
‘নাহ্, আক্ষেপ হয় না’, নির্লিপ্ত কণ্ঠেই বললেন মুমিনুল হক। ২০ মাসের সেঞ্চুরি খরা মেটানোর সুবাস পেয়েও শেষ পর্যন্ত হারিয়ে ফেলেছেন। গতকাল শুক্রবার সংবাদ সম্মেলনে তাকে প্রশ্ন করা হলো আক্ষেপ আছে কি না। তার উত্তর প্রত্যাশিতই ছিল। এসব ক্ষেত্রে খুব বেশি হাহুতাশ তার মধ্যে কখনোই দেখা যায়নি। তবে এবার তিনি সেখানেই না থেমে যোগ করলেন, “এতদিন আক্ষেপ হয়নি, আজকে একটু হালকা আক্ষেপ হয়েছিল। তাও বউয়ের কারণে, বউ হয়তো একটু গালি দিবেৃ এই আর কী!” তার কথা শুনে হাসির রোল পড়ে গেল সংবাদ সম্মেলন কক্ষে। তিনি নিজেও হাসলেন অল্প করে। সেই হাসির রেশ মেখেই বললেন, “সিরিয়াসলি বললে, আউট হয়ে আসার পর দুই-তিন মিনিট একটু খারাপ লাগছিল। এরপর আর কিছু না। আমার কাছে একশর চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো প্রতিদিন রান করা, প্রতিদিন দলের জন্য অবদান রাখা।” সেঞ্চুরি করতে পারেননি অল্পের জন্য। তবে যা করেছেন, তাতে পাকিস্তানের বিপক্ষে মিরপুর টেস্টের প্রথম দিনটি নিজেদের করে নিতে পেরেছে বাংলাদেশ। বড় এক জুটিতে তিনি সঙ্গ দিয়েছেন নাজমুল হোসেন শান্তকে। দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে সেঞ্চুরি করে দিনের নায়ক বাংলাদেশ অধিনায়ক। ১৩০ বলে ১০১ রানের ইনিংস খেলেছেন তিনি। ২০০ বলে ৯১ রান করে পার্শ্বনায়ক মুমিনুল। সবুজ উইকেটে দুই ওপেনারকে দ্রুত হারানোর পর ১৭০ রানের জুটি গড়েন দুজন। পাকিস্তানের বিপক্ষে তৃতীয় উইকেটে যা বাংলাদেশের সেরা। এই জুটি ভাঙার পর মুশফিকুর রহিমের সঙ্গে তিনি গড়েন ৭৫ রানের জুটি। সেটিই শেষ হয় তার বিদায়ে। নোমান আলির বলটি একটু নিচু হয়েছিল, তবে খুব দারুণ কিছু ছিল না। মুমিনুলই মুহূর্তের জন্য গড়বড় করে ফেলেন। এই সমস্যাটি তার বেশ হচ্ছে। আগের সিরিজেও দুই ইনিংসে ৮০ পেরিয়ে শতরান করতে পারেননি। এছাড়াও গত ২ বছরে ৪০-৫০ পেরিয়ে আউট হয়েছেন বারবার। মুমিনুল নিজেও বুঝতে পারছেন না, সমস্যা হচ্ছে কোথায়। “হতে পারে মনস্তাত্ত্বিক (সমস্যা)।
আমি এখনও ধরতে পারিনি। আশা করি, ধরে ফেলব। আমি যখন ব্যাটিংয়ে নামি, তখন ১০০ করার চিন্তা করি না বরং সেশন ধরে খেলার চিন্তা করি। সেশন ধরে খেললে ১০০-১৫০ এমনিই হয়ে যায়। হয়তো ওই জায়গায় আরেকটু কঠোর থাকতে হবে।” কয়েক মাস আগে অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে সাবেক কোচ চান্দিকা হাথুরুসিংহের সঙ্গে ব্যাটিং সেশন করে এসেছেন মুমিনুল। ৩৪ বছর বয়সী ব্যাটসম্যান জানালেন, সাবেক কোচের সঙ্গে যোগাযোগ হয় তার এখনও। কোনো ধরনের সমস্যায় পড়লেই সমাধান খোঁজেন তার কাছে।