
দুই গোলে পিছিয়ে পড়েও ম্যাচে ফিরেছিল শেফিল্ড ইউনাইটেড। কিন্তু শেষ পর্যন্ত হার এড়ানো যায়নি। তার ওপর বাংলাদেশের মিডফিল্ডার হামজা চৌধুরীর বিতর্কিত লাল কার্ডে ক্ষোভে ফুঁসেছেন দলটির প্রধান কোচ ক্রিস ওয়াইল্ডার। স্থানীয় সময় বুধবার চ্যাম্পিয়নশিপে পোর্টসমাউথের কাছে ৩-২ গোলে হারের পর রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। রায়ান কাভুমা-ম্যাককুইনের সঙ্গে ফাউলের ঘটনায় দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় হামজাকে। ওয়াইল্ডারের মতে, সিদ্ধান্তটি ছিল কঠোর। হামজা প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়কে আটকাতে গিয়ে কার্যত আর কোথাও যাওয়ার সুযোগ পাননি বলেই মনে করেন শেফিল্ড কোচ।
ম্যাচ শেষে ওয়াইল্ডার বলেন, 'হামজা কোথায় যাবে? আমি বুঝতেই পারছি না, হামজার আসলে কোথায় যাওয়ার কথা ছিল।'
কাভুমা-ম্যাককুইন হামজার পায়ের ফাঁক দিয়ে বল নিয়ে যাওয়ার পর পড়ে যান। সেই ঘটনায় রেফারি অলিভার ল্যাংফোর্ডের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ওয়াইল্ডার। তার মতে, ওই পরিস্থিতিতে হামজার পক্ষে সংস্পর্শ এড়ানোর সুযোগ খুব বেশি ছিল না। রেফারির সিদ্ধান্তে ধারাবাহিকতার অভাব নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন তিনি।
ওয়াইল্ডারের দাবি, লাল কার্ড দেখানোর আগে রেফারি নাকি প্রথমে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, হামজাকে মাঠ ছাড়তে হবে না। কিন্তু পরে সিদ্ধান্ত বদলে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখান তিনি। নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করতে গিয়ে শেফিল্ড কোচ বলেন, 'আমাকে খুব সতর্ক থাকতে হবে। কারণ, আমি হয়তো যা বলতে চাই, তা বলব না।'
শুধু হামজার লাল কার্ডই নয়, ম্যাচের শেষ দিকে পেনাল্টি বক্সের ভেতরে শেফিল্ডের এক খেলোয়াড়ের জার্সি ধরে টানার ঘটনাও ওয়াইল্ডারের ক্ষোভের কারণ হয়েছে। তার মতে, ওই ঘটনায় পেনাল্টি পাওয়া উচিত ছিল শেফিল্ডের। এ প্রসঙ্গে এক সপ্তাহ আগে কুইন্স পার্ক রেঞ্জার্সের বিপক্ষে ওয়েস্ট হ্যামের পাওয়া পেনাল্টির উদাহরণ টানেন তিনি। সেই ম্যাচের ৯৩ মিনিটে জার্সি ধরে টানার ঘটনায় ওয়েস্ট হ্যাম পেনাল্টি পেয়েছিল বলে উল্লেখ করেন ওয়াইল্ডার। তার দাবি, ওই ম্যাচে চতুর্থ রেফারিও জার্সি টানার ঘটনা ঘটেছিল বলে স্বীকার করেছিলেন। তাই এ ধরনের ঘটনায় রেফারিরা কীভাবে সিদ্ধান্ত নেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। ওয়াইল্ডার বলেন, 'ওটা ছিল এমন অনেক সিদ্ধান্তের মধ্যে মাত্র একটি, যেগুলো আমাকে অবিশ্বাস্যভাবে হতাশ করেছে।'