
প্রথম ও সবশেষ বাংলাদেশ সাফের চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ঘরের মাঠের আয়োজনে, সেই ২০০৩ সালে। আগামী আসরের আয়োজক বাংলাদেশ। ফলে সমর্থকদের প্রত্যাশার চাপ অনুভব করতে পারছেন টমাস ডুলি। সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের লোগো উন্মোচন অনুষ্ঠানে এসে বাংলাদেশ কোচ বললেন, চ্যাম্পিয়ন হওয়াই একমাত্র লক্ষ্য তার। সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের পঞ্চদশ আসর আগামী ৪ নভেম্বর শুরু হয়ে ১৭ নভেম্বর শেষ হওয়ার কথা। রাজধানীর একটি হোটেলে গতকাল শনিবার এবারের প্রতিযোগিতার লোগো উন্মোচন করা হয়। মোবাইল ব্র্যান্ড টেকনো হয়েছে টাইটেল স্পন্সর। অনুষ্ঠানে গণমাধ্যমকর্মীদের আকর্ষণের কেন্দ্রে অনুমিতভাবেই ছিলেন ডুলি। প্রায় দুই যুগ ধরে সাফের আঙিনায় চলা খরা কাটানোর ভার তার কাঁধে। যুক্তরাষ্ট্রের এই কোচ নানা বাস্তবতার প্রসঙ্গ টেনে শোনালেন আশাবাদও।
‘টুর্নামেন্টের মূল লক্ষ্য? আপনাদের কী মনে হয়? অবশ্যই চ্যাম্পিয়ন হতে চাই। শেষ পর্যন্ত আমরা জিতব কি না জানি না, তবে আমি আপনাদের বলতে পারি, জেতার জন্য সাধ্যমতো সবকিছু করার চেষ্টা করছি। খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রেও একই কথা। আমি খেলোয়াড়দের কাছ থেকেও একই জিনিস চাই, মাঠে নামো, যা আছে তার সবটুকু উজাড় করে দাও এবং যদি প্রতিপক্ষ ভালো খেলে, তাহলে, জানেন তো... দুর্ভাগ্য। হয়তো তখন আমরা খুঁজে বের করব যে আমরা কী ভুল করেছি; যার কারণে এমনটা হয়নি, তবে এটি কেবল কথার কথা নয়, বুঝলেন তো, এটি কাজের বিষয়। ‘২৩ বছর হয়ে গেছে (বাংলাদেশের প্রথম শিরোপা জয়)। তাই আমি মনে করি, এখন সময় এসেছে। আমাদের আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এগোতে হবে, তবে অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী হয়ে নয়। লক্ষ্য তখনই পূরণ হবে, যখন সবাই তাদের সেরা খেলাটা খেলবে এবং সঠিক সময়ে সেরা খেলাটা উপহার দেবে।’ দুটি বিশ্বকাপ খেলার অভিজ্ঞতা আছে ডুলির। ৬৫ বছর বয়সি এই কোচ নিজের খেলোয়াড়ী জীবনের মানসিকতা দেখতে চান তপু-মোরসালিনদের মধ্যে।
‘আমার সবসময় যে মানসিকতা থাকে, যখন খেলতাম, যখন কোচিং করাই-আমি প্রতিটি ম্যাচ জিততে চাই। কার বিপক্ষে খেলছি তা বিবেচ্য নয়। আমরা যদি জার্মানি, ব্রাজিল বা আর্জেন্টিনা বা অন্য যে কোনো দলের বিপক্ষে খেলি, আমি জিততে চাই। তাই এটি এমন এক ধরনের মানসিকতা যা আমার আছে এবং আমাকে খেলোয়াড়দের মধ্যেও এটি ছড়িয়ে দিতে হবে, যাতে তারাও একই কথা ভাবে।
‘সাফে আমরা আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল বা জার্মানি বা ইংল্যান্ড বা এমন কোনো দলের বিপক্ষে খেলছি না, আমরা আমাদের প্রতিবেশী দলগুলোর বিপক্ষে খেলব। তারাই সেই দল যারা র্যাঙ্কিংয়ে আমাদের থেকে একটু পিছিয়ে বা একটু এগিয়ে আছে। মাঠে নামার সময় আমাদের কী ধরনের মানসিকতা থাকে, তা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাহলে কি এটা সম্ভব? সবকিছুই সম্ভব। তবে, আমরা যদি এটিকে খুব সহজভাবে নিই, তাহলে স্পষ্টতই খুব কঠিন হবে, কিন্তু যদি আমরা গুরুত্ব সহকারে নিই, তবে ওই ট্রফিটি জেতার সম্ভাবনা আমাদের আছে।’
কোচের সুরে সুর মেলালেন অনুষ্ঠানে আসা ফরোয়ার্ড শেখ মোরসালিন, ডিফেন্ডার তপু বর্মনও। নিজেদের মাঠে, চেনা দর্শকের সামনে খেলাটা বিশাল সুযোগ মানছেন মোরসালিন। ‘কোচ সবসময় জিততে চান, এটাই আমাদের সবসময় অনুপ্রাণিত করে... টিম মিটিং হোক বা সব জায়গায় কোচ সবসময় জিততে চান, তাই আমাদের ভাবনাও একই। যেভাবেই হোক জিততে হবে। এটা আমি মনে করি, আমাদের জন্য একটা বিশাল সুযোগ। কারণ অনেক আগে আমরা সাফ চ্যাম্পিয়ন হয়েছি, এর মধ্যে আমরা হতে পারি নাই, তাই এই সুযোগ আমরা কোনোভাবেই মিস করতে চাই না।’ সাফের গত আসরে সেমি-ফাইনালে যাত্রা থেমেছিল বাংলাদেশের। তবে, হামজা চৌধুরী, শোমিত সোম, ফাহামিদুল ইসলামদের মতো প্রবাসীরা থাকায় এখন দলের শক্তি আরও বেশি। এক বছরেরও বেশি সময় ধরে হামজা-শোমিতদের সঙ্গে খেলার সুবাদে দলের মধ্যে বোঝাপড়া এখন আগের চেয়ে ভালো। তপু তাই অনেক কারণেই দেখছেন বড় স্বপ্ন। ‘২৩ বছর আগে আমরা সাফ জিতেছি, আসলে এটা আমাদের মনে হয়, সবার মূল লক্ষ্য জেতা। আমাদের দেশে খেলা, গ্যালারিতে আমাদের সমর্থক থাকবে, সমগ্র জাতি আমাদের দিকে তাকিয়ে থাকবে, আমাদের একটা বড় দায়িত্ব আছে, কিন্তু আমরা আসলে মাঠে সেটা প্রমাণ করতে চাই যে আমরা সবার চেয়ে ভালো এবং আমরা যোগ্য।
‘আমরা তাদের (হামজা, শোমিতদের) সাথে ইতোমধ্যে এক বছর একসাথে খেলেছি এবং জানি যে তাদের মানসিকতা কেমন, বিশেষ করে অনুশীলন, ম্যাচ চলাকালীন সময়ে নিশ্চিতভাবে এটা আমাদের কারো জন্য কোনো সমস্য হয় না। তারা যখন দলে আসে, আমরা আরও বেশি উজ্জীবিত হই এবং আমাদের ভেতরে সেই চাঙ্গা ভাবটা ফিরে আসে।’