ঢাকা বুধবার, ১৩ মে ২০২৬, ৩০ বৈশাখ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

বাংলাদেশ নতুন ইতিহাস গড়তে চায়

বাংলাদেশ নতুন ইতিহাস গড়তে চায়

টেস্ট স্ট্যাটাস পাওয়ার পর থেকে ২০২৪ সালের জুলাই পর্যন্ত পাকিস্তানের বিপক্ষে ১৩ টেস্টে কোনো জয়ই ছিল না বাংলাদেশের! তবে ওই বছর আগস্ট-সেপ্টেম্বরে নাজমুল হোসেন শান্ত, সাকিব আল হাসান, লিটন দাসরা যা করে দেখিয়েছেন তা করতে পারেনি বাংলাদেশের ইতিহাসে আগে কেউ। রাওয়ালপিন্ডিতে বাবর আজমদের বিপক্ষে টেস্টে ইতিহাস গড়েছিল টাইগাররা। প্রথমবার পাকিস্তানকে দুই টেস্টের সিরিজে ধবলধোলাই করেছিল। পাকিস্তানের মাটিতে গিয়ে পাকিস্তানকে হারানো, বাংলাদেশের জন্য ছিল অনন্য, অসাধারণ, অকল্পনীয় সাফল্য। পিণ্ডিতে পাওয়া সেই সাফল্যের স্বাদ নিশ্চিতভাবে এখনও ভোলেননি ক্রিকেটপ্রেমিরা।

সময়ের প্রবাহে পেরিয়ে গেছে ২০ মাস। স্মৃতিও ঝাঁপসা হতে শুরু করেছ খানিকটা। তবে প্রতিপক্ষ যখন আবার পাকিস্তান, মলিন ছবিগুলোই তো আবার তারতাজা হয়ে ওঠার কথা। ২০২৪ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে সেই সিরিজের সাফল্যের স্মৃতি নানা রূপ নিয়ে ফিরে আসার কথা এখন। বাংলাদেশ নতুন করে শুরু করতে চাইলেও পিণ্ডির আত্মবিশ্বাসই দিচ্ছে জ্বালানি। তবে আগামী শুক্রবার এবার ঘরের মাঠে টেস্ট শুরুর আগে বাংলাদেশ কোচ অতীত সাফল্য বাদ দিয়ে বর্তমানেই মনোযোগটা দিচ্ছেন। সেই রোমাঞ্চ অবশ্য খুব একটা নাড়া দিচ্ছে না ফিল সিমন্সকে। বরং নতুন সুখস্মৃতির জন্ম দিতে চান বাংলাদেশ কোচ। দুই দলের সবশেষ সিরিজ বাংলাদেশ পেয়েছিলেন অভাবনীয় সাফল্য। নিজেদের টেস্ট ইতিহাসের সবচেয়ে স্মরণীয় সাফল্যগুলোর একটি সেটি। ২০২৪ সালের অগাস্ট-সেপ্টেম্বরে পাকিস্তানকে গিয়ে রাওয়ালপিন্ডিতে তারা সিরিজ জিতে ফিরেছিল ২-০ ব্যবধানে। এবার সেই পাকিস্তানকে পাওয়া নিজেদের আঙিনায়। সেই সাফল্যের পুনরাবৃত্তির প্রত্যাশা তাই তীব্র। তবে সেই সিরিজের সাফল্যকে এবারের বাস্তবতায় খুব প্রাসঙ্গিক মনে করেন না সিমন্স। গতকাল বুধবার মিরপুরে অনুশীলন শুরুর আগে কোচ বললেন, নতুন কিছুর হাতছানিই তাদের প্রেরণা। ‘ওটা (২০২৪) ইতিহাস। ওটা ইতিহাস। সেই ইতিহাস এখন অতীত। আপনি ইতিহাস নিয়ে কথা বলছেন। আমরা এখন নতুন ইতিহাস গড়তে চাই। এজন্যই আমরা শুক্রবারের দিকে তাকিয়ে আছি এবং দেখতে চাই কী হয়। তখন কী হয়েছিল তা কোনো ব্যাপার না।’ এই ক্যারিবীয়ান কোচ বলেন, ‘হ্যাঁ, এটা মাথায় থাকতে পারে, আগের ম্যাচটা জেতার ব্যাপারটা ভেতর থেকে একটা উদ্দীপনা দেয় বটে। তবে এটা একটা নতুন খেলা, নতুন জায়গা। আমরা এখন বাংলাদেশে আছি, পাকিস্তানে নই। তাই আমাদের সেই সবকিছু পেছনে ফেলে শুক্রবারের দিকে মনোযোগ দেওয়া নিশ্চিত করতে হবে।’ কোচ যদিও সেই সিরিজকে আড়ালেই চাপা দিতে চান, তবে বাস্তবতা হলো, সেবারের সাফল্যের কারণে এবার প্রত্যাশার পরিধিও বেশি। কোচ যদিও বলছেন, দলের ভেতর প্রত্যাশার পারদ সবসময় স্বাভাবিকই থাকে। ‘আমার মনে হয়, ড্রেসিংরুমের ভেতরের চেয়ে বাইরেই প্রত্যাশাটা ৯৫ শতাংশের বেশি। ড্রেসিংরুমের ভেতরের প্রত্যাশার চেয়ে আপনাদের (মিডিয়ার), সাধারণ মানুষের এবং বাকি সবার প্রত্যাশা অনেক বেশি। আমরা প্রস্তুতি নিই এবং খেলার জন্য মুখিয়ে থাকি। গত সিরিজ থেকে বয়ে আসা প্রত্যাশা আমাদের কোনো সাহায্য করে না। তাই আমরা চেষ্টা করি সেগুলোকে ড্রেসিংরুমের বাইরে রাখতে। সুতরাং আমার মনে হয়, ভেতরের চেয়ে বাইরের চাপটাই বেশি।’

বাংলাদেশ সবশেষ টেস্ট খেলেছে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে। এরপর পেরিয়ে গেছে সাড়ে পাঁচ মাস। গত কয়েক মাসে বেশির ভাগ ক্রিকেটার ব্যস্ত ছিলেন সীমিত ওভারের ক্রিকেটে। বিপিএলের পর পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ ছিল গত মার্চে। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সিরিজ শেষ হলো মাত্রই। টেস্ট দলের অনেকের জন্যই তাই বড় চ্যালেঞ্জ সাদা বল থেকে লাল বলে মানিয়ে নেওয়া। সিমন্স যদিও ক্রিকটীয় ব্যাপারের চেয়ে মনস্তাত্ত্বিকভাবে মানিয়ে নেওয়াকেই বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন। ‘এখানে মানসিক পরিবর্তেই মূল ব্যাপার। এছাড়াও বেশ কজন আছেন, যারা সাদা বলের ক্রিকেট খেলেননি, গত কয়েক মাস ধরে লাল বলের ক্রিকেট খেলছে ও অনুশীলন করছে। তাই আমার মনে হয়, এই পরিবর্তনটা আপনার ধারণার চেয়েও সহজ হবে।’

বাংলাদেশ যেখানে সেই সিরিজ পেছনে ফেলতে চায়, পাকিস্তানের ব্যাপারটি সেখানে বলাই বাহুল্য! সেই সিরিজ ভুলে যেতে চায় তারাও। দলের প্রতিনিধি হয়ে সংবাদ সম্মেলনে আসা পেসার শাহিন শাহ আফ্রিদি তো শুধু এই সিরিজ জয় নয়, আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপেও শিরোপা জিততে চান। ‘দেখুন, অতীত তো অতীতই। অতীতে যা ঘটেছে, ব্যক্তিগতভাবে আমি তা মনে রাখতে চাই না। আমাদের লক্ষ্য হলো বর্তমান ও ভবিষ্যতের দিকে তাকানো, কীভাবে আমরা নিজেদের প্রস্তুত করব এবং কীভাবে আমরা চ্যাম্পিয়নশিপ জিতব, তা আসলে শুধু একটি সিরিজের জন্য নয়। তাই দল হিসেবে আমাদের লক্ষ্য অনেক বড় এবং হ্যাঁ, আমরা তার জন্য প্রস্তুত।’

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত