
বাংলাদেশের ফুটবলে তার অধ্যায়ের ইতি টেনেছে সময়, কিন্তু দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলে এখনো শেষ হয়নি কাজী সালাউদ্দিনের গল্প! বাফুফের সভাপতি পদ হারানোর এক বছরের মধ্যেই আবারও সাফের সর্বোচ্চ পদে নির্বাচিত হয়ে প্রমাণ করলেন, দেশের সীমানা পেরিয়ে আঞ্চলিক ফুটবল রাজনীতিতে তার প্রভাব এখনো অটুট!
বাংলাদেশ ফুটবলের প্রশাসনিক মানচিত্রে কাজী সালাউদ্দিনের অধ্যায় শেষ হয়েছে গত বছর। টানা ১৬ বছর বাফুফের সভাপতির দায়িত্ব পালন শেষে তাকে বিদায় নিতে হয়েছে। কিন্তু দেশের ফুটবলে সেই অধ্যায়ের ইতি টানলেও দক্ষিণ এশিয়ার ফুটলে তার প্রভাব এতটুকুও কমেনি। বরং সাফের সর্বোচ্চ পদে আরও একটি মেয়াদ নিশ্চিত করে আবারও নিজের অবস্থান শক্ত করলেন তিনি।
ভুটানের থিম্পুতে অনুষ্ঠিত দক্ষিণ এশিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের (সাফ) কংগ্রেসে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন কাজী সালাউদ্দিন। সভাপতি পদে অন্য কোনো প্রার্থী না থাকায় ভোটাভুটির প্রয়োজন হয়নি। কংগ্রেসের আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের মধ্য দিয়েই ২০০৯ সাল থেকে শুরু হওয়া তার নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা আরও দীর্ঘ হলো।
এক সময় সাফের গঠনতন্ত্রে স্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিল, কোনো ব্যক্তি দুই মেয়াদের বেশি সভাপতি থাকতে পারবেন না। পাশাপাশি ৭০ বছরের বেশি বয়সীদের নির্বাহী কমিটির কোনো পদে থাকার সুযোগও ছিল না। কিন্তু গত বছর কলম্বোয় অনুষ্ঠিত বিশেষ সাধারণ সভায় এই দুটি বিধানই বাতিল করা হয়। সেই সিদ্ধান্তের পর থেকেই প্রায় নিশ্চিত হয়ে যায়, সভাপতি হিসেবে আবারও দেখা যাবে সালাউদ্দিনকে।
তবে এবারের নির্বাচনের একটি দিক ছিল ব্যতিক্রমী। এতদিন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সমর্থন নিয়ে সাফ নির্বাচনে অংশ নিলেও এবার তা হয়নি। দেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর নতুন বাফুফে কমিটির পক্ষে তাকে সমর্থন দেওয়া বাস্তবসম্মত মনে করেনি। তাই বাংলাদেশের বদলে নেপাল ও ভুটান ফুটবল ফেডারেশনের প্রস্তাব এবং সমর্থন নিয়েই সভাপতি পদে মনোনয়ন জমা দেন তিনি। মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন পর্যন্ত আর কোনো প্রার্থী না আসায় তার পুনর্র্নিবাচন কার্যত নিশ্চিত হয়ে যায়।
সাফের নতুন কমিটিতে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বও বেড়েছে। বাফুফের সহ-সভাপতি সাব্বির আহমেদ আরেফ প্রথমবারের মতো নির্বাহী সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। অন্যদিকে সহ-সভাপতি পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন শ্রীলঙ্কার জাসওয়ার উমারু লাবে। নির্বাহী কমিটিতে মালদ্বীপের হুসাইন শাফিউও জায়গা পেয়েছেন। কংগ্রেস শেষে এখন দৃষ্টি দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় ফুটবল আসরের ড্রয়ের দিকে। তবে ফিফার নিষেধাজ্ঞার কারণে নেপাল আপাতত ড্রয়ের বাইরে রয়েছে। সাফ নেপালকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় দিয়েছে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের জন্য। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিষেধাজ্ঞা উঠে গেলে টুর্নামেন্টে অংশ নিতে পারবে তারা। সেক্ষেত্রে স্বাগতিক বাংলাদেশের গ্রুপেই জায়গা হবে নেপালের। অন্যথায় তাদের ছাড়াই অনুষ্ঠিত হবে প্রতিযোগিতা।
বাফুফের নেতৃত্ব হারানোর পর অনেকেই ধারণা করেছিলেন, আন্তর্জাতিক ফুটবল প্রশাসনেও ৭২ বছর বয়সী কাজী সালাউদ্দিনের প্রভাব কমতে পারে। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন চিত্রই দেখাল।
দেশের ফুটবল প্রশাসনের বাইরে থাকলেও দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলের সর্বোচ্চ পদে আবারও নির্বাচিত হয়ে তিনি জানিয়ে দিলেন, আঞ্চলিক ফুটবলে তার গ্রহণযোগ্যতা ও প্রভাব এখনো অক্ষুণ্ন!