
দুই বছর আগে রাওয়ালপিন্ডিতে সিরিজের দুটি টেস্টেই জিতে পাকিস্তানকে ধবলধোলাই করেছিল বাংলাদেশ। ঐতিহাসিক সেই জয়ের সুবাস নিয়েই গতকাল শুক্রবার মিরপুরে সিরিজের প্রথম টেস্টে মাঠে নামে টাইগাররা। তবে দিনের শুরুর গল্পটা পাকিস্তানের। অনেকটা সবুজ উইকেটে টস জিতে ফিল্ডিং বেছে নেয় তারা। সেখানে সূচনাও দারুণ। তবে এরপর দিনের বাকি অংশে দাপট দেখিয়েছে বাংলাদেশ।
আর তা এসেছেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত এবং সাবেক অধিনায়ক মুমিনুল হকের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে। তাতে মিরপুর টেস্টের প্রথম দিনটা কেবলই টাইগারদের। প্রথম দিনে ৮৫ ওভার খেলে বাংলাদেশের রান ৪ উইকেটে ৩০১। ১২ চার ও ২ ছক্কায় ১৩০ বলে ১০১ রান করে আউট হন শান্ত।
মুমিনুল থামেন শতরানের ৯ রান আগে। ঘাসের ছোঁয়া থাকা উইকেটে টস জিতে বোলিং নেয় পাকিস্তান। শুরুটাও খারাপ ছিল না তাদের। তবে এরপর আর উইকেটের ফায়দা সেভাবে তারা নিতে পারেনি। দিনজুড়ে যদিও উইকেটে পেসারদের সহায়তা কিছু ছিলই। তবে এখানে যে ভালো ব্যাটিংও করা যায়, তা দেখিয়েছেন শান্ত-মুমিনুলরা।
ম্যাচের শুরুটা ছিল শাহিন শাহ আফ্রিদির প্রথম দুই বলেই বাউন্ডারি দিয়ে। প্রথমটি মাহমুদুল হাসান জয়ের ফ্লিক শটে, পরেরটি লেগ বাই। ওই চার রানেই একটু পর আফ্রিদির বলে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে রক্ষা পান জয়। তবে আর চার রান যোগ করে আফ্রিদির বলে খোঁচা দিয়েই শেষ হয় তার ইনিংস। প্রথম পরিবর্ত বোলার হিসেবে আক্রমণে এসে হাসান আলি প্রথম বলেই ফেরান সাদমান ইসলামকে (১৩)।
টস জিতে বোলিং নেওয়ার সিদ্ধান্তকে তখন উপযুক্তই মনে হচ্ছিল। তবে বাংলাদেশ টস জিতলে নিত ব্যাটিং। সেই ভাবনার যৌক্তিকতাই প্রমাণ করে থাকেন মুমিনুল আর শান্ত। বিশেষ করে শান্ত যেন নিজের জাত চেনানোর মঞ্চ করে নেন এই উইকেটকেই। তার প্রথম দুটি বাউন্ডারি আসে অন ড্রাইভে। ক্রমেই দারুণ সব শট খেলে তিনি সরিয়ে দেন চাপ। আরেক প্রান্তে মুমিনুল হকও ক্রমে থিতু হয়ে ওঠেন। জমে ওঠে দুজনের জুটি।
দ্ইু বাঁহাতিকে থামাতে সালমান আলি আগার অফ স্পিন আক্রমণে আনা হয়। পরে বোলিংয়ে আসেন আরেক স্পিনার নোমান আলি। কিন্তু শান্তর পাল্টা আক্রমণে খেই হারান তারাও। অধিনায়ককে সঙ্গ দিয়ে যান মুমিনুল। শান্তর ফিফটি আসে ৭১ বলে, মুমিনুলের ১০১ বলে।
ফিফটির পর শান্তর ব্যাটের গতি বাড়ে আরও। পরের পঞ্চাশ করতে বল লাগে তার ৫৮টি। আব্বাসের বলে কাভার ড্রাইভে চার মেরে ক্যারিয়ারের নবম শতরানে পৌঁছান তিনি। সবশেষ পাঁচ টেস্টে তার সেঞ্চুরি হলো চারটি। মুশফিকুর রহিমকে (৪) ছাড়িয়ে বাংলাদেশের অধিনায়ক হিসেবে সবচেয়ে বেশি টেস্ট সেঞ্চুরিও এখন শান্তরই (৫টি)। সেঞ্চুরির পরের বলেই অবশ্য শেষ হয়ে যায় তার ইনিংস। আব্বাসের ভেতরে ঢোকা বলে এলবিডব্লিউ হয়ে যান তিনি। মুমিনুলের সঙ্গে শান্তর জুটিতে আসে ১৭০ রান, তৃতীয় উইকেটে যা পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ। অধিনায়কের বিদায়ের পর আরেকটি কার্যকর জুটি গড়ে তোলেন মুমিনুল ও মুশফিক। এই জুটিতে আসে ৭৫ রান।
মুমিনুল ফেরেন ২০০ বলে ৯১ রান করে। ক্যারিয়ারে প্রথমবার ৯০ ছুঁয়ে শতরানের আগেই আউট হলেন তিনি। চার ইনিংসের মধ্যে তিনবার ৮০ ছুঁয়েও তিন অঙ্কে যেতে পারলেন না। তার সবশেষ শতরানটি ছিল ২০ ইনিংস আগে। হতাশাময় দিনে মুমিনুলকে ফিরিয়ে কিছুটা স্বস্তির পরশ পান নোমান। স্পিনার হয়েও বিস্ময়করভাবে ৬টি নো বল করেছেন তিনি। রান গুনেছেন ওভারপ্রতি চার করে। বাংলাদেশের বিপক্ষে আগে দুই টেস্ট খেলেও উইকেট ছিল না তার। অবশেষে ৫০০ বল করার পর প্রথম উইকেটটি নিতে পারলেন ৩৯ বছর বয়সী স্পিনার। এরপর আর কোনো উইকেট হারায়নি বাংলাদেশ। দ্বিতীয় নতুন বলে সফল হয়নি পাকিস্তান। ৪৮ রানে অপরাজিত থেকে দিন শেষ করেন মুশফিক, তার সঙ্গী লিটন দাস। দ্বিতীয় দিনে প্রথম ঘণ্টা যদি নিরাপদে পার করে দিতে পারে এই জুটি, বড় স্কোরের আশা তখন করাই যায়।