ঢাকা বুধবার, ১৩ মে ২০২৬, ৩০ বৈশাখ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

মিরাজের ঘূর্ণিতে স্বস্তিতে দিন শেষ বাংলাদেশের

মিরাজের ঘূর্ণিতে স্বস্তিতে দিন শেষ বাংলাদেশের

মিরপুর টেস্টের ভাগ্য গড়াগড়ি খেলছে। একদিন বাংলাদেশের দিকে ঝুঁকছে তো পরের দিন পাকিস্তানের দিকে। নাজমুল হোসেন শান্ত এবং মুমিনুল হকের ব্যাটে প্রথম দিনটা দুর্দান্ত কাটলেও দ্বিতীয় দিনে বোলারদের ব্যর্থতায় খানিকটা হতাশায় পরিনত হয়েছে। ঠিক একই রকম পরিস্থিতির মুখে পাকিস্তানও। দুই অভিষিক্ত আজান আওয়াইস ও আব্দুল্লাহ ফজলের নৈপুণ্যে দ্বিতীয় দিনটা দারুন কাটলেও তৃতীয় দিনটা হতাশায় পরিণত হয়েছে সফরকারিদের জন্য। তাতে অবশ্য দায় আছে মেঘ-বৃষ্টিরও। তৃতীয় দিনে খেলায় বিঘ্ন ঘটলো দুইবার। প্রথমে মুষুলধারে বৃষ্টি। এরপর আলোকস্বল্পতা।

অফিসিয়াল সিদ্ধান্ত ছিল, পর্যাপ্ত আলো থাকলে সোয়া ৬টা পর্যন্ত চালানো যাবে খেলা। কিন্তু বিকাল সাড়ে ৫টায় লাইট মিটার দেখে আম্পায়াররা তুলে নিলেন বেলস। ফলে গতকাল রোববার দিনের খেলা শেষ হলো নির্ধারিত সময়ের আগেই। তাতে পাকিস্তানের অস্বস্তিতে পড়লেও বাংলাদেশের জন্য স্বস্তি। দ্বিতীয় দিন শেষে যে অস্বস্তি ছিল, তা মিলিয়ে গেছে তৃতীয় দিনে। রূপকার মেহেদী হাসান মিরাজ। তার ৫ উইকেটে বাংলাদেশ ৪১৩ রানের পুঁজি নিয়ে লিডও পেয়েছে। সফরকারীদের ৩৮৬ রানে আটকে দিয়ে বাংলাদেশ ২৭ রানের লিড পায়।

পরে দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করে বিনা উইকেটে ৭ রান তোলে স্বাগতিকরা। হাতে ১০ উইকেট রেখে ৩৪ রানের লিড বাংলাদেশ শিবিরে ফিরিয়েছে স্বস্তি। পাকিস্তানের বিপক্ষে দ্বিতীয় এবং সব মিলিয়ে টেস্ট ক্রিকেটে ১৪তম বার ৫ উইকেট পেয়েছেন মিরাজ। আগের দিনের এলোমেলো বোলিংয়ের হতাশা কাটিয়ে মিরপুর টেস্টে ঘুরে দাঁড়াল বাংলাদেশ। তবে পেস আক্রমণের ধার দিয়ে নয়, স্পিনের জাল বিছিয়ে। মেহেদী হাসান মিরাজের দারুণ বোলিংয়ে প্রথম ইনিংসে ধরা দিল ২৭ রানের লিড। ১ উইকেটে ১৭৯ রান নিয়ে দিন শুরু করে পাকিস্তান অলআউট হয় ৩৮৬ রানে। এক সময় যদিও লিড নেওয়ার পথেই এগোচ্ছিল তারা। তবে শেষ ৫ উইকেট হারিয়ে ফেলে ৩৭ রানের মধ্যেই। বাংলাদেশ তৃতীয় দিন শেষ করে কোনো উইকেট না হারিয়ে ৭ রানে। দুই ইনিংস মিলিয়ে এগিয়ে তারা ৩৪ রানে। বৃ্ষ্িটতে এ দিন খেলা বন্ধ ছিল দুই ঘণ্টা।

আগের দিনের একমাত্র উইকেট শিকারি মিরাজ এ দিন যোগ করেন আরও চার উইকেট। টেস্ট ক্যারিয়ারে চতুর্দশবার তিনি পেলেন ইনিংসে পাঁচ উইকেটের স্বাদ। আরেক স্পিনার তাইজুল ইসলামের প্রাপ্তি দুই উইকেট। সকালে দুটি উইকেট নিয়ে অবশ্য বাংলাদেশের ফেরার দুয়ার খুলে দেন তাসকিন আহমেদ। নাহিদ রানা খরুচে বোলিংয়ে একটি উইকেট নিতে পারেন ১০৪ রানে। তবে এর মধেও গতি ও বাউন্সে ব্যাটসম্যানদের নাড়িয়ে দেন কয়েক দফায়। বার তিনেক তার বল ছোবল দেয় ব্যাটসম্যানের হেলমেটে। দিনের শুরুটা পাকিস্তান করেছিল আগের দিনের রেশ নিয়েই। ৮৫ রানে দিন শুরু করা আজান আওয়াইস শতরানে পৌঁছে যান দিনের পঞ্চম ওভারে।

টেস্ট অভিষেকে বাংলাদেশের বিপক্ষে সেঞ্চুরি করা ষষ্ট ব্যাটসম্যান তিনি। ছয়জনের তিনজনই পাকিস্তানের। পাকিস্তানের টেস্ট ইতিহাসে অভিষেকে সেঞ্চুরি করা চতুর্দশ ব্যাটসম্যান এই ২১ বছর বয়সী বাঁহাতি। তখনও পর্যন্ত দারুণ খেলতে থাকা ওপেনার এরপরই মনোযোগ হারান। তাসকিনের বলে আলগা শটে ক্যাচ তুলে দেন তিনি স্লিপে (১৬৫ বলে ১০৩)। ১০৪ রানের জুটি ভাঙার পর উইকেট ধরা দেয় আরও তিনটি। টানা সাত ওভারের ওই স্পেলে পাকিস্তানি অধিনায়ক শান মাসুদকে ফেরান তাসকিন। এরপর মিরাজের পালা। সুইপের চেষ্টায় শূন্য রানেই বিদায় নেন সাউদ শাকিল। ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে মিড অনে ধরা পড়েন আব্দুল্লাহ ফাজাল। অভিষিক্ত বাঁহাতি ১২০ বলে করেন ৬০ রান। ২০ রানের মধ্যে ৪ উইকেট হারিয়ে তখন টালমাটাল পাকিস্তান। এর মধ্যেই সালমান আলি আগাকে শূন্য রানে আউট করে উল্লাসে মেতে ওঠেন তাসকিন। কিন্তু তাকে ও তার সতীর্থদের থামিয়ে দেয় আম্পায়ার উদ্যত এক হাত। নো বল!

সালমান বেঁচে গিয়ে শতরানের জুটি গড়েন মোহাম্মাদ রিজওয়ানের সঙ্গে। শুরুতে একটু নড়বড়ে থাকলেও পরে সাবলিল ব্যাটিংয়ে দলের রান বাড়ান দুজন। দ্বিতীয় নতুন বলেও পেসাররা পারেনি জুটিতে ফাটল ধরাতে। সফল হন শেষ পর্যন্ত তাইজুল ইসলাম। ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে আসা রিজওয়ানকে (৭৯ বলে ৫৯) ফেরান তিনি বুদ্ধিদীপ্ত ডেলিভারিতে। এরপরই বৃষ্টিতে বন্ধ থাকে খেলা। দুই ঘণ্টার বিরতিতে যেন ধার বেড়ে যায় বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণের। বিরতির পরপরই নাহিদ রানা থামান ৫৮ রান করা সালমানকে। নোমান আলি ও শাহিন শাহ আফ্রিদিকে ফিরিয়ে মিরাজ পূর্ণ করেন ৫ উইকেট। শেষ উইকেট নিয়ে ইনিংস শেষ করেন তাইজুল। শেষ বিকালের মরে আসা আলোয় বাংলাদেশের দুই ওপেনারের সামনে ছিল চ্যালেঞ্জ। তবে সেই পরীক্ষায় বেশি পড়তে হয়নি তাদের। ১.৫ ওভার পরই খেলার ইতি টানেন আম্পায়াররা। রানে বাংলাদেশ কিছুটা এগিয়ে থাকলেও ম্যাচ এখনও পুরোপুরিই ভারসাম্যপূর্ণ। চতুর্থ দিনে ব্যাটসম্যানদের দায়িত্ব ম্যাচ নিজেদের দিকে বয়ে আনার। আজ খেলা শুরু হবে ১৫ মিনিট আগে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত