ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১১ আষাঢ় ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

নেইমারকে নিয়েই স্কটল্যান্ডের মুখোমুখি হচ্ছে ব্রাজিল

নেইমারকে নিয়েই স্কটল্যান্ডের মুখোমুখি হচ্ছে ব্রাজিল

বিশ্বকাপের গত কয়েক আসর ধরেই ব্রাজিলের সবচেয়ে বড় তারকাদের একজন নেইমার জুনিয়র। চলমান উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপেও আলোচনায় এই তারকা। তবে চোটের কারণে দলের প্রথম দুই ম্যাচে মাঠে নামা হয়নি তার। নেইমারকে ছাড়াই মরক্কোর বিপক্ষে ড্র করে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করেছিল ব্রাজিল। ম্যাচের ফলাফলের মতো মাঠে তাদের খেলার মানও ছিল হতাশাজনক। পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নদের খেলায় ছিল না ধার, ছিল না সৃষ্টিশীলতা। পরের ম্যাচে হাইতিকে ৩-০ গোলে হারিয়ে তারা বার্তা দেয় ঘুরে দাঁড়ানোর। তবে আদতেই তারা নিজেদের ফিরে পেয়েছে কি না, সেটির প্রমাণ মিলবে সামনের পথচলায়। সেখানে তাদের সামনে এখন স্কটল্যান্ড। বাংলাদেশ সময় আজ ভোর ৪টায় শুরু হবে ম্যাচটি।

এ ম্যাচে সেলেসাওদের জার্সিতে দেখা যাবে এই অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ডকে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি। নিউজার্সিতে খারাপ আবহাওয়ার কারণে মায়ামিগামী ফ্লাইট প্রায় তিন ঘণ্টা বিলম্বিত হওয়ায় নির্ধারিত সময়ের পরে সংবাদ সম্মেলনে আসেন আনচেলত্তি। তবে কাফ ইনজুরি নিয়ে দলের বাইরে থাকা নেইমারকে এই ম্যাচে পাওয়া নিয়ে খুশি এই কোচ, নেইমার ফিট আছে। খেলার জন্য প্রস্তুত সে। এই সপ্তাহে সে ভালো অনুশীলন করেছে। তার মতো উচ্চ মানের খেলোয়াড়কে দলে ফেরত পেয়ে আমরা সবাই আনন্দিত’। বিভিন্ন রকম চোটের কারণে ২০২৩ সালের শেষ দিকের পর আর হলুদ জার্সিতে দেখা যায়নি নেইমারকে। এত লম্বা সময় পর ফেরা নেইমার কতক্ষণ খেলতে পারেন, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে আশার বাণীই শুনিয়েছেন ব্রাজিল দলের এই ইতালীয় কোচ, ‘সে অর্ধেক ম্যাচ খেলতে পারে, আবার পুরো ৯০ মিনিটও খেলতে পারে। দলে ফিরতে সে কঠোর পরিশ্রম করেছে’।

গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে নেইমারের অভিজ্ঞতা দলের কাজে দেবে বলে বিশ্বাস আনচেলত্তির, ‘সে খুব ভালো অবস্থায় আছে। তার মতো দল অন্তঃপ্রাণ খেলোয়াড়কে আমরা যত দ্রুত সম্ভব ফিরে পেতে চাই। নেইমারের স্কিল ও অভিজ্ঞতা আমাদের কাজে দেবে’। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হতে হলে স্কটল্যান্ডকে হারাতে হবে ব্রাজিলকে। ‘সি’ গ্রুপে চার পয়েন্ট নিয়ে গোল ব্যবধানে শীর্ষে রয়েছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। সমান পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছে মরক্কো, যারা একই সময়ে খেলবে হাইতির বিপক্ষে।

ব্রাজিলের জার্সিতে নেইমার সর্বশেষ ম্যাচ খেলেছেন সেই ২০২৩ সালের ১৭ অক্টোবর। এরপর চোটে পেরিয়ে গেছে লম্বা সময়। নেইমারের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার তো বটেই, পেশাদার ক্লাব ক্যারিয়ারেও পড়ে গিয়েছিলো বড় সংশয়। ক্রমশ যেন নেইমার হয়ে পড়ছিলেন সর্বোচ্চ মঞ্চ থেকে ছিটকে পড়া তারা, মিইয়ে যাওয়া নাম।

সৌদি প্রো লিগ থেকে ফিরে এসেছিলেন শৈশবের ক্লাব সান্তোসে। ব্রাজিলের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতাকে সেরার মঞ্চ থেকে অনেক দূরে ভাবছিলেন সবাই।

বিশ্বকাপ স্কোয়াডে তার জায়গা পাওয়া ছিলো বড় এক প্রশ্নের মুখে। শেষ পর্যন্ত নান্দনিকতার নস্টালজিয়ার প্রভাব আর আবেগের স্রোতও কাজ করেছে তীব্র। শতভাগ ফিট না থাকলেও ‘পেশাদার’ কার্লো আনচেলত্তি এড়াতে পারেননি নেইমারের নাম। নেইমারের চোট জর্জর ক্যারিয়ারের সর্বশেষ সংযোজন পাঁচ সপ্তাহ আগে পাওয়া কাফ মাসলের আঘাত।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত