
মাঠে ফেরার প্রস্তুতি যখন প্রায় শেষ, ঠিক তখনই আবারও থমকে গেল নাহিদ রানার পথচলা! জিম্বাবুয়ে সিরিজে পাওয়া সাইড স্ট্রেনের চোট কাটিয়ে ধীরে ধীরে বোলিংয়ে ফিরেছিলেন বাংলাদেশের এই গতিমানব। কিন্তু নতুন করে নিতম্বে ব্যথা তাকে আবারও অনিশ্চয়তার মধ্যে ঠেলে দিয়েছে। এখন শুধু আমিরাতের ত্রিদেশীয় সিরিজ নয়, সামনে থাকা ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজও পড়ে গেছে শঙ্কার মধ্যে। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতে সাইড স্ট্রেনের চোট পাওয়ার পর প্রায় দেড় মাস বল হাতে নেওয়া হয়নি নাহিদের। আগস্টের শেষ দিকে ছোট রানআপে বোলিং দিয়ে শুরু হয়েছিল প্রত্যাবর্তনের প্রক্রিয়া। এরপর এক মাস ধরে ধীরে ধীরে অনুশীলনের মাত্রা বাড়িয়ে ম্যাচ খেলার উপযোগী হয়ে উঠছিলেন তিনি। সবকিছু যখন পরিকল্পনামতো এগোচ্ছিল, তখনই আসে নতুন ধাক্কা।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) একটি সূত্রে জানা গেছে, সপ্তাহখানেক আগে অনুশীলনে বোলিংয়ের সময় নিতম্বে ব্যথা অনুভব করেন নাহিদ। এই সপ্তাহেই তার ফিটনেস পরীক্ষা দেওয়ার কথা ছিল। নতুন ব্যথার কারণে সেটিও এখন পিছিয়ে গেছে। ১৬ অক্টোবর থেকে শুরু হতে যাওয়া জিম্বাবুয়ে-আফগানিস্তান-বাংলাদেশকে নিয়ে আমিরাতের ত্রিদেশীয় সিরিজে নাহিদের ফেরার সম্ভাবনা অনেকটাই কমে গেছে। অথচ এই সিরিজটিই ছিল তার প্রত্যাবর্তনের সম্ভাব্য মঞ্চ। আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টের দলেও জায়গা হয়নি তার। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুই টেস্টেও চোটের কারণে ছিলেন বাইরে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরার অপেক্ষাটা এরমধ্যেই বেশ দীর্ঘ হয়েছে। নতুন ব্যথা সেই অপেক্ষাকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। আমিরাতের দরজা বন্ধ হলে নাহিদের সামনে থাকবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ২৮ অক্টোবর থেকে সিলেট ও ঢাকায় শুরু হবে দুই টেস্টের সিরিজ। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের গুরুত্বপূর্ণ এই সিরিজেই তাকে ফেরানোর পরিকল্পনা ছিল বাংলাদেশের। তবে দীর্ঘ বিরতির পর সরাসরি টেস্টে নামিয়ে দেওয়ার ঝুঁকি নিতে চায় না টিম ম্যানেজমেন্ট।
সেই কারণেই নাহিদের ফেরার পরিকল্পনায় জাতীয় ক্রিকেট লিগও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ১০ অক্টোবর শুরু হবে দ্বিতীয় রাউন্ড, ১৮ অক্টোবর তৃতীয় রাউন্ড। পরিকল্পনা অনুযায়ী তৃতীয় রাউন্ডে একটি ম্যাচ খেলে ম্যাচ অনুশীলনে ফেরার কথা নাহিদের। এরপর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্টে নামার কথা। কিন্তু নিতম্বের ব্যথা যদি তাকে জাতীয় লিগ থেকেও দূরে রাখে, তাহলে প্রথম টেস্টে তার খেলার সম্ভাবনাও কমে যেতে পারে। এখানেই নাহিদকে নিয়ে বাংলাদেশের সতর্কতার কারণটা স্পষ্ট। তার বয়স ও গতির সঙ্গে ভবিষ্যতের বড় পরিকল্পনা জড়িয়ে আছে। দ্রুত ফেরানোর চেয়ে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ফেরাটাই এখন বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ওয়েস্ট ইন্ডিজের পর নভেম্বরেই দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে দুই টেস্টের সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের যত বেশি ম্যাচে সম্ভব নাহিদকে খেলাতে চায় টিম ম্যানেজমেন্ট।
নাহিদের ক্ষেত্রে এখন লক্ষ্য শুধু মাঠে ফেরা নয়, ফিরে এসে টিকে থাকা। এক ম্যাচ খেলেই আবার চোটের কারণে ছিটকে পড়ার চেয়ে কয়েক সপ্তাহ বেশি অপেক্ষা করে পুরোপুরি প্রস্তুত হওয়াকেই গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যেই অবশ্য আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের বাইরের একটি সুযোগ হাতছাড়া হয়েছে নাহিদের। এসএ২০-এর নিলামে বাংলাদেশের প্রতিনিধি ছিলেন তিনি। গতি আর সাম্প্রতিক আলোচনার কারণে তাকে ঘিরে প্রত্যাশা থাকলেও নিলামে কোনো দল পাননি এই পেসার। তিনি দল না পেলেও রিশাদ হোসেন প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে এবার থাকছেন দক্ষিণ আফ্রিকার এই ফ্রাঞ্চাইজি লিগে।
বাংলাদেশের কোনো ক্রিকেটার এখনো এসএ২০তে খেলেননি। গত আসরের নিলামে তাইজুল ইসলামকে দলে নিয়েছিল ডারবান সুপার জায়ান্টস, যদিও পরে নিজেকে সরিয়ে নেন তিনি। নাহিদের ক্ষেত্রেও এবার সেই দরজা খোলেনি। তবে নাহিদের সামনে আরও বড় মঞ্চ অপেক্ষা করছে-আন্তর্জাতিক ক্রিকেট। সেখানে তার ফেরাটা কবে, এখন সেটিই প্রশ্ন। গতির ঝড় তুলে যে পেসার অল্প সময়েই বাংলাদেশের ক্রিকেটে আলাদা জায়গা করে নিয়েছেন, তার প্রত্যাবর্তনের গল্পে আপাতত সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ কোনো ব্যাটার নয়, তার নিজের শরীর। আর সেই লড়াইয়ে জিততে নাহিদকে হয়তো আরও কিছুটা অপেক্ষা করতেই হবে।