ঢাকা সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

বিশ্বকাপে লর্ডসে খেলার সুযোগ পেয়ে রোমাঞ্চিত টাইগ্রেসরা

নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ
বিশ্বকাপে লর্ডসে খেলার সুযোগ পেয়ে রোমাঞ্চিত টাইগ্রেসরা

দুয়ারে কড়া নাড়ছে মেয়েদের আরেকটি বিশ্বকাপ। আগামী ১২ জুন ইংল্যান্ডে বসছে নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আসর। আইসিসির এই মেগা ইভেন্টে অংশ নিতে গতকাল রোববার রাতে দেশ ছাড়বে বাংলাদেশ নারী দলের প্রথম বহর। নিগার সুলতানা জ্যোতির দল এবারই প্রথম ঐতিহাসিক লর্ডসে গ্রুপপর্বের একটি ম্যাচ খেলার সুযোগ পাবে। যে কারণে বেশ রোমাঞ্চিত টাইগ্রেস অধিনায়ক। গত বিশ্বকাপের সেই দৃশ্যটি এখনও হয়তো চোখে ভাসতে পারে অনেকের। প্রথম ম্যাচে স্কটল্যান্ডকে হারানোর পর মাটিতে মাথা নুইয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন নিগার সুলতানা। বিশ্বকাপে ১০ বছর ও ১৬ ম্যাচের জয়খরা কাটিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছিলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। তবে সেই আনন্দাশ্রু দ্রুতই রূপ নিয়েছিল হতাশার বর্ষণে। পরের তিন ম্যাচেই হেরে গ্রুপ থেকে বিদায় নিয়েছিল তারা।

খুব বিস্ময়ের কিছু অবশ্য ছিল না। বরং অনুমিত ও নিয়মিত চিত্রই এটি। আইসিসি নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ছয় আসরে ২৫ ম্যাচ খেলে বাংলাদেশের জয় মাত্র তিনটি। তবে সেই গল্পই এবার বদলে দিতে চান নিগার। এবারের বিশ্বকাপে দুটি ম্যাচ তো নিশ্চিতভাবেই জিততে চান বাংলাদেশ অধিনায়ক, সুযোগ দেখছেন এমনকি তিনটি জয়ের। স্কটল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজ এবং এরপর ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠেয় বিশ্বকাপ খেলতে সোমবার ঢাকা ছাড়বেন নিগার ও তার সতীর্থরা। দেশ ছাড়ার আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে নিগার শোনালেন দলের লক্ষ্য। দলে এখন পারফরমার অনেক বেশি বলে লক্ষ্য পূরণেও বিশ্বাসও বেশি অধিনায়কের। ‘গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দুবাইয়ে একটি ম্যাচ জিতেছিলাম আমরা। আরও ভালো কিছু ম্যাচ খেলেছিলাম, কিন্তু ম্যাচ জিততে পারিনি। এবার আরও বেশি সম্ভাবনা আছে জয়ের সংখ্যা বাড়িয়ে তোলার। কারণ, টি-টিায়েন্টিতে এখন অনেক পারফরমার যোগ হয়েছে, যেটা আগে ছিল না। আগে দুই-একটা ক্রিকেটারের ওপরই নির্ভর করতে হতো, এখন কিছু ক্রিকেটার এগিয়ে আসছে। ক্রিকেটারদের ভেতর সেই ক্ষুধাটা আছে যে, বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে আমরা শুধু ভালো খেলতেই নয়, ম্যাচ জিততেও চাই।’

জ্যোতি বলেন, ‘সেদিক থেকে চিন্তা করলে এবার আরও দুই থেকে তিনটি ম্যাচ জয়ের ভাবনা আমাদের আছে। কিছু ক্রিকেটার এখন আছে, অনেক বেশি ধারাবাহিক, বিশেষ করে টি-টোয়েন্টিতে অনেক ভালোভাবে ক্রিকেট খেলছে ব্যক্তিগতভাবে। যদি সম্মিলিতভাবে ক্রিকেট খেলতে পারি, গত অনেক বিশ্বকাপের চেয়ে ভালো ফল পাব।’ সেই দুই-তিনটি জয়ের লক্ষ্য কোন কোন দলের বিপক্ষে, সুনির্দিষ্ট করেই জানালেন অধিনায়ক। ‘দুটি ম্যাচে আমাদের অনেক বেশি সুযোগ জয়ের, একটি নেদারল্যান্ডস, আরেকটি পাকিস্তান। ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে আমাদের ম্যাচ জয়ের অভিজ্ঞতা আছে। ম্যাচ বাই ম্যাচ এগিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনাই আমাদের আছে। বিশেষ করে আমি যেটা বলব, শুরুটা যদি ভালো করতে পারি, মোমেন্টাম তৈরি করতে পারলে তা আমাদের সহায়তা করবে। যে গ্রুপে আমরা আছি, আমাদের সম্ভাব্য সেরা সুযোগ আছে তিনটি ম্যাচ জয়ের।’

বিশ্বকাপের আগে এবার লম্বা ক্যাম্প করেছে বাংলাদেশ দল। কিছুদিন আগে খেলেছে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজ। বিশ্বকাপের ঠিক আগে স্কটল্যান্ডে খেলবে ত্রিদেশীয় সিরিজ। এবার প্রস্তুতিতে তাই কোনো ফাঁক দেখছেন না নিগার। ‘প্রত্যেকবার আইসিসি টুর্নামেন্টের সময় আমরা আন্তর্জাতিক সিরিজ বা ওরকম কোনো প্রস্তুতি পেতাম না একদমই। এটা আমাদের একটা অভিযোগ ছিল। এবার আমাদের সেটা নেই। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তিনটি ম্যাচ খেলেছি, সামনে ত্রিদেশীয় সিরিজে চারটি ম্যাচ খেলব। আমাদের জন্য এর চেয়ে বড় ও আদর্শ প্রস্তুতি আর হতে পারে না। তাছাড়া আইসিসির দুটি অনুশীলন ম্যাচ আছে।’ ‘যথেষ্ট ভালো প্রস্তুতিই হবে দলের জন্য। বড় টুর্নামেন্টের আগে কম্বিনেশন ঝালিয়ে নেওয়ার জন্য আমাদের যথেষ্ট সময় থাকবে দলে।’

নিগারের মতে, বিশ্বকাপে ভালো করতে পারলে দেশের নারী ক্রিকেট নিয়ে গোটা বিশ্বে ইতিবাচক বার্তা যেমন ছড়াবে, তেমনি বিশ্বজুড়ে ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগগুলোয় বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের সুযোগ মিলবে। ‘আমাদের জন্য সবচেয়ে বড় সুযোগ। আমরা যেমন দল, আমাদের এক্সপোজার অনেক কম থাকে। বিশ্বকাপের মতো মঞ্চ সবচেয়ে বড় স্পট লাইট বলা যেতে পারে, বিশ্বক্রিকেটের সবার নজর থাকে যেখানে। এসব জায়গায় যখন ভালো পারফর্ম করি, তখন দল নিয়ে অনেক আলোচনা হয়। ক্রিকেটাররা ব্যক্তিগতভাবে ভালো করলেও তাদের জন্য বিভিন্ন সুযোগ আসে। সেদিক থেকে দলের জন্য অনেক বড় সুযোগ। দলের সবাই ইতিবাচক মানসিকতায় আছে বর্তমানে। এই দল যদি বিশ্বকাপে ভালো ক্রিকেট খেলতে পারে, বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটের জন্য অনেক ভালো হবে, ব্যক্তিগতভাবেও ক্রিকেটাররা অনেক লাভবান হবে।’

দলকে ভালো করতে হলে অধিনায়কের নিজের জ্বলে ওঠা জরুরি। নিগারের ব্যাট প্রত্যাশার সুরে তাল মেলাতে পারছে না অনেক দিন ধরেই। দলের সবচেয়ে অভিজ্ঞ ক্রিকেটার হলেও এই সংস্করণের দাবি তিনি মেটাতে পারছেন না। তবে বিশ্বকাপের আগেই নিজেকে ফিরে পেতে আত্মবিশ্বাসী ২৮ বছর বয়সী কিপার-ব্যাটার। ‘আমি যেখানে ব্যাটিং করি, সেটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটি জায়গা। গত দুই বছর বা তিন বছর ধরেৃ বলতে পারেন, পুরো ক্যারিয়ারে যেভাবে ব্যাট করে আসছি, গত কিছুদিনে হয়তোবা পারিনি। তবে নিজের ওপর আমার বিশ্বাস আছে, টিম ম্যানেজমেন্টেরও আছে। গত কিছুদিন ধরে যেভাবে অনুশীলন করছি, এখন একটা মোমেন্টামের অপেক্ষা। সামনে যে ত্রিদেশীয় সিরিজ আছে, চেষ্টা করব সেখানে নিজেকে আগের মতো করে দেখতে।’ ‘প্রত্যেকবার আমরা দেখতে পাচ্ছি, দু-এক জায়গার ঘাটতির কারণে ম্যাচ জিততে পারছি না। দলের জয়ের জন্য আমার পারফরম্যান্স অনেক গুরুত্বপূর্ণ। সামনে তাকিয়ে আছি যেন আমার খেলাটা আমি খেলতে পারি।’

এবারের বিশ্বকাপ শুরু ১২ জুন। বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচ ১৪ জুন বার্মিংহামে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত