ঢাকা সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

রিভিউয়ে লিটন দাসের কীর্তি

রিভিউয়ে লিটন দাসের কীর্তি

ক্রিকেটে সাফল্যের মাপকাঠি সাধারণত রান, উইকেট কিংবা ক্যাচ! লিটন দাসের ক্ষেত্রে সেই হিসাব কখনো কখনো বেশ কঠিন হয়ে যায়। ব্যাট হাতে তার সামর্থ্য নিয়ে প্রশ্ন নেই, কিন্তু ধারাবাহিকতার অভাবও নতুন কিছু নয়।

অথচ ক্রিকেটের আরেকটি সূক্ষ্ম জায়গায় তিনি এমন এক কীর্তি গড়েছেন, যেখানে তার ধারেকাছেও নেই অন্য কোনো ব্যাটার। ক্রিকেটে আম্পায়ারের ভুল সিদ্ধান্ত বদলানোর প্রযুক্তিতে তার অবস্থান এখন সবার ওপরে! ডিসিশন রিভিউ সিস্টেমের (ডিআরএস) পরিসংখ্যান বলছে, আম্পায়ারের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করার ক্ষেত্রে লিটন দাসই সবচেয়ে সফল।

২০১৬ সাল থেকে টেস্টে অন্তত ১৫টি রিভিউ নেওয়া ৩৫ ব্যাটারের মধ্যে তার সাফল্যের হার ৬৮.৮ শতাংশ।

১৬ বার রিভিউ নিয়ে ১১ বারই শেষ হাসি হেসেছেন বাংলাদেশের এই উইকেটকিপার-ব্যাটার।

সংখ্যাটা শুধু পরিসংখ্যান নয়, লিটনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতারও একটি ছবি। রিভিউ নেওয়ার পর প্রায় তিনবারের মধ্যে দুইবারই দেখা গেছে, আম্পায়ারের প্রাথমিক সিদ্ধান্তটি বদলাতে হয়েছে। মাঠের উত্তেজনা আর চাপের মধ্যেও কখন ‘টি’ চিহ্ন দেখাতে হবে, সেই সিদ্ধান্তে লিটনের ভুলের হার খুবই কম। তার পেছনে থাকা নামগুলোও কম পরিচিত নয়। ভারতের চেতেশ্বর পূজারা ১৫টি রিভিউ নিয়ে সফল হয়েছেন ৯টিতে। তার সাফল্যের হার ৬০ শতাংশ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রেইগ ব্রাফেট ১৮টি রিভিউয়ের ১০টিতে সফল হয়ে আছেন তৃতীয় স্থানে, সাফল্যের হার ৫৫.৬ শতাংশ।

লিটনের কীর্তির মজার দিক হলো, এই পরিসংখ্যান সামনে এসেছে এমন এক সময়, যখন ব্যাট হাতে তাঁর সাম্প্রতিক সময়টা মোটেও সুখকর নয়। সদ্য শেষ হওয়া অস্ট্রেলিয়া সফরেই তিন ইনিংসে তিনবার শূন্য রানে ফিরেছেন তিনি। দুই টেস্টের সিরিজটি বাংলাদেশ শেষ করেছে ১-১ সমতায়, ডারউইনে পেয়েছে ঐতিহাসিক জয়, কিন্তু ব্যক্তিগতভাবে সফরটি লিটনের জন্য হয়ে আছে হতাশার। একবার তো আম্পায়ারের সিদ্ধান্তে বেঁচেও শেষ রক্ষা হয়নি। মিচেল স্টার্কের রিভিউয়ের পর এলবিডব্লুর সিদ্ধান্তে ফিরতে হয় তাঁকে। ব্যাট হাতে এমন হতাশার বিপরীতে ডিআরএসের হিসাব আবার সম্পূর্ণ অন্য গল্প বলছে।

এই গল্পে লিটনের উইকেটকিপিংয়ের অভিজ্ঞতাও গুরুত্বপূর্ণ। প্যাডে বল লাগার পর তার গতিপথ কী ছিল, ব্যাটে স্পর্শ হয়েছে কি না কিংবা বল স্টাম্পে আঘাত করত কি না-এসব বুঝতে উইকেটের পেছন থেকে খুব কাছের দৃশ্য পান কিপাররা। সেই অভিজ্ঞতাই হয়তো লিটনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাকে আলাদা মাত্রা দিয়েছে।

তবে শুধু ব্যাটারদের সঙ্গে তুলনা করলেও ছবিটা স্পষ্ট।

বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল কেমার রোচ। ৪০টি রিভিউ নিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের এই পেসার সফল হয়েছেন ১৪টিতে। সাফল্যের হার ৩৫ শতাংশ। ইংল্যান্ডের ক্রিস ওকস ৩৪টি রিভিউয়ের মধ্যে ১০টি সফল করে ২৯.৪ শতাংশ নিয়ে দ্বিতীয়, আর স্টুয়ার্ট ব্রড ৫৫টির মধ্যে ১৬টি সফল করে ২৯.১ শতাংশ নিয়ে তৃতীয়। ডিআরএসে সবচেয়ে সফল বোলারের সাফল্যের হারও লিটনের প্রায় অর্ধেক। ব্যাটার ও বোলার মিলিয়ে তাই লিটনের ৬৮.৮ শতাংশ সাফল্য আরও উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। একসময় এমন দক্ষতার জন্য মহেন্দ্র সিং ধোনির নামই সবার আগে আসত। ভারতের সাবেক অধিনায়কের রিভিউ নেওয়ার দক্ষতা এতটাই আলোচিত ছিল যে ডিআরএসকে মজা করে ‘ধোনি রিভিউ সিস্টেম’ বলা হতো। এখন সেই পুরোনো উপাধির সঙ্গে লিটনের নাম উচ্চারণ করার মতো পরিসংখ্যান তার হাতেই। লিটনের গল্পটা তাই খানিকটা উল্টো। যেখানে রান দিয়ে সব সময় নিজের সেরা সংস্করণটি দেখাতে পারেন না, সেখানে কয়েক সেকেন্ডের সিদ্ধান্তে তিনি দেখিয়ে দিচ্ছেন অন্য এক দক্ষতা। ব্যাট হাতে তার সামনে যত প্রশ্নই থাকুক, ডিআরএসের ‘টি’ চিহ্নে আপাতত তাঁর চেয়ে বেশি নির্ভুল আর কোনো ব্যাটার নেই!

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত