
জাতীয় ক্রিকেট লিগে এবারই প্রথম সেকেন্ড ইলেভেন চ্যাম্পিয়নশিপ চালু করা হয়েছে। প্রথম একাদশে জায়গা না পাওয়া ক্রিকেটারদের নিয়ে গড়া হয়েছে দ্বিতীয় একাদশের দল। দলগুলোকে বিসিবি থেকে জার্সি, অনুশীলন আর হোটেল খরচের জন্য ৪ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছিল। বাকি সব দল পুরো টাকার সদ্ব্যবহার করলেও রাজশাহী বিভাগের বিরুদ্ধে অনুশীলন না করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সেকেন্ড ইলেভেন চ্যাম্পিয়নশিপ শুরু হচ্ছে আগামীকাল। আসরের সবকটি ম্যাচই হবে ঢাকার ৫টি ভেন্যুতে। এর আগে নিজ নিজ বিভাগীয় বা জেলা স্টেডিয়ামে দলীয় অনুশীলন করেছে দলগুলো। খুলনা, বরিশাল, রংপুর, চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহ দলীয় অনুশীলন করেই ঢাকায় এসেছে। ঢাকার সেকেন্ড ইলেভেন অনুশীলন করেছে মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের একাডেমি মাঠে। তবে রাজশাহী বিভাগের প্রস্তুতি সীমাবদ্ধ ছিল শুধু ফিটনেস ক্যাম্পে। সেটাও মূল দলের সঙ্গে। এরপর ফার্স্ট ইলেভেন শুরুর পর আর অনুশীলন করেনি রাজশাহী বিভাগ। নাম প্রকাশ না করার শর্তে রাজশাহীর একজন খেলোয়াড় বলেন, আমরা দলীয় কোনো অনুশীলন করতে পারিনি। আমরা যে যার মতো ব্যক্তিগত চেষ্টায় যতটুকু করার করেছি।
এর আগে এক টিভি চ্যানেলের প্রতিবেদনে জানা যায়, হোটেল খরচেই টাকা শেষ হয়ে যাওয়ায় অনুশীলন করতে পারেনি বলে জানিয়েছে দল সংশ্লিষ্টরা। তবে যে হোটেলে ছিলেন ক্রিকেটাররা, সেখানেও তথ্যের গরমিল পাওয়া যায়। ফলে রাজশাহীর বিসিবি থেকে পাওয়া ৪ লাখ টাকার খরচ নিয়ে উঠেছে নানা প্রশ্ন। এর মধ্যে বিসিবি থেকে অনুশীলন না করার ব্যাখ্যা চেয়ে চিঠিও দেওয়া হয়েছে রাজশাহী বিভাগকে। চিঠির জবাব দিতে ৭২ ঘণ্টা সময় পাবেন তারা। সূত্র জানায়, হ্যাঁ, চিঠিটা ইস্যু করা হয়েছে। এটা হয়তো তারা সময়মতো হাতে পেয়ে যাবে।
রাজশাহী ছাড়া সেকেন্ড ডিভিশনের অন্য দলগুলো নিয়মিত অনুশীলন করছে বলেও জানান তিনি। তার ভাষ্য, না না, আর সবাই অনুশীলন করেছে। সবাই খুব ভালোভাবেই করছে। রাজশাহী ফিটনেস ক্যাম্পটা করছে। কিন্তু চূড়ান্ত যে প্রস্তুতি, আসার আগে যে কয়েকদিনের প্র্যাকটিসটা করতে হতো, এটা তারা করেনি। রাজশাহীর প্রস্তুতির জন্য বিসিবির পক্ষ থেকে ৪ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। এই অর্থ শুধু অনুশীলনের জন্য নয়, দলের পোশাকসহ প্রস্তুতির অন্যান্য খরচ মিলিয়ে একটি প্যাকেজ হিসেবে দেওয়া হয়েছে বলে জানান বিসিবির ওই কর্মকর্তা।
তিনি বলেন, চার লাখ। সেকেন্ড ডিভিশনের জন্য চার লাখ টাকা। এই অর্থের মধ্যে অনুশীলনের খরচ আলাদা করে নির্ধারিত ছিল কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ওই তো সব মিলিয়ে একটা প্যাকেজ অ্যামাউন্ট। প্র্যাকটিস, কাপড়-চোপড়, টিমের কাপড়-চোপড়; এগুলোর জন্য চার লাখ টাকা।
রাজশাহীকে দেওয়া চিঠিটি শোকজ নয়, বরং তাদের প্রস্তুতির বিষয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে বলেও স্পষ্ট করেন বিসিবির ওই কর্মকর্তা। জবাব দেওয়ার জন্য দলটিকে ৭২ ঘণ্টা বা তিন কর্মদিবস সময় দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, না, শোকজ না, ব্যাখ্যা চাওয়া। জবাব দেওয়ার জন্য আমরা ৭২ ঘণ্টা সময় দিচ্ছি। মানে তিনটা ওয়ার্কিং ডে সময় দিচ্ছি।