
বাংলাদেশের আর্চারির হারানো জৌলুস ফিরিয়ে এনে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে সাফল্যের ধারায় ফেরানোর লক্ষ্য নিয়েছে বাংলাদেশ আর্চারির ফেডারেশনের নবগঠিত অ্যাডহক কমিটি। সেই লক্ষ্য সামনে রেখে আগামী ৩০ জুলাই থেকে ২ আগস্ট পর্যন্ত টঙ্গীর আর্চারি ট্রেনিং একাডেমিতে অনুষ্ঠিত হবে ‘ডব্লিউএএ প্রেসিডেন্টস চ্যালেঞ্জ কাপ ও জয়েন্ট ট্রেনিং প্রোগ্রাম’। গতকাল রোববার বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের (বিওএ) ডাচণ্ডবাংলা অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে আসর ও ফেডারেশনের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন অ্যাডহক কমিটির সভাপতি কাজী রাজীব উদ্দীন আহমেদ চপল।
একই সঙ্গে তিনি ওয়ার্ল্ড আরচারি এশিয়ার নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল তানভীর রায়হানসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা। চপল বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের আরচারি কিছুটা পিছিয়ে পড়েছে। তবে নতুনত্ব ও আধুনিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সেই অবস্থান পুনরুদ্ধারের চেষ্টা চলছে।’ তাঁর লক্ষ্য, এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও বাড়ানো এবং আর্চারির মানকে একটি সমপর্যায়ে নিয়ে যাওয়া। ৩০ জুলাই থেকে ১ আগস্ট পর্যন্ত চলবে জয়েন্ট ট্রেনিং প্রোগ্রাম ও স্পোর্টস ইনজুরি সেমিনার। ২ আগস্ট অনুষ্ঠিত হবে প্রথমবারের মতো ‘প্রেসিডেন্টস চ্যালেঞ্জ কাপ’। প্রশিক্ষণে স্পোর্টস ইনজুরি প্রিভেনশন, স্পোর্টস নিউট্রিশন, স্পোর্টস সাইকোলজি, অ্যান্টিডোপিং ও জেন্ডার ইক্যুয়িটির মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, ১৭টি দেশের আরচার সরাসরি অংশ নেবেন। টেকনিক্যাল কর্মকর্তা ও অতিথিসহ মোট ২৬টি দেশের ১১৪ জন প্রতিনিধি এই আয়োজনে যুক্ত থাকবেন।
জার্মানির প্রধান কোচ মার্টিন ফ্রেডরিক ও কোরিয়ার ডেপুটি কোচ ইয়ং সুক পার্কের অধীনে ৭০ জন আর্চার প্রশিক্ষণ ও প্রতিযোগিতায় অংশ নেবেন। স্বাগতিক বাংলাদেশের ১০ সদস্যের দলে থাকছেন আটজন আরচার, যার চারজনই অনূর্ধ্ব-১৮। রিকার্ভ ইভেন্টে অভিজ্ঞদের পাশাপাশি তরুণদের সুযোগ দিয়ে ভবিষ্যতের শক্তিশালী পাইপলাইন তৈরির দিকেও নজর দিচ্ছে ফেডারেশন। ওয়ার্ল্ড আরচারি এশিয়ার প্রায় ৪৪ হাজার মার্কিন ডলার আর্থিক সহায়তা ও কিউটের পৃষ্ঠপোষকতায় আয়োজিত আসরটি সরাসরি সম্প্রচার করবে চ্যানেল আই।