ঢাকা মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

সিঙ্গাপুরের সঙ্গে লড়াই করে হারল হামজা-জামালরা

সিঙ্গাপুরের সঙ্গে লড়াই করে হারল হামজা-জামালরা

ফিফা আসিয়ান কাপে নিজেদের অভিষেক ম্যাচে মালয়েশিয়ার কাছে হেরে যাত্রা শুরু করেছিল বাংলাদেশ। তাই সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে ম্যাচটা ছিল লাল সবুজ দলের ঘুরে দাঁড়ানোর মঞ্চ। একই সঙ্গে ছিল প্রতিশোধ নেওয়ার সুযোগ। গত মার্চে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে ০-১ গোলের হারে বাংলাদেশের দুঃখের কারণ ছিলেন হ্যারিস স্টুয়ার্ট। কয়েক মাস পর আবারও সেই সিঙ্গাপুর, আবারও একই ব্যবধানে হার, আর এবারও বাংলাদেশের হতাশার কেন্দ্রে সেই স্টুয়ার্টই! তার একমাত্র গোলে ফিফা আসিয়ান কাপের ডিভিশন-১-এর 'এ' গ্রুপে সিঙ্গাপুরের কাছে হেরে টানা দ্বিতীয় হার দেখল বাংলাদেশ। তাতে টুর্নামেন্টে লড়াইয়ে টিকে থাকার সুযোগটাও হাতছাড়া হয়ে গেল!

জাকার্তার গেলোরা বুং কার্নো স্টেডিয়ামে গতকাল সোমবার ম্যাচের শুরুটা অবশ্য ছিল বাংলাদেশের জন্য আশাব্যঞ্জক। মালয়েশিয়ার কাছে প্রথম ম্যাচে ০-৩ গোলের হারের ধাক্কা কাটিয়ে ওঠার প্রত্যয় দেখা যাচ্ছিল মাঠের খেলায়। প্রথম ২৫ মিনিটে মাঝমাঠের লড়াইয়ে বাংলাদেশ ছিল যথেষ্ট সক্রিয়। রাকিব হোসেন ও শুকি ইতুফুসা কয়েকবার সিঙ্গাপুরের রক্ষণে চাপও তৈরি করেন। কিন্তু আক্রমণের শেষ ধাপে গিয়ে সেই তৎপরতা আর ধারালো হয়ে উঠতে পারেনি। ফলে বলের দখল কিংবা মাঝমাঠের লড়াই থাকলেও সিঙ্গাপুরের গোলমুখে পরিষ্কার সুযোগ তৈরি হচ্ছিল না! ৬ মিনিটেই হলুদ কার্ড দেখেন শমিত সোম। এর কিছুক্ষণ পর সিঙ্গাপুরও বাংলাদেশের রক্ষণে চাপ বাড়াতে শুরু করে। ১৭ মিনিটে বাঁ প্রান্ত থেকে আসা ক্রসে ইলহান ফান্দির শট দারুণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক মেহেদী হাসান শ্রাবণ। কর্নারের বিনিময়ে সে যাত্রায় বিপদ কাটে বাংলাদেশের।

প্রথমার্ধের মাঝামাঝি পর্যন্ত ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি কোনো দলের হাতে ছিল না। কিন্তু ৩০ মিনিটের কুলিং ব্রেক যেন ম্যাচের গতিপথ বদলে দিল। বিরতির পর সিঙ্গাপুরের আক্রমণে বাড়ল গতি, আর বাংলাদেশ ধীরে ধীরে নিজেদের ছন্দ হারাতে শুরু করল। ৩২ মিনিটে হ্যারিস স্টুয়ার্টকে ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখেন জিদান ইউসুফ। সেই ফ্রি-কিক থেকেই বড় বিপদ তৈরি করে সিঙ্গাপুর। জ্যাকব উইলিয়ামের হেড গোলমুখে যাচ্ছিল, কিন্তু শ্রাবণ অসাধারণ দক্ষতায় তা ঠেকিয়ে দেন। ফিরতি শটও প্রতিহত করে বাংলাদেশকে রক্ষা করেন তারিক কাজী। কয়েক মুহূর্তের ব্যবধানে দুই দফা বিপদ সামলেও শেষ পর্যন্ত আর রক্ষা হয়নি। ৩৫ মিনিটে বাঁ প্রান্ত দিয়ে নুর আদম আব্দুল্লাহর বাড়ানো ক্রসে বক্সে উঠে আসেন হ্যারিস স্টুয়ার্ট। নিখুঁত হেডে বল পাঠিয়ে দেন বাংলাদেশের জালে। কাছ থেকে নেওয়া সেই হেডে শ্রাবণ এবার কিছুই করতে পারেননি। বাংলাদেশের জালে বল জড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে যেন ফিরে আসে কয়েক মাস আগের সেই স্মৃতিও-প্রতিপক্ষ সিঙ্গাপুর, গোলদাতা সেই স্টুয়ার্ট, আর বাংলাদেশের সামনে আবারও ০-১ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ার বাস্তবতা!

গোলের ধাক্কা সামলানোর আগেই ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পেয়েছিল সিঙ্গাপুর। ৩৭ মিনিটে তাদের একটি শট বাংলাদেশের ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। প্রথমার্ধে বাংলাদেশের বল দখল থাকলেও লক্ষ্যে কোনো শট নিতে পারেনি তারা। বিপরীতে সিঙ্গাপুরের পাঁচ শটের চারটিই ছিল লক্ষ্যে। বিরতির পর সমতা ফেরানোর তাড়নায় সামনে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। কিন্তু আক্রমণে গতি থাকলেও শেষ পাস কিংবা ফিনিশিংয়ে সেই ধার দেখা যায়নি। ৪৭ মিনিটে শাহ শাহিরানের দূরপাল্লার শট কর্নারের বিনিময়ে ঠেকিয়ে আবারও বাংলাদেশকে স্বস্তি দেন শ্রাবণ। ৫৮ মিনিটে শেখ মোরসালিনের জায়গায় মিনহাজুল করিম স্বাধীনকে মাঠে নামান কোচ থমাস ডুলি। এরপর ৬৪ মিনিটে বাংলাদেশের সামনে আসে সমতা ফেরানোর সুযোগ। ডান প্রান্ত থেকে সাদ উদ্দিনের ক্রসে লাফিয়ে হেড করার চেষ্টা করেন শমিত সোম। কিন্তু তাঁর হেড চলে যায় বারের ওপর দিয়ে। গোলের জন্য বাংলাদেশের অপেক্ষা আরও দীর্ঘ হয়।

শেষ ২০ মিনিটে আক্রমণে আরও মরিয়া হয়ে ওঠে বাংলাদেশ। ৭০ মিনিটে জোড়া পরিবর্তনে সোহেল রানা জুনিয়র ও ফাহামিদুল ইসলামকে মাঠে নামান ডুলি। বিশেষ করে ইতালি-প্রবাসী ফাহামিদুল মাঠে আসার পর বাংলাদেশের আক্রমণে কিছুটা প্রাণ ফেরে। ৭৯ মিনিটে তাঁর ক্রস থেকে রাকিব হোসেনের হেড সিঙ্গাপুরের হ্যারিস স্টুয়ার্টের গায়ে লেগে কর্নারে পরিণত হয়। কিন্তু সেই কর্নার থেকেও সমতার গোল পায়নি বাংলাদেশ। যোগ করা সময়েও ব্যবধান বদলায়নি। শেষ বাঁশির সঙ্গে ১-০ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে সিঙ্গাপুর। আর বাংলাদেশের জন্য একই সঙ্গে শেষ হয়ে যায় ম্যাচে ফেরার আশা ও শিরোপার লড়াইয়ে টিকে থাকার সম্ভাবনা।

মালয়েশিয়ার কাছে ০-৩ গোলে হারের পর সিঙ্গাপুরের কাছে এই ০-১ পরাজয়ে দুই ম্যাচে বাংলাদেশের পয়েন্ট রইল শূন্য। 'এ' গ্রুপের শেষ ম্যাচে ১ অক্টোবর ইন্দোনেশিয়ার মুখোমুখি হবে জামাল ভূঁইয়ার দল। অন্যদিকে তিন পয়েন্ট নিয়ে সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়া গ্রুপের লড়াইয়ে নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছে। বাংলাদেশের জন্য তাই শেষ ম্যাচটি আর এখন শিরোপার স্বপ্ন ধরে রাখার লড়াই নেই। টানা দুই হারের পর প্রতিযোগিতায় নিজেদের শেষ অধ্যায়টি অন্তত জয় দিয়ে শেষ করার সুযোগ!

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত