ঢাকা শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

স্পেনের দুর্ভেদ্য রক্ষণ ভাঙার চ্যালেঞ্জ মেসিদের

স্পেনের দুর্ভেদ্য রক্ষণ ভাঙার চ্যালেঞ্জ মেসিদের

লিওনেল মেসি ও স্প্যানিশ রক্ষণ- চলতি বিশ্বকাপে চমৎকারিত্ব দেখানোর লড়াইয়ে কেউ কম যাচ্ছে না। রোববার আর্জেন্টিনা বনাম স্পেনের ফাইনালে হবে মেসি ও স্পেনের দুর্ভেদ্য রক্ষণভাগের লড়াই। এই আসরে মাত্র একবার স্পেনের জালে বল জড়িয়েছে।

মেসি কি পারবেন তেমন কিছু করতে? বিশ্বকাপের ফাইনালে সবচেয়ে বড় লড়াইটি হতে যাচ্ছে টুর্নামেন্টের সেরা আক্রমণাত্মক খেলোয়াড় ও টুর্নামেন্টের সবচেয়ে মজবুত স্প্যানিশ রক্ষণভাগের মধ্যে। উনাই সিমন ও স্প্যানিশ ডিফেন্স এই টুর্নামেন্টে ইতোমধ্যে ৬টি ক্লিন শিট রেখেছে। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এক আসরে যেকোনো দলের জন্য এটাই সর্বোচ্চ। কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামের চার্লস ডি কেটেলিয়ারে গোল করার আগে গোলরক্ষক সিমন টানা ৬৪৯ মিনিট কোনো গোল না খেয়ে থাকার এক অবিশ্বাস্য রেকর্ড গড়েন। আর ফ্রান্সের বিপক্ষে সেমিফাইনালে কিলিয়ান এমবাপে, উসমানে দেম্বেলে এবং মাইকেল অলিসের মতো তারকাখচিত ফরাসি আক্রমণভাগকে তারা মাত্র ০.৩১ এক্সপেক্টেড গোলসে আটকে রেখেছিল। ১৯৯৪ সালের পর বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের ইতিহাসে এটাই সর্বনিম্ন।

অন্যদিকে মেসি নিজের ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা বিশ্বকাপ কাটাচ্ছেন। শুরুর দিকে গোলদাতা হিসেবে জ্বলে উঠলেও নকআউট পর্বে তিনি দেখা দিয়েছেন একজন নিখুঁত বল যোগানদাতা হিসেবে।

টুর্নামেন্টের শুরুতেই হ্যাটট্রিক এবং দ্বিতীয় ম্যাচে জোড়া গোল করে মেসি মিরোস্লাভ ক্লোসার বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড ভেঙে দেন। শেষ তিন ম্যাচে তিনি গোল করানোর মূল ভূমিকায় ছিলেন। শেষ ১৬-তে মিশরের বিপক্ষে দুর্দান্ত ক্রসে ক্রিস্টিয়ান রোমেরোকে দিয়ে গোল করান, নিজেও সমতাসূচক গোলটি করেন। কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের গোলের উৎস ছিলেন তিনি। সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে একাই ৪টি সুযোগ তৈরি করেন এবং আর্জেন্টিনার দুটি গোলেরই অ্যাসিস্ট করেন। এর মাধ্যমে বিশ্বকাপে মোট ১২টি অ্যাসিস্ট নিয়ে তিনি এখন ইতিহাসের সর্বকালের সেরা অ্যাসিস্ট দাতার তালিকায় এককভাবে শীর্ষে। এখন দেখার অপেক্ষা স্পেনের নিখুঁত ও অপ্রতিরোধ্য রক্ষণভাগের পরীক্ষা মেসি কীভাবে নেবেন! ৪৬টি দেশকে পেছনে ফেলে এখন বিশ্বকাপ জয়ের মাত্র একধাপ দূরে স্পেন ও আর্জেন্টিনা। তবে দুই দলের ফাইনালে ওঠার পথ ছিল একেবারেই ভিন্ন। স্পেন শুরু থেকেই ছিল টুর্নামেন্টের সবচেয়ে পরিপূর্ণ দলগুলোর একটি। অন্যদিকে আর্জেন্টিনা বারবার এমন কঠিন পরিস্থিতি থেকে ঘুরে দাঁড়িয়েছে, যেখান থেকে অনেকেই তাদের বিদায় নিশ্চিত ধরে নিয়েছিলেন। দুই দলের খেলার ধরনেও বেশ মিল। বল হারানোর পরপর দুই দলই প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলে বল পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করে। অকারণে ক্রস বা ঝুঁকিপূর্ণ লম্বা পাসের বদলে ছোট ছোট পাসে আক্রমণ গড়ে তোলে। মাঝমাঠে রদ্রি ও এনজো ফার্নান্দেজের মতো টেকনিক্যাল ফুটবলাররা খেলার গতি নিয়ন্ত্রণ করেন। তবে প্রতিপক্ষের বক্সের কাছাকাছি পৌঁছানোর পরই পার্থক্য স্পষ্ট হয়ে ওঠে। স্পেন সুযোগ তৈরির জন্য নিজেদের কৌশল ও দলগত ছন্দের ওপর ভরসা রাখে। বিপরীতে কঠিন মুহূর্তে আর্জেন্টিনা লিওনেল মেসির দিকেই তাকিয়ে থাকে। এই পার্থক্যই রবিবারের ফাইনালের ভাগ্য নির্ধারণ করতে পারে। স্পেন চাইবে দীর্ঘ সময় বল নিজেদের দখলে রেখে ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ করতে। ফ্রান্সের বিপক্ষেই যেমন সেমিফাইনালে তারা পুরো ম্যাচে মাঝমাঠ নিয়ন্ত্রণ করেছে এবং গোছানো ফুটবল খেলে ২-০ ব্যবধানে জয় পেয়েছে। অন্যদিকে, আর্জেন্টিনা ম্যাচের গতি কমিয়ে প্রতিপক্ষকে অস্বস্তিতে ফেলতে চাইবে। এরপর মেসি যখনই সতীর্থদের ফাঁকা জায়গায় দৌড়াতে দেখবেন, তখনই দ্রুত পাল্টা আক্রমণে যাবে দল।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত