
ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ডে বাংলাদেশের সেরা অ্যাথলেট ইমরানুর রহমান। ২০২৩ সালে এশিয়ান ইনডোর চ্যাম্পিয়নশিপে ৬০ মিটারে সেরা হয়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। গত বছর ৪৮তম জাতীয় অ্যাথলেটিকস চ্যাম্পিয়নশিপে সেরা স্প্রিন্টারের খেতাব জিতেছেন যুক্তরাজ্য প্রবাসী এই ক্রীড়াবিদ। দ্রুততম মানবের এই খেতাব ধরে রাখতে ইংল্যান্ড থেকে গত রোববার ঢাকা এসেছেন ইমরানুর। ১৭-১৯ মে ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ৪৯তম জাতীয় অ্যাথলেটিকস চ্যাম্পিয়নশিপ।
ইংল্যান্ডে নিজের কর্মস্থল থেকে তিনি ৯ দিনের ছুটি নিয়ে দেশে এসেছেন। জাতীয় স্টেডিয়ামে গতকাল সোমবার বেলা ১১টা থেকে দুই ঘণ্টা ট্র্যাকে ঘাম ঝরান ইমরানুর। যে করেই হোক শিরোপা ধরে রাখার প্রস্তুতিতে কোনো ঘাটতি রাখতে চান না তিনি। অনুশীলন শেষে বলেন, ‘আমার লক্ষ্য এখন একটাই-জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে সেরা নৈপুণ্য দেখানো ও দ্রুততম মানবের খেতাব ধরে রাখা।’ প্রতিযোগিতার প্রথম দিনেই ১০০ মিটার। ইমরানুর এবার ২০০ মিটারেও অংশ নিতে পারেন।
গত বছর ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত ৪৮তম জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে ইমরানুর খেলতে পারেননি চোটের কারণে। তার অনুপস্থিতিতে দেশের দ্রুততম মানবের খেতাব পুনরুদ্ধার করেন মোহাম্মদ ইসমাইল। তবে গত বছর আগস্টে জাতীয় সামার অ্যাথলেটিকসে ইমরানুর আবার ট্র্যাকে ফেরেন এবং ১০০ মিটারে শ্রেষ্ঠত্ব ফিরে পান। যদিও সেবার তার টাইমিং ছিল ১০.৬৪ সেকেন্ড (ইলেকট্রনিক)। এবার ইমরানুর চাইছেন যতটা সম্ভব টাইমিংয়ের উন্নতি ঘটিয়ে ১০০ মিটার জিততে।
২০২৪ প্যারিস অলিম্পিকের পর থেকেই ফিটনেস নিয়ে কিছুটা জটিলতায় ভুগছিলেন ইমরানুর। তবে বর্তমানে নিজের শারীরিক অবস্থা নিয়ে বেশ আত্মবিশ্বাসী তিনি। এ প্রসঙ্গে ইমরানুর বলেন, ‘বর্তমানে ফিটনেস ঠিক আছে, বড় কোনো সমস্যা নেই। আশা করি জাতীয় প্রতিযোগিতায় ভালো করব এবং ১০০ মিটারে জিতব।’ এবারও বাংলাদেশ নৌবাহিনীর হয়ে চ্যাম্পিয়নশিপে লড়বেন তিনি। ইংল্যান্ডের শেফিল্ডে জন্ম ও বেড়ে ওঠা ৩২ বছর বয়সী এই স্প্রিন্টার ২০২২ সালে প্রথমবার বাংলাদেশের অ্যাথলেটিকসে অংশ নিয়েই রেকর্ড গড়ে স্বর্ণ জেতেন। ২০২৩ সালে এশিয়ান ইনডোরে ৬০ মিটারে স্বর্ণ জিতে ইতিহাস গড়েন ইমরানুর, যা এশীয় পর্যায়ে বাংলাদেশের জন্য ছিল এক বিশাল প্রাপ্তি। এরপর অবশ্য আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় নিজেকে সেভাবে মেলে ধরতে পারেননি। সম্প্রতি পোল্যান্ডে বিশ্ব ইনডোরে ৩৭তম হন তিনি; যেখানে ৬.৭১ সেকেন্ড সময় নিয়ে দৌড় শেষ করেন। যদিও এই টাইমিং তাকে সেমিফাইনালের টিকিট এনে দিতে পারেনি। চীনের তিয়ানজিনে গত ফেব্রুয়ারিতে ১২তম এশিয়ান ইনডোর চ্যাম্পিয়নশিপে ৬০ মিটার স্প্রিন্টে সেমিফাইনাল থেকে বাদ পড়েন তিনি। সেমিফাইনালে ৬.৭৫ সেকেন্ড সময় নিয়ে আটজনের মধ্যে তৃতীয় হয়ে ফাইনালের দৌড় থেকে ছিটকে যান এই স্প্রিন্টার।