ঢাকা শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

ভারত সিরিজ নিয়ে আশাবাদী তামিম

ভারত সিরিজ নিয়ে আশাবাদী তামিম

বাংলাদেশ ক্রিকেটের সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাগুলোর একটি ছিল ভারতে অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশ না নেওয়া। এ সিদ্ধান্তকে ঘিরে ক্রিকেট অঙ্গনে যেমন বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, তেমনি দুই দেশের ক্রিকেট বোর্ডের সম্পর্ক নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল। দীর্ঘদিন পর এই ইস্যুতে বিস্তারিতভাবে নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক এবং বর্তমানে বিসিবির অ্যাডহক কমিটির প্রধান তামিম ইকবাল। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়াকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি পুরো ঘটনাকে বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের জন্য হতাশাজনক বলে উল্লেখ করেন এবং মনে করেন, বিষয়টি আরও পরিপক্বভাবে সামাল দেওয়া যেত।

বিসিবি প্রধান তামিম বলেন, ‘টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বিষয়টি যখন ঘটেছিল, তখন আমিই সম্ভবত প্রথম ব্যক্তি ছিলাম যে প্রকাশ্যে কথা বলেছিল। আগের বোর্ড যেভাবে এটি সামলেছে, তা ঠিক হয়নি। আইসিসি নমনীয় ছিল এবং সমাধানের জায়গা ছিল। আমাদের সেই সমাধানের একটা পথ বের করা উচিত ছিল।’ তামিমের মতে, বিশ্বকাপের মতো একটি বড় মঞ্চ থেকে সরে দাঁড়ানো শুধুমাত্র ক্রিকেটীয় সিদ্ধান্ত নয়, এটি দেশের ক্রিকেট সংস্কৃতি ও নতুন প্রজন্মের স্বপ্নের সঙ্গেও জড়িত। তিনি ১৯৯৭ সালের আইসিসি ট্রফি জয়ের স্মৃতিচারণ করেন এবং বলেন, সেই অর্জনই বাংলাদেশের ক্রিকেটকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিল, ‘মানুষ রাস্তায় নেমে উদযাপন করেছিল। সেই জয় পুরো একটি প্রজন্মকে ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্ন দেখিয়েছিল। সবাই মিনহাজুল আবেদীন নান্নু, খালেদ মাহমুদ বা আকরাম খানের মতো হতে চাইতো। অথচ আমরা যথাযথ আলোচনা ছাড়াই একটি বিশ্বকাপের সুযোগ হারিয়ে ফেললাম।’

বিশ্বকাপ ইস্যুর পর ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড ও বিসিবির সম্পর্কের অবনতি নিয়ে নানা আলোচনা তৈরি হয়েছিল। এমনকি চলতি বছরে বাংলাদেশের মাটিতে নির্ধারিত বাংলাদেশ-ভারত সিরিজ নিয়েও অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। তবে তামিম এ ব্যাপারে আশাবাদী। তিনি মনে করেন, ক্রিকেটীয় সম্পর্কের সংকট থাকলেও তা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব। তিনি বলেন, ‘এ বছর ভারতের বিপক্ষে একটি নির্ধারিত সিরিজ রয়েছে। আমি খুব আশাবাদী যে ভারত বাংলাদেশে এসে পুরো সিরিজ খেলবে। এটি এমন একটি দ্বিপাক্ষিক সিরিজ, যা বাংলাদেশের মানুষ সত্যিই উপভোগ করে। দর্শকরা মাঠে আসে এবং দারুণ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ক্রিকেট দেখা যায়। ভারতের বিপক্ষে সর্বশেষ সিরিজে বাংলাদেশ খুব ভালো খেলেছিল। এই দুই দেশ যখনই খেলে, বিশেষ করে ভারত যখন বাংলাদেশ সফরে আসে, তখন সেটি সবসময়ই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়।’

বাংলাদেশ-ভারত ক্রিকেট সম্পর্ক প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘আমি মনে করি না ভারত ও বাংলাদেশের ক্রিকেট নিয়ে কোনো সমস্যা আছে। যদি কোনো সমস্যা থেকেও থাকে, আলোচনা করে তা সমাধান করতে পারি। আমি খুব আশাবাদী যে ভারত বাংলাদেশ সফরে আসবে।’ তামিমের মতে, ক্রিকেট বোর্ডগুলোর প্রধান দায়িত্বই হলো সংকট নিরসনের পথ খুঁজে বের করা। তিনি বলেন, ‘আমি খুবই আশাবাদী। সমস্যা সবসময়ই থাকবে এবং সেগুলো সমাধান করার দায়িত্ব ক্রিকেট বোর্ডগুলোর। এখন আমাদের নতুন ক্রিকেট বোর্ড আছে, একটি অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়েছে, আর আমি নিশ্চিত যোগাযোগ ও আলোচনা চলবে। দিন শেষে ক্রিকেটেরই জয় হওয়া উচিত। অন্য যাই হোক না কেন, ক্রিকেটের জয় হওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং আমি সেজন্যই কাজ করতে চাই।’ সাক্ষাৎকারে তামিম নিজের ক্রিকেট ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েও খোলামেলা কথা বলেন। তিনি জানান, গত বছরের হার্ট অ্যাটাক তার জীবনের একটি বড় টার্নিং পয়েন্ট ছিল। তখনও জাতীয় দলে ফেরার পরিকল্পনা ছিল তার। কিন্তু শারীরিক অবস্থার অবনতি এবং মানসিক চাপ তাকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করে।

তামিম বলেন, ‘গত বছরের হার্ট অ্যাটাকটা আমার জন্য টার্নিং পয়েন্ট ছিল। তখন জাতীয় দলে ফেরার চেষ্টা করছিলাম। আর যখন হার্ট অ্যাটাক হলো, তখন মনে হয়েছিল এখানেই সব শেষ। হার্ট অ্যাটাকের পর আমি মনে করি না, এটা চালিয়ে গেলে সার্থক হতো। কারণ খেললেও হয়তো আরও এক-দুই বছরই খেলতে পারতাম।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত