
প্রথম ম্যাচের বিভীষিকাময় ব্যাটিংয়ের হতাশা পেছনে ফেলে ঘুরে দাঁড়াল বাংলাদেশ ইমার্জিং দল। দারুণ বোলিংয়ে পাঁচ উইকেট নিয়ে লক্ষ্যটা নাগালে রাখলেন ইকবাল হোসেন। ব্যাট হাতে আলো ছড়ালেন ইফতেখার হোসেন। প্রথম জয়ের দেখা পেল জাকির হাসানের দল। প্রিটোরিয়ায় একদিনের ম্যাচের তিন দলের সিরিজে ইউনিভার্সিটি স্পোর্ট সাউথ আফ্রিকার (ইউএসএসএ) বিপক্ষে ডাকওয়ার্থ-লুইস-স্টার্ন পদ্ধতিতে ২৬ রানে জিতেছে বাংলাদেশ ইমার্জিং দল।
প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকা ইমার্জিং দলের বিপক্ষে ৮৯ রানে গুটিয়ে গিয়ে ৭ উইকেটে হেরেছিল সফরকারীরা। গত সোমবার দেড়শর কাছাকাছি উদ্বোধনী জুটির পরও তিন ওভার বাকি থাকতে ২৪৮ রানে গুটিয়ে যায় ইউএসএসএ। জবাবে বাংলাদেশ ইমার্জিং ৩৬ ওভারে ৩ উইকেটে ১৮৬ রান করার পর আলোকস্বল্পতার কারণে আর খেলা হয়নি। তখন ২৬ রানে এগিয়ে ছিল তারা। জয়ের নায়ক ইকবাল। ১০ ওভারে ৪৩ রানে ৫ উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা ১৯ বছর বয়সী এই পেসার। পাঁচ চার ও দুই ছক্কায় ৮৬ বলে অপরাজিত ৭১ রানের ইনিংস খেলেন ইফতেখার। বৃষ্টির কারণে দেরিতে শুরু হওয়া ম্যাচে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে শক্ত ভিত পায় ইউএসএসএ। শুরুর জুটিতে ১৩৫ বলে ১৪৮ রান যোগ করেন লুডউইচ শুল্ড ও জেসন মুয়ারহেড। ২২তম ওভারে এই জুটি ভাঙার পর পথ হারিয়ে ফেলে দলটি। আর কোনো জুটি ত্রিশও ছুঁতে পারেনি। ৭১ বলে ৭২ রান করা শুল্ডকে ফিরিয়ে উদ্বোধনী জুটি ভাঙেন পেসার রোহানাত উদ দৌলা বর্ষণ। মিড অন থেকে অনেকটা পেছনে দৌড়ে দারুণ ক্যাচ নেন শাহাদাত হোসেন। ৭৩ বলে ৭৯ রান করা মুয়ারহেডকে ফেরান ইকবাল। স্বাগতিক দলটির আর কেউ উল্লেখযোগ্য কিছু করতে পারেননি। রান তাড়ায় বাংলাদেশের শুরুটা ভালো ছিল না। অধিনায়ক জাকির ১২ রান করে ফেরেন নিচু হওয়া ডেলিভারিতে এলবিডব্লিউ হয়ে। তিনে নেমে ১৮ রান করে বেরিয়ে এসে খেলার চেষ্টায় বোল্ড হন শাহাদাত।
বেশ ভালো খেলছিলেন মাহফিজুল ইসলাম। কিন্তু এই ওপেনারও ইনিংস টেনে নিতে পারেননি। লাফিয়ে ওঠা ডেলিভারিতে কিপারের গ্লাভসে ধরা পড়েন তিনি (৬ চারে ৩৯ বলে ৩৪)। তখন ৮০ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে বাংলাদেশ। সেখান থেকে প্রতিরোধ গড়েন ইফতেখার ও মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন। আলোকস্বল্পতায় খেলা বন্ধ হওয়ার সময় ১০৬ রানের জুটিতে অবিচ্ছিন্ন ছিলেন দুজন। ৬৮ বলে ৩৮ রানে অপরাজিত থাকেন মাহিদুল।