
প্যারিসে ম্যাচের ৭৭ মিনিট পর্যন্ত যে দৃশ্য, শেষ বাঁশির পর সেটি যেন অন্য কোনো ম্যাচের গল্প। এক গোলের ব্যবধানে পিছিয়ে থাকা ফ্রান্স তখন গোলের জন্য মরিয়া। আক্রমণ করছে, বলের নিয়ন্ত্রণও নিজেদের কাছে রাখছে, কিন্তু কাঙ্ক্ষিত সমতাসূচক গোলটির দেখা নেই। বেলজিয়ামও অপেক্ষায় ছিল সেই এক মুহূর্তের, যেটি তাদের এনে দিতে পারে এক যুগ পর ফ্রান্সের বিপক্ষে জয়।
গত রাতে নেশনস লিগে শেষ পর্যন্ত সেই গল্প লেখা হয়নি! বরং শেষ ১৪ মিনিটে চার গোল করে ম্যাচের পুরো চিত্রই পাল্টে দিয়েছে ফ্রান্স। উয়েফা নেশনস লিগে বেলজিয়ামকে ৪-১ গোলে হারিয়ে আন্তর্জাতিক বিরতি শেষ করেছে তারা। আরও অবাক করা ব্যাপার, ফ্রান্সের চার গোলই এসেছে বদলি হিসেবে মাঠে নামা তিন খেলোয়াড়ের পা থেকে।
স্টাদ দ্য ফ্রান্সে শুরু থেকেই বলের দখল ছিল ফ্রান্সের কাছে। কিন্তু আক্রমণের শেষভাগে গিয়ে বারবার থমকে যাচ্ছিল তাদের প্রচেষ্টা। কিলিয়ান এমবাপেকে ছাড়া মাঠে নামা দলটি প্রথমার্ধে একের পর এক সুযোগ তৈরি করেও কাজে লাগাতে পারেনি। বিপরীতে পাল্টা আক্রমণ থেকেই ৩৫ মিনিটে এগিয়ে যায় বেলজিয়াম।
রোমিও লাভিয়ার দারুণ এক থ্রু বল ধরে বক্সে ঢুকে পড়েন দদি লুকবাকিও। এরপর বাঁ পায়ের দুর্দান্ত শটে বল পাঠিয়ে দেন ওপরের কোণে। ফ্রান্সের গোলরক্ষকের কিছুই করার ছিল না। ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় বেলজিয়াম। দ্বিতীয়ার্ধেও বদলায়নি ম্যাচের চিত্র। ফ্রান্স আক্রমণ করছিল, কিন্তু গোলের দেখা পাচ্ছিল না। একেবারে কাছ থেকে নেওয়া এস্তেবান লেপলের শটও দুর্দান্তভাবে ঠেকিয়ে দেন বেলজিয়ামের গোলরক্ষক মর্তেন ভানদেভুর্ট। সময় যত গড়াচ্ছিল, ফ্রান্সের জন্য ততই কঠিন হয়ে উঠছিল ম্যাচটি!
তখনই বদলি খেলোয়াড়দের ওপর ভরসা করেন কোচ জিনেদিন জিদান। ৬০ মিনিটে মাইকেল ওলিসে ও রায়ান শেরকিকে মাঠে নামানো হয়। পরে ৭২ মিনিটে যোগ দেন দেজিরে দুয়ে। শেষ পর্যন্ত এই তিনজনই হয়ে ওঠেন ম্যাচের নায়ক। ৭৭ মিনিটে আসে সেই কাঙ্ক্ষিত সমতা। লুকাস দা কুনহার পাস পেয়ে বক্সের ঠিক বাইরে বল নিয়ন্ত্রণে নেন দুয়ে। মুহূর্তের মধ্যে ঘুরে দাঁড়িয়ে বাঁ পায়ের নিচু শটে বল পাঠিয়ে দেন নিচের ডান কোণে। ভানদেভুর্টের পক্ষে এবারও কিছু করার ছিল না। ১-১। সমতায় ফেরার পর যেন নতুন প্রাণ পায় ফ্রান্স।