খেলা বাংলাদেশের মূল চ্যালেঞ্জ। তবে সেই চ্যালেঞ্জে যেনতেন ভাবে না গিয়ে আরও ওপরে থেকে নিশ্চিত করতে চান অধিনায়ক মিরাজ, ‘শীর্ষ ৯ নম্বরের ভেতরে থাকাটা আমরা যদি ধারাবাহিকভাবে পারফর্ম করতে পারি, আমার মনে হয় ৯ নম্বর নয়, আমরা আরও অনেক ওপরে যেতে পারি। কাজেই সেটা আমাদের দলের জন্য বিরাট একটা সুবিধা থাকবে। পাকিস্তানের বিপক্ষে যেই দলটি ওয়ানডে সিরিজ খেলেছিল সেই দলের থেকে কোন পরিবর্তন না এনেই নির্বাচকরা দল সাজিয়েছিলেন। পরে সেখানে শুধু যুক্ত করা হয় পেসার তানজিম হোসেন সাকিবকে। সিরিজ শেষে খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সের কাটা ছেঁড়া করার রীতি আছে। তবে সেই কাজটা আপাতত করতে চাইছেন না। সামনে টি-টোয়েন্টি সিরিজ আছে। সেখানে প্রত্যাশিত সাফল্যের খোঁজে নির্বাচকরা। ‘বিশ্বকাপ আমরা খেলতে পারিনি। সেটা নিয়ে খেলোয়ারদের মধ্যে হতাশা দেখেছি। ওইটা অপূরণীয়। এখন টি-টোয়েন্টিতে আবার মাঠে নামছে দল। দলটাকে আমরা ওদের মত করেই মাঠে পারফর্ম করুক সেভাবেই দেখতে চাই। ওয়ানডে সিরিজের মূল্যায়ন অবশ্যই আমরা করব। আপাতত মনোযোগ আমাদের টি-টোয়েন্টিতেই।’ মিরাজের নেতৃত্বে টানা তিন সিরিজ জয়কে নির্বাচকরা বড় করেই দেখছেন। এই ধারাবাহিকতা দলকে সাফল্যের ভেলায় এগিয়ে নেবে এমন বিশ্বাসটাই করেন তারা।