
আবুধাবির মরুর বুকে ব্যাট হাতে স্বপ্নের সূচনা করেছিল বাংলাদেশ। ওপেনিং জুটিতে শতরান, দুই ব্যাটারের ফিফটি আর দ্রুত রান তোলার আত্মবিশ্বাস-সবকিছুই ইঙ্গিত দিচ্ছিল বড় সংগ্রহের। কিন্তু সেই সম্ভাবনার গল্প শেষ পর্যন্ত আর এগোয়নি প্রত্যাশামতো। একের পর এক উইকেট হারিয়ে দিনের শেষভাগে চাপে পড়ে যায় নাজমুল হোসেন শান্তর দল। দ্বিতীয় সেশনে পড়েছে চার উইকেট, শেষ সেশনে তিনটি। অথচ দাপুটে সূচনায় দিনের প্রথম সেশনে মাত্র একটি উইকেট হারিয়েছিল বাংলাদেশ।
ওই সেশনে ওভারপ্রতি ৫.১৫ রান তুলে দারুণ শুরুর বার্তাও দিয়েছিল। কিন্তু টেস্টের রোমাঞ্চই এখানে- প্রতি সেশনে বদলে যায় যার চিত্র! ঘুরে দাঁড়িয়ে আফগানিস্তানও দুর্দান্ত লড়াই উপহার দিয়েছে। ফলে সিরিজেনর একমাত্র টেস্টের প্রথম দিন শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৮ উইকেটে ৩১৭ রান।
গতকাল শুক্রবার শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামে টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন শান্ত। টেস্ট ক্রিকেটে নিরপেক্ষ ভেন্যুতে বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচ হওয়ায় দিনটি ছিল বিশেষ। শুরুতে ব্যাটারদের আত্মবিশ্বাসী পারফরম্যান্স সেই উপলক্ষকে স্মরণীয় করে তোলার ইঙ্গিতও দিয়েছিল।
তবে দিনের দ্বিতীয়ার্ধে আফগান বোলারদের নিয়ন্ত্রিত আক্রমণে পাল্টে যায় ম্যাচের চিত্র। ওপেনিংয়ে তানজিদ হাসান তামিম ও সাদমান ইসলাম শুরু থেকেই রান তোলার গতি ধরে রাখেন। বিশেষ করে তানজিদের ব্যাটিংয়ে ছিল ওয়ানডে মেজাজের আক্রমণাত্মক ছাপ। অন্যদিকে সাদমান খেলেছেন ধৈর্য ধরে। দুই ওপেনারের শতরানের জুটি বাংলাদেশকে শক্ত ভিত এনে দেয়। দুজনই তুলে নেন অর্ধশতক, আর বড় সংগ্রহের স্বপ্ন দেখতে শুরু করে দল।
সাদমান ১১১ বলে ৬৭ রান করে মোহাম্মদ সেলিমের বলে ক্যাচ দিয়ে ফিরলে ভাঙে উদ্বোধনী জুটি। এরপর মুমিনুল হক ও শান্ত ইনিংস এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। মুমিনুলের ব্যাট থেকে আসে ৩৯ রান। কিন্তু তার বিদায়ের পরই বাংলাদেশের ইনিংসে নেমে আসে বড় ধস। একসময় ২ উইকেটে ২২১ রান ছিল বাংলাদেশের। সেখান থেকে মাত্র চার রানের ব্যবধানে তিন উইকেট হারিয়ে দলটি পড়ে যায় বিপাকে। মুশফিকুর রহিম রানের খাতা খোলার আগেই বোল্ড হন ইয়ামিন আহমাদজাইয়ের বলে। এরপর অধিনায়ক শান্তও কায়েস আহমেদের বলে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন। কয়েক ওভার আগেও যে ইনিংস বড় সংগ্রহের পথে এগোচ্ছিল, তা হঠাৎ করেই অনিশ্চয়তায় পড়ে যায়। এই ধাক্কা সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন লিটন দাস ও মেহেদী হাসান মিরাজ। দুজনের ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে আসে ৬২ রান। মিরাজ ৬৭ বলে ২৪ রান করে ইসমাত আলমের বলে বোল্ড হন। লিটন অবশ্য একপ্রান্ত আগলে রেখে তুলে নেন টেস্ট ক্যারিয়ারের ২১তম অর্ধশতক। তবে ফিফটির পর ইনিংস বড় করার সুযোগ পাননি তিনি। ৮৯ বলে ৫৩ রান করে ইয়ামিন আহমাদজাইয়ের অসাধারণ ক্যাচে পরিণত হন এই উইকেটকিপার ব্যাটার। লিটনের বিদায়ের পর বাংলাদেশের ইনিংস আবারও চাপে পড়ে। শেষ পর্যন্ত নাঈম হাসান ও তাইজুল ইসলাম অপরাজিত থেকে দিনের খেলা শেষ করেন। নাঈম ১১ এবং তাইজুল ৪ রানে অপরাজিত আছেন। তাদের সামনে এখন দলের সংগ্রহ আরও বাড়ানোর দায়িত্ব। আফগানিস্তানের বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে কার্যকর ছিলেন মোহাম্মদ সেলিম। ৭০ রান দিয়ে তিনটি উইকেট নিয়েছেন তিনি। ইসমাত আলম ও ইয়ামিন আহমাদজাই পেয়েছেন দুটি করে উইকেট। দিনের শুরুতে বাংলাদেশের ব্যাটাররা যে স্বচ্ছন্দে রান তুলছিলেন, দ্বিতীয়ার্ধে সেই ছন্দ ভেঙে দিতে সক্ষম হন আফগান বোলাররা। বাংলাদেশের ইনিংসে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি তানজিদের ৮৩ রানের ঝলমলে ব্যাটিং এবং সাদমান ও লিটনের অর্ধশতক। কিন্তু সেট ব্যাটারদের উইকেট ধরে রাখতে না পারা এবং বড় জুটির অভাবই শেষ পর্যন্ত দলকে আরও ভালো অবস্থানে যেতে দেয়নি। ৩১৭ রান আপাতদৃষ্টিতে লড়াই করার মতো সংগ্রহ হলেও হাতে মাত্র দুই উইকেট থাকায় দ্বিতীয় দিনের শুরুতে দ্রুত রান তোলার সুযোগ সীমিত। আফগানিস্তানের বিপক্ষে ২০২৩ সালে মিরপুরে ৫৪৬ রানের বিশাল জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ। ৩ বছর পর আবারও টেস্টে মুখোমুখি দুই দল, এবার নিরপেক্ষ ভেন্যুতে। প্রথম দিন বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে সম্ভাবনা ও দুর্বলতা-দুই চিত্রই দেখা গেছে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
বাংলাদেশ ১ম ইনিংস
৮৪ ওভারে ৩১৭/৮ (সাদমান ৬৭, তানজিদ ৮৩, মুমিনুল ৩৯, শান্ত ২৯, মুশফিক ০, লিটন ৫৩, মিরাজ ২৪, নাঈম ১১*
হাসান ২, তাইজুল ৪*; আহমাদজাই ২/৬২, সেলিম ৩/৭০, আলম ২/২০)