
বাংলাদেশ ক্রিকেটে একসময় অস্ট্রেলিয়া সফর মানেই ছিল অভিজ্ঞতা অর্জনের গল্প! সেখানে এখন উচ্চারিত হচ্ছে জয়ের স্বপ্ন। শুধু একটি টেস্ট নয়, পুরো সিরিজ জয়ের কথাও ভাবছে বাংলাদেশ দল। সেই স্বপ্নের ভাষাটা সবচেয়ে স্পষ্টভাবে শোনা গেল ওপেনার মাহমুদুল হাসান জয়ের কণ্ঠে। সবশেষ ২০০৩ সালে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলেছিল বাংলাদেশ। দীর্ঘ ২৩ বছর পর আবারও সেখানে ফিরছে টাইগাররা। আগামী আগস্টে ডারউইন ও ম্যাকাইয়ে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলবে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। ইতিহাস বলছে, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের একমাত্র টেস্ট জয়টি এসেছে ২০১৭ সালে মিরপুরে। তবে এবার ভাবনাটা আরও বড়।
গতকাল রোববার সংবাদ সম্মেলনে জয় যেন সেই বদলে যাওয়া বাংলাদেশের আত্মবিশ্বাসই তুলে ধরলেন। তিনি বলেন, ‘সবারই আশা থাকে অস্ট্রেলিয়ায় খেলার। অস্ট্রেলিয়ায় যদি আমরা একটা টেস্ট জিততে পারি, তাহলে এটা ইতিহাস হয়ে থাকবে।’ বাংলাদেশের সাম্প্রতিক টেস্ট পারফরম্যান্সও সেই স্বপ্ন দেখার সাহস জোগাচ্ছে। পাকিস্তানের মাটিতে টেস্ট সিরিজ জয়ের পর ঘরের মাঠেও একই প্রতিপক্ষকে হারিয়েছে বাংলাদেশ। ধারাবাহিক এই সাফল্য দলের মানসিকতায় বড় পরিবর্তন এনেছে বলে মনে করেন জয়। জয় বলছিলেন, ‘পাকিস্তান সিরিজ থেকে আত্মবিশ্বাস অবশ্যই আমাদের দলকে অনেক অনুপ্রাণিত করবে, কারণ ওদের দেশে গিয়ে আমরা ওদের সাথে দুইটা টেস্ট জিতেছি এবং এবার আমরা আমাদের মাটিতে ওদের সাথে দুইটা টেস্ট জিতেছি। এটা আমাদের পরবর্তী টেস্ট সিরিজের জন্য খুবই উৎসাহ জোগাবে।’ একসময় দেশের মাটির ধীর উইকেট নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও সাম্প্রতিক সময়ে স্পোর্টিং উইকেটে খেলেই সাফল্য পেয়েছে বাংলাদেশ। বাউন্স, গতি আর রান-সব মিলিয়ে বদলে যাওয়া সেই পরিবেশই অস্ট্রেলিয়ার প্রস্তুতিতে কাজে দেবে বলে বিশ্বাস জয়ের। জয় বলেন, ‘দেখুন, আমরা গত ৪-৫টা সিরিজ যখন আমরা দেশের মাটিতে খেলেছি, খুব ভালো স্পোর্টিং উইকেট ছিল। বাউন্স খুব ভালো ছিল, উইকেটে রান হয়েছে, বোলারেরাও উইকেট নিয়েছে। সুতরাং এটা খুব ইতিবাচক দিক যে আমরা অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে যদি এই ধরনের উইকেট পাই, আমাদের জন্য খুব ভালো হবে।’ বাংলাদেশ এখন আর কেবল প্রতিপক্ষের ভুলের অপেক্ষায় থাকা দল নয়-এমন বিশ্বাসও স্পষ্ট জয়ের কথায়। তার মতে, ব্যাটাররা রান তুলতে পারলে বোলারদের সামর্থ্য যেকোনো শক্তিশালী দলকে চাপে ফেলতে পারে, ‘এখন আমরা যে পর্যায়ে আছি, আমরা কিন্তু যেকোনো দলের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার মতোই সক্ষম। আমরা যদি ব্যাটসম্যানরা স্কোরবোর্ডে ভালো রান তুলতে পারি, তাহলে আমাদের যে মানসম্মত বোলার আছে, ওরা যেকোনো প্রতিপক্ষকে কঠিন সময়ের মুখোমুখি করতে পারবে।’ অস্ট্রেলিয়া সফরের প্রস্তুতিও শুরু হয়ে গেছে। ঈদের পর টেস্ট দলকে নিয়ে বিশেষ অনুশীলন ক্যাম্প করার পরিকল্পনা রয়েছে। সেখানে বাড়তি বাউন্সে খেলার প্রস্তুতিতে জোর দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন জয়। তিনি বলেন, ‘আমাদের হয়ত ঈদের পরে টেস্ট দলকে নিয়ে একটা অনুশীলন ক্যাম্প থাকবে। সেখানে কোচরা যে পরিকল্পনা দেবেন, সেই অনুযায়ী কাজ করব। সেখানে হয়ত বাড়তি কিছুটা বাউন্স থাকবে, ওই প্রস্তুতিটা হয়ত আমরা এখানেই নেওয়ার চেষ্টা করব আরকি।’ বাংলাদেশ দলের ড্রেসিংরুমেও এখন আত্মবিশ্বাসের বাতাস। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর নেতৃত্বে ক্রিকেটাররা মানসিক স্বাধীনতা পাচ্ছেন বলেই মনে করেন জয়। নিজের সাম্প্রতিক ব্যর্থতার সময়ও অধিনায়কের সমর্থন তাকে আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছে, ‘উনি (শান্ত) সবসময় খুব সাপোর্টিভ। যেমন আমি গত তিনটা ইনিংসে রান করতে পারি নাই, উনি আমাকে সবসময় বলেছেন যে, ‘তুই খেলবি, তুই ভালো করে খেল, রান কর, স্বাধীনভাবে খেল।’ উনি সবাইকে খুব সমর্থন করেন, খুবই সহায়ক।’ মাঠের বাইরের আত্মবিশ্বাস যেমন বেড়েছে, তেমনি মাঠেও নিজেদের আলাদা করে প্রস্তুত করছেন ক্রিকেটাররা। সিলেট টেস্টে শর্ট লেগে দাঁড়িয়ে শান মাসুদের ক্যাচ নেওয়ার মুহূর্তটি নিয়ে উচ্ছ্বাস লুকাননি জয়। সেই ক্যাচের পেছনেও ছিল দীর্ঘ প্রস্তুতি, ‘না, আসলে আমি একদম শুরু আগে থেকেই শর্ট লেগের জন্য প্রস্তুত হচ্ছিলাম। মানে এটা একটা দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া ছিল যে টেস্টের আগে থেকে আমি অনুশীলন করে আসছিলাম। একটা ক্যাচের অপেক্ষায় ছিলাম, ওই মুহূর্তে খুব ভালো একটা মুহূর্তে একটা ক্যাচ ধরাতে একটু বেশি এক্সাইটেড ছিলাম।’