
ঠিক যেন শেষ ষোলোর ম্যাচের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটালো স্পেন। পর্তুগালের বিপক্ষে সে ম্যাচের শেষদিকে বদলি হিসেবে নেমে স্প্যানিশদের কোয়ার্টার ফাইনালের টিকেট পাইয়ে দিয়েছিলেন মিকেল মেরিনো। শেষ আটের লড়াইয়ে একই ভূমিকায় অবতীর্ণ হলেন এ মিডফিল্ডার। শেষ মুহুর্তে মাঠে নেমে দুর্দান্ত এক বেলজিয়ামের স্বপ্নযাত্রা থামিয়ে স্পেনকে সেমিফাইনালে পৌঁছে দিলেন মেরিনো। বাংলাদেশ সময় শুক্রবার (১০ জুলাই) রাতে লস অ্যাঞ্জেলসে অনুষ্ঠিত উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপের দ্বিতীয় কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামকে ২-১ গোলে হারিয়েছে সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা।
২০১০ সালে একমাত্র বিশ্বকাপ শিরোপা জয়ের ১৬ বছর পর শেষ চারে জায়গা করে নিয়েছে স্পেন। ২০১৪ সালে গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নেয়ার পর গত দুটি আসরে তাদের যাত্রা থেমেছিল শেষ ষোলোতে। সে ব্যর্থতার বৃত্ত ভেঙে এবার তাদের লক্ষ্য শিরোপা পুনরুদ্ধার করা।
তবে ফাইনালে উঠতে হলে কঠিন পরীক্ষা দিতে হবে স্পেনকে। আগামী মঙ্গলবার রাতে অনুষ্ঠেয় হাইভোল্টেজ সেমিফাইনালে ডালাসে তারা মুখোমুখি হবে ফ্রান্সের, যারা টানা তৃতীয় বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলার স্বপ্নে বিভোর হয়ে আছে। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা ৩৬ ম্যাচে অপরাজিত থাকার আত্মবিশ্বাস সঙ্গী করে, ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে ফ্রান্সের মুখোমুখি হবে স্প্যানিশরা। প্রত্যাশিতভাবেই শুরু থেকে বেশিরভাগ সময় বল দখলে রেখে খেলতে থাকে স্পেন। যদিও আক্রমণে তেমন আহামরি কিছু করতে পারছিল না তারা। দশম মিনিটে একটি সেট পিসের পর ডি-বক্সে ফাঁকায় বল পেয়ে যান রদ্রি, তার শট রক্ষণে প্রতিহত হয়। ১১ মিনিট পর, ডি-বক্সের বাইরে জায়গা বানিয়ে শট নেন লামিন ইয়ামাল, যেটা লক্ষ্যে ধারেকাছেও ছিল না।
৩০তম মিনিটে লক্ষ্যে প্রথম শটেই সাফল্য পেয়ে যায় স্পেন। ডানদিকে ইয়ামালের দারুণ পাস পেয়ে ডি-বক্সে দানি ওলমোকে খুঁজে নেন পেদ্রো পররো, প্রথম ছোঁয়ায় ওলমোর শট ঝাঁপিয়ে আটকে দেন কোর্তোয়া, ফিরতি বল ফাঁকায় পেয়ে জোরাল শটে বিশ্বকাপে প্রথম জালের দেখা পান রুইস। পাঁচ মিনিট পর, ডি-বক্সের বাইরে ইয়ামাল ফাউলের শিকার হলে বিপজ্জনক জায়গায় ফ্রি কিক পায় স্পেন। তরুণ ফরোয়ার্ডের শট রক্ষণ দেয়ালের বাধা এড়িয়ে লক্ষ্যেই ছিল, ঝাঁপিয়ে ঠেকান কোর্তোয়া।
এর কিছুক্ষণ পরই সমতায় স্বস্তি ফিরে বেলজিয়ান শিবিরে। ৪১তম মিনিটে ডান দিক থেকে টিমোটি ক্যাস্তানির দারুণ ক্রস ছয় গজ বক্সের বাইরে পেয়ে, নিখুঁত হেডে গোলটি করেন ডে কেটলারে। প্রথমার্ধে তাদের দুই শটের এটাই কেবল লক্ষ্যে ছিল। বিশ্বকাপে ১০ ঘণ্টা ৪৯ মিনিট পর স্প্যানিশদের জালে বল জড়াল। টানা দ্বিতীয় ম্যাচে জালের দেখা পেলেন এ ফরোয়ার্ড। শেষ ষোলোয় যুক্তরাষ্ট্রের জালে জোড়া গোল করেন তিনি। দ্বিতীয়ার্ধের দশম মিনিটে জোড়া পরিবর্তন করেন স্পেন কোচ। অ্যালেক্স বায়েনা ও রুইসকে তুলে নামান ফেররান তরেস ও পেদ্রিকে। পাঁচ মিনিট পর বেলজিয়াম করে তিনটি বদল; মাঠে নামেন অ্যাক্সেল উইটসেল, রোমেলু লুকাকু ও জোয়াকিন সেইস। ৬১তম মিনিটে ডান দিকে একটু কাট করে বাঁয়ে সরে এসে ডি-বক্সের বাইরে থেকে জোরাল শট নেন ইয়ামাল, তবে কোর্তোয়া ছিলেন প্রস্তুত, ঝাঁপিয়ে আটকান তিনি। এক মিনিট পর, ওইয়ারসাবালের প্রচেষ্টাও রুখে দেন রিয়াল মাদ্রিদ গোলরক্ষক।
চোটের ছোবলে শেষ পর্যন্ত অবশ্য পোস্ট পাহারা দিতে পারেননি কোর্তোয়া। উরুতে ব্যথা অনুভব করায়, একটু পরই উঠে যান তিনি, বদলি নামেন লমেন্স। চোট কাটিয়ে উঠলেও পুরো সময় খেলার মতো ফিট নন নিকো উইলিয়ামস। ফলে, গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচে বদলি হিসেবে কিছু সময় খেলার পর, নকআউট পর্বের দুই ম্যাচের পুরোটা সময় বেঞ্চেই কাটান তিনি। তাকেই ৭৯তম মিনিটে মাঠে নামানো হয় ওইয়ারসাবালকে তুলে নিয়ে। একটু পর মাঠে নামেন পর্তুগালের বিপক্ষে জয়ের নায়ক মেরিনো।
এবং মাঠে নামার দুই মিনিটের মধ্যেই দলকে উচ্ছ্বাসে ভাসান মেরিনো। তরুণ সেন্টার-ব্যাক পাউ কুবার্সির নিচু শট ঝাঁপিয়ে আটকালেও, বল হাতে রাখতে পারেননি লমেন্স। ছুটে এসে আলগা বল জালে পাঠান আর্সেনাল তারকা মেরিনো। ওখানেই ম্যাচের গতিপথ নির্ধারণ হয়ে যায়। বিশ্বকাপে দুটি গোল করলেন মেরিনো। আগেরটি করেন পর্তুগালের বিপক্ষে শেষ ষোলোয়, শেষ দিকে বদলি নামার ছয় মিনিটের মাথায়। যোগ করা সময়ে তার একমাত্র গোলেই জয় পায় স্পেন।